খুলনা | সোমবার | ১৮ জুন ২০১৮ | ৪ আষাঢ় ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ছয় দফা প্রচারে খুলনায় বঙ্গবন্ধু

কাজী মোতাহার রহমান | প্রকাশিত ১৫ অগাস্ট, ২০১৭ ০০:১৩:০০

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক চিন্তার আমূল পরিবর্তন ঘটে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বাঙালি ঘুরে দাঁড়ায়। ১৯৫৮ সালে প্রেসিডেন্ট জেঃ আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারির মধ্য দিয়ে বাঙালির কন্ঠকে স্তব্ধ করতে চায়। তখন বিরোধী দল বলতে আওয়ামীলীগ। আর এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পশ্চিম পাকিস্তানীদের বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে পূর্ব পাকিস্তানকে ফেডারেল সরকারের অঙ্গ রাজ্য হিসেবে পরিণত করতে চান। স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন। এ দাবিতে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের নিকট থাকবে দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র ব্যতিত সকল বিষয়। পৃথক অর্থনীতি, পৃথক মুদ্রা ও পৃথক প্যারামিলিটারিসহ পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন থাকবে। আর এ লক্ষেই তিনি ছয় দফা প্রণয়ন করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ফসল ছয় দফা। পূর্ব পাকিস্তানের ১৯ জেলায় ছয় দফার পক্ষে জনমত গড়ে ওঠে। ছয় দফা শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য সৃষ্টি। বাঙালির প্রাণের দাবি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরায় শেখ সাহেবের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি এবং তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতায় পরিণত হন।
১৯৬৬ সালে ৬ ফেব্র“য়ারি লাহোর সম্মেলনে ছয় দফা উপস্থাপন করা হয়। উভয় পাকিস্তানে সাড়া পড়ে। ঢাকার দৈনিক আওয়াজ পত্রিকায় ছয় দফা প্রকাশিত হয়। ছয় দফা প্রশ্নে আওয়ামী লীগের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ ছয় দফা প্রশ্নে সভাপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। খুলনায়ও তার কিছু অনুসারী ছিল। যারা ছয় দফার বিরোধিতা করেন। তার মধ্যে অন্যতম ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ঐতিহাসিক মরহুম এএফএম আব্দুল জলিল। ১৯৬৬ সালের ২০ মার্চ জাতীয় কাউন্সিলে শেখ মুজিবুর রহমানকে সভাপতি ও তাজউদ্দিন আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আব্দুল আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুদ্দিন আহমেদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
ন্যাপ এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী ও ছাত্র ইউনিয়ন ছয় দফাকে সমর্থন করেনি। ন্যাপ প্রধান ছয় দফা সিআইএ’র কারসাজি বলে চিহ্নিত করেন। তার উক্তি ছিল ছয় দফায় কোন অর্থনৈতিক কর্মসূচি নেই। সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে লাভ হবে না। খুলনা জেলা ন্যাপের সভাপতি ও অধুনালুপ্ত পৌরসভার চেয়ারম্যান এড. আব্দুল জব্বার, এমএ গফুর ও আবু মোহাম্মদ ফেরদৌস ছিলেন এই মতের অনুসারী। তারা ছয় দফার বিপক্ষে অবস্থান নেন।
১৯৬৭ সালে ১২ ডিসেম্বর খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে এক জনসভায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেঃ মোঃ আইয়ুব খান উল্লেখ করেন বিরোধী দল পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে রাষ্ট্রের ধ্বংস চায়। ছয় দফা ঘোষণার পর সরকার শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের করেন। (সিরাজউদ্দিন আহমদ রচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান)
১৯৬৬ সালের ২০ মার্চ কাউন্সিল অধিবেশনে ৬ দফা অনুমোদনের পর বিকেলে পল্টন ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাষ্ট্রদ্রোহী ভাষণ দেয়ার অভিযোগে আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ৬ দফার পক্ষে জনমত গঠনের জন্য খুলনার মিউনিসিপ্যাল পার্কে (আজকের শহিদ হাদিস পার্ক) আওয়ামীলীগের উদ্যোগে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ৬ দফার সমর্থনে পার্কের মঞ্চের সামনে ছয়টি প্রতীকী কামান তৈরি করা হয়।
৬ দফার আগে খুলনা সফর
আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক সফরে ১৯৬৬ সালে খুলনায় আসেন, ৬ দফা প্রণয়নের আগে। তাঁর ছোট ভাই শেখ আবু নাসেরের নূর নগরস্থ বাসভবনে তিনি অবস্থান করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ এই সময় নামক সাপ্তাহিকে (১৫ আগস্ট ২০১৬) স্মৃতিচারণ করে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি শেখ আব্দুল আজিজ, সালাউদ্দিন ইউসুফ, এম এ বারী, মোহাম্মদ মহসীন, শামসুর রহমান মানি, এড. মোমেন উদ্দিন আহম্মেদ, এমদাদুল হক মোল্লা, বেলায়েত হোসেন বাচ্চু, এড. মঞ্জুরুল ইমাম, ছাত্রলীগ নেতা শেখ হারুনুর রশীদ, নজরুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান জাহিদ, মনোরঞ্জন দাস, শেখ আব্দুস সালাম, শরীফ খসরুজ্জামান, মোকলেসুর রহমান, শেখ শহিদ প্রমুখ তাঁর সাথে সাক্ষাত করেন।
শেখ হারুনুর রশীদ ১৯৬৫-৬৬ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও দৌলতপুর বিএল কলেজের স্নাতক শ্রেণীর ছাত্র। তিনি তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎকালে বঙ্গবন্ধু বলেন বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষে ৬ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই ৬ দফা পরবর্তীতে ১ দফায় পরিণত হয় বলে শেখ হারুন তাঁর সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগ প্রধান ৬ দফার বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন ১৯৬৫ সালে যখন পাক ভারত যুদ্ধ হয় তখন পাকিস্তানীরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত রেখে পশ্চিম পাকিস্তানকে সুরক্ষিত করে রেখেছিল। পূর্ব বাংলায় ছিল না বিমান ও নৌ-বাহিনী। ভারত ইচ্ছে করলে সে সময় পূর্ব পাকিস্তান দখল করে নিতে পারতো। তিনি আরও বলেন, আমাদের পূর্ব বাংলা নদীমাতৃক দেশ হওয়া সত্ত্বেও এখানে নৌ-বাহিনীর সদর দপ্তর না করে পশ্চিম পাকিস্তানীরা করাচীতে করে। এজন্য আমরা সামরিক বাহিনীর আদলে প্যারামিনিশিয়ার মত প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করতে চাই।
শেখপাড়া এখন বাণিজ্য কেন্দ্র। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের একটি মহল্লা। এক সময় ছিল নজরুলনগর ইউনিয়নের মধ্যে। পাকিস্তান জামানায় শেখপাড়া এলাকায় মুসলিম লীগের সমর্থক ছিল অনেক বেশি। মুসলিম লীগের প্রার্থীরা এই এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্য ভোট পেতেন। পাকিস্তান সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী খান এ সবুরের আদি নিবাস খুলনা হওয়ার কারণে শহরের অধিকাংশ এলাকায় মুসলিম লীগের সমর্থনের পাল্লা ভারী ছিল। মুসলিম লীগের সভা সমাবেশ এবং মিছিলের আয়োজন হলে এই এলাকায় বেশি সাড়া পড়ত। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী ছিল শেখপাড়ায় হাতেগোনা কয়েকজন। ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মরহুম শেখ শহিদুল ইসলাম শেখপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তার ব্যক্তি ইমেজের কারণে ছাত্রলীগের সমর্থকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৯৬৬ সালে আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ মুুজিবুর রহমান ছয় দফা ঘোষণা করলে দুই পাকিস্তানের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মুসলীগের সমর্থকরা বুঝাতে চেষ্টা করে ছয় দফার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করতে চায়। শেখপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের সমর্থক বাড়ানোর জন্য স্থানীয় কর্মীরা দলীয় প্রধানকে এই এলাকায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান খুলনা সফরে এলে তাকে শেখপাড়ায় আনা হয়। তিনি খুলনায় এলে মাঝে মধ্যে তার বাল্য বন্ধু ডালমিল মোড় এলাকার অধিবাসী নওশের আলী চৌধুরী ওরফে নসু চৌধুরী অথবা বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসেরের নূরনগরস্থ বাসায় উঠতেন। ১৯৬৬ সালের কথা। (মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ ফজলুল হকের সাক্ষাতকার)। বঙ্গবন্ধুর আগমন উপলক্ষে শেখপাড়া মেইন রোডে মোনায়েন হোসেন জোয়ার্দ্দারের বাড়ির পিছনে একটি প্যান্ডেল করা হয়। তখনকার দিনের প্যান্ডেল আজকের মত এত আধুনিক ছিল না। রাস্তার ওপরে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি তোরণ করা হয়। মুসলিম লীগের কর্মীরা ঈর্ষান্বিত হয়ে তোরণটি সমাবেশের আগের দিন ভোরে চুরি করে নিয়ে যায়। কোথায় নিয়ে লুকানো হয় তার সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং এই চুরির সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের নামও কখনও কোনদিন প্রকাশ পায়নি। বঙ্গবন্ধুর আগমন উপলক্ষে শেখপাড়ায় সাজ সাজ রব পড়ে যায়। মুসলিম লীগের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে শেখ মুজিবের সমাবেশে না আসার জন্য এলাকাবাসীদের নানাভাবে হুমকি দেয়। এলাকার মানুষের মধ্যে কৌতুহল ছড়িয়ে পড়ে। সবাই বঙ্গবন্ধুকে এক নজর দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে নগর আওয়ামী লীগের এই নেতা উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু যখন শেখপাড়া এলাকায় আসেন তাকে এক নজর দেখার জন্য গৃহবধূরাও হুমড়ি খেয়ে পড়ে। অনেকেই প্রত্যাশার প্রহর গুণতে থাকে কখন পৌঁছাবে তাদের প্রিয় নেতা শেখ মুজিব। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীদের অনুরোধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যথারীতি শেখপাড়ায় এসে কর্মীসভায় বক্তৃতা করেন। বক্তৃতাদান কালে তিনি বলেন, শেখপাড়ার সাথে যেন তার নাড়ীর সম্পর্ক। তিনি টুঙ্গিপাড়া শেখ পরিবারের সন্তান। শেখপাড়ার কর্মী সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষ্যমের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন পূর্ব পাকিস্তানে পাট চাষ হয়, অথচ এখানকার চাষিরা ন্যায্য মূল্য পায় না। পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত বিদেশী মুদ্রাই যে শুধু পশ্চিম পাকিস্তানে খরচ হচ্ছে তাই না, আমাদের অর্জিত বিদেশী মুদ্রার জোরে যে বিপুল পরিমান বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ আসছে তাও পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হচ্ছে। এখানকার সমাবেশে ময়লাপোতা, পল্লীমঙ্গল, সোনাডাঙ্গা, শিববাড়ি এলাকায় রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা দলে দলে এসে যোগ দেয়। অধিকাংশ মানুষ পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষ্যমের বিষয়টি স্পষ্ট বুঝতে পারে। নিজেদের প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। বঙ্গবন্ধুর শেখপাড়ার সমাবেশের পর এখানে আওয়ামী লীগের সমর্থন বাড়তে থাকে। এই সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আব্দুল আজিজ ছাড়াও স্থানীয় সংগঠক শেখ মোসলেম উদ্দিন, খান মোশাররফ হোসেন ও শেখ ফজলুল হক বক্তৃতা করেন। স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল হক উল্লেখ করেন, তিনি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির শুরু থেকেই জড়িত। বঙ্গবন্ধুর খুলনা সফর সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে তিনি এখানে আসলে তার ছোট ভাই শেখ আবু নাসেরের নূরনগরস্থ বাড়িতে, আবার কখনও শ্যালক ও চাচতো ভাই শেখ মোহাম্মদ আলীর ডালমিলস্থ বাড়িতে, আবার কখনও বাল্য বন্ধু নওশের আলী চৌধুর ওরফে নসু চৌধুরীর বাড়িতে অবস্থান করতেন। তার দেয়া তথ্যমতে, পাকিস্তান জামানায় খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা হচ্ছেন, শেখ আব্দুল আজিজ, এড. মোমিন উদ্দিন আহমেদ, সালাউদ্দিন ইউসুফ, মোঃ এনায়েত আলি, হাবিবুর রহমান খান, এম এ বারী, এ এইচ দেলদার আহমেদ, এ এফ এম আব্দুল জলিল, আলী হাফেজ, এমদাদুল হক মোল্লা, বেলায়েত হোসেন বাচ্চু, শামসুর রহমান মানি, মির্জা খয়বার হোসেন, ফজলুর রহমান খান, ডাক্তার মুনসুর আলী, কুবের চন্দ্র বিশ্বাস, শ্রমিক নেতা অধ্যাপক আবু সুফিয়ান বীর উত্তম, এড. মঞ্জুরুল ইমাম, যুবনেতা শেখ আব্দুল সালাম, শেখ কামরুজ্জামান টুকু, জাহিদুর রহমান জাহিদ প্রমুখ।
খুলনায় জনসভা শেষে গ্রেফতারের চেষ্টা
১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের দেওয়া ৬ দফা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তার অধিকার আদায়ের লক্ষে সোচ্চার হতে থাকে। ৬ দফার পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ১৯ এপ্রিল খুলনায় আসেন। তিনি মিউনিসিপাল পার্কের জনসভায় ৬ দফা ব্যাখ্যা করেন। বিরোধী দল বলতে তখন আওয়ামী লীগ ও ন্যাপ। আওয়ামী লীগ প্রধান এখানকার জনসভায় পশ্চিম পাকিস্তানীদের বিশ বছরের শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি খুলনাবাসীকে ৬ দফার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। জনসভা শেষেই পুঁলিশ তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করে। পুলিশের এ উদ্যোগের আগেই তিনি খুলনা ত্যাগ করেন। যশোরে পুলিশ তাঁর গতিরোধ ও গ্রেফতার করে।
১৯৬৪ সালের ২৯ মার্চ পল্টন ময়দানে রাষ্ট্রদ্রোহী ভাষণের এবং ১৯৬৬ সালের ২০ মার্চ পল্টনে আপত্তিকর ভাষণের অভেযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আগরতলা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন (আব্দুর রউফ রচিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও আমার নাবিক জীবন) ১৯৬৬ সালের এপ্রিলে খুলনা থেকে জনসভা করে ঢাকায় ফিরতে ছিলাম, যশোর আমার পথ রোধ করে আপত্তিকর বক্তৃতা প্রদানের অভিযোগে ঢাকা থেকে পাঠানো এক গ্রেফতারী পরোয়ানা বলে এইবারের মতো প্রথম গ্রেফতার করে। যশোরের মহাকুমা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত করা হলে তিনি আমাকে অন্তর্বতীকালীন জামিন প্রদান করেন।
৬ দফার বিরোধিতা করে মুসলিম লীগ (কাউন্সিল), জামায়েতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, এনডিএফ এবং নবাবজাদা নসরুল্লাহ খান ও আব্দুস সালামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ১৯৬৬ সালের ৩০ এপ্রিল পাকিস্তান ডেমোক্রেটিভ মুভমেন্ট-পিডিএম নামে একটি ফ্রন্ট গঠন করা হয়। তার অগ্রভাগে ছিলেন আতাউর রহমান খান। ১৯৬৬ সালের ১৫ আগস্ট পিডিএম পন্থি আওয়ামীলীগ কর্মী সভা আহ্বান করে। এই অংশের সাথে ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. মমিন উদ্দিন আহমেদ। তিনি ৬ দফার বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। ১৯৬৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাইকগাছা-আশাশুনি থেকে এমপিএ নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর তিনি মোশতাক সরকারের বিদ্যুৎ ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী  এবং ১৯৮৬ সালে জাপা সরকারের শিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা মনোরঞ্জন দাস, শেখ হারুনুর রশীদ ও একেএ ফিরোজ নুন ছাত্রলীগ ত্যাগ করে বাংলা ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৯ এর পর মনোরঞ্জন দাস ও শেখ হারুনুর রশীদ মূলধারায় ফিরে আসেন।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




বিশ্বকাপ জিতবে কোন দেশ?  

বিশ্বকাপ জিতবে কোন দেশ?  

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৩৮

ইতিহাসে ফুটবল বিশ্বকাপ

ইতিহাসে ফুটবল বিশ্বকাপ

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৩৯

বিশ্বকাপের বল টেলস্টার -১৮

বিশ্বকাপের বল টেলস্টার -১৮

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৩৮








ব্রেকিং নিউজ




আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা

আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা

১৫ জুন, ২০১৮ ০১:০০








আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:৪৬