খুলনা | সোমবার | ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বাঙালির চেতনায় বঙ্গবন্ধু

আল মাহমুদ প্রিন্স | প্রকাশিত ১৫ অগাস্ট, ২০১৭ ০০:০৫:০০

স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। নিহত হন পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট। কিছু উচ্চাভিলাষী সামরিক বাহিনীর সদস্যের ক্ষমতা দখলের ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষার জন্যই কি এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছিল? এর উত্তর একটিই। আর সেটা হলো-এটা কোনো ব্যক্তি হত্যা নয়, সম্পূর্ণভাবে একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য বঙ্গবন্ধু তিলে তিলে যে রাজনীতি গড়ে তুলেছিলেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে যে রাজনীতি পরিণতি লাভ করেছিল এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যার বিজয় ঘটেছিল, সেই রাজনীতিকেই হত্যা করতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। ওই রাজনীতি যাতে আর ঘুরে দাঁড়াতে না পারে তার জন্য জেলের অভ্যন্তরে হত্যা করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধকে নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতাকে। সুতরাং ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে কোনোভাবেই ব্যক্তি হত্যা বলা যাবে না, এটা ছিল তার রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতিকে হত্যার চেষ্টা।
বঙ্গবন্ধু হত্যার ধারাবাহিকতায় এদেশের মানুষ সেই রাজনীতিকেই দেখতে পায় বাংলাদেশের রাজনীতির দ্রুত পটপরিবর্তনের ঘটনায়। ওই ষড়যন্ত্রমূলক অভ্যুত্থানের ঘোষণা দিতে গিয়ে হত্যাকারীরা বাংলাদেশ বেতারের নাম পাল্টে রেডিও বাংলাদেশ বলে উল্লেখ করে। তাদের বিভিন্ন ঘোষণার ফাঁকে ফাঁকে হিন্দি-উর্দু গান প্রচার করে। বস্তুত, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর উপর্যুপরি সামরিক শাসকরা যে রাজনীতি অনুসরণ করে তাতে বাংলাদেশকে একটি ধর্মবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচিত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
এই অতীতকে স্মরণ করা হল এ কারণে যে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতির বিপরীতে যে রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হয় সেটাই তাকে হত্যার মূল কারণ ছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছিল তা পরিচিতি লাভ করে ‘মডারেট মুসলিম রাষ্ট্র’ হিসেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশসমূহ বাংলাদেশকে সেই অভিধায় আখ্যায়িত করতে শুরু করে। অন্যদিকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের হত্যা-ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতিও একইভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুখ্য ভূমিকায় উঠে আসে। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯টি ক্যু, জেলখানার অভ্যন্তরে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্যের ফাঁসি, সামরিক বাহিনী থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বের করে দেয়া এসবই ছিল ১৫ আগস্ট-পরবর্তী দেড় দশক জুড়ে সামরিক স্বৈরাচারী শাসনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
কিন্তু এই লেখার শুরুতে যে কথা বলেছিলাম অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে যে রাজনীতির উত্থান ঘটেছিল তার মাঝেই এর কার্যকরণ সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যাবে। আরও পিছিয়ে গিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী যুদ্ধাপরাধের রাজনীতির মধ্যেই এর প্রকৃত কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এ দেশে ধর্মবাদী রাজনীতির পুনর্বাসন ও পুনরুত্থান ঘটেছে। তাই আজ বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে এ ধরনের জঙ্গিবাদের জন্ম দিয়েছে, তার বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি এবং তার সংগঠক (‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো’) দিয়েই যুদ্ধাপরাধ ও জঙ্গিবাদের রাজনীতিকে সামগ্রিকভাবে পরাজিত করতে হবে। সেটাই হবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধার্ঘ্য।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ