খুলনা | সোমবার | ২১ মে ২০১৮ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বঙ্গবন্ধু কেন জাতির পিতা

মোঃ আসগর আলী | প্রকাশিত ১৫ অগাস্ট, ২০১৭ ০০:০৪:০০

আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে শোকাবহ ও বেদনার দিন। ‘৭৫-এর এ দিনে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিছু পথভ্রষ্ট জুনিয়র সামরিক অফিসার কর্তৃক সপরিবারে শাহাদাৎবরণ করেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। সমকালীন বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড।
বেশ কয়েক বছর আগে বাংলা সাহিত্যের বিদগ্ধ পন্ডিত প্রয়াত ড. মুহম্মদ এনামুল হক বঙ্গবন্ধুকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বলে অভিহিত করেন। তা ছাড়া প্রবীণ কথা সাহিত্যিক শওকত ওসমান বলেন, ‘বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে মুসলমান সমাজে দু’জন প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটে। কাজী নজরুল ইসলাম ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’ মুজিব লুপ্ত স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বাঙালি জাতিকে সাহসী মানুষ হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করিয়েছেন।
মুজিব বাংলার শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করতে বাংলার জনগোষ্ঠীকে স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। মুজিবের রাজনৈতিক জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে শোষণের হাত থেকে রক্ষাকল্পে বাংলার গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। পাকিস্তানের দুঃশাসনের হাত থেকে বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাকে অনেক দুঃখ-কষ্ট, জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। এ জন্য তাকে যৌবনের অধিকাংশ সময় কাটাতে হয়েছে অন্ধ কারাপ্রকোষ্টে। আমরা যদি যুগ যুগ ধরে একটি লালিত স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা ভাবী তাহলে ইতিহাসের আলোকে মুজিবকে সে রাষ্ট্র গঠনের নায়ক হিসেবে সম্মান দিতে হবে। কারণ তিনিই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। আমাদের বাঙালি জাতির পিতা।
এখানে জাতি বলতে আমরা জাতিরাষ্ট্রকে বোঝাতে চাই। আমরা জানি একজন মানুষ বা নেতা যত বড় মাপেরই হোন না কেন একটি জাতির জন্ম দিতে পারেন না। কারণ একটি জাতির উন্মেষ, বিকাশ এক দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। কিন্তু সে জাতিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রীয় পরিমন্ডলে রূপায়ণের জন্য যে নেতা সর্বপ্রধান ভূমিকা পালন করেন তিনি জাতির পিতা। অর্থাৎ জাতির পিতা কোনো জাতির জন্ম দেন না। কিন্তু সে জাতির নিজস্ব আবাসভূমি হিসেবে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দেন। এ একই সূত্রে মহাত্মা গান্ধী, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লেনিন, ফিদেল ক্যাস্ট্রো, কামাল আতাতুর্ক তাদের স্ব-স্ব দেশের জাতির পিতা। একই ধারায় বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।
কিন্তু মুজিবকে জাতির পিতা হিসেবে মানতে বা স্বীকার করতে চান না এমন কিছু মানুষ আমাদের দেশে আছেন। তারা পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক বিতর্ক ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। ইতিহাস থেকে তার নাম মুছে ফেলার কম চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস থেকে ষড়যন্ত্রকারীরা তার নাম মুছে ফেলতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর সমগ্র রাজনৈতিক জীবনের সাফল্যকে কালো মেঘে ঢেকে দিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি স্থপতি না জনক এ বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন একদল পন্ডিত, বুদ্ধিজীবী। তিনি স্থপতি, পিতা নন। অথচ এ দু’টি শব্দের মধ্যে মৌলিক কোনো তফাত নেই। যিনি নির্মাণ করেন তিনি নির্মাতা বা পিতা। যেমন আগ্রার তাজমহল নির্মাণ করেছেন সম্রাট শাহজাহান। তিনি আগ্রা তাজমহলের জনক। আবার যিনি জন্ম দেন তিনিই জনক। আমরা যদি আধুনিক রাষ্ট্রের সংজ্ঞা মেনে নিই তাহলে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির পিতা। পাকিস্তান আমলে আমাদের পরিচয় ছিল পাকিস্তানী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাজার বছরের জাতিসত্তার পরিচয় তুলে ধরেছিলেন সেই পাকিস্তান আমলেই। তিনি পল্টনের এক জনসভায় বলেন, ‘আজ থেকে এ ভূ-খন্ডের নাম বাংলাদেশ। আমাদের পরিচয় আমরা বাঙালি।’ মুজিবের এ ভাষণে তৎকালীণ সাড়ে সাত কোটি মানুষ ফিরে পেয়েছিল তাদের আত্মপরিচয়। কিন্তু আজ যারা বিতর্ক সৃষ্টি করেন এরা সেই মানুষ যারা লিঙ্কনের হত্যার পর তার রক্ত গায়ে-পোশাকে মেখে বলেছিলেন, ‘আমেরিকার দাসদের দাস নিপাত গেছে’। গান্ধীর হত্যাকান্ডে উল্লাসিত হয়ে বোম্বাইয়ের রাস্তায় মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন তার বিরোধীরা। মুজিবের সমগ্র সংগ্রামী জীবন ও কর্ম বিশ্লেষণ করলে বাঙালি জাতির পিতা হিসেবে ইতিহাসের পাতায় তার নামই আসবে অন্য কারো নয়। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৭১ পর্যন্ত এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাঙালির প্রেরণাশক্তি ছিলেন বঙ্গবন্ধুই। ৭ মার্চের ভাষণে মুজিব স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা দেন এবং ২৫ মার্চ মধ্যরাতে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ দীর্ঘ নয় মাস চলে। এ সময় মুজিব পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। তথাপি এ দেশের মুক্তিপাগল জনতা শুধু মুজিবের নাম বুকে ধারণ করে মুক্তিসংগ্রাম চালিয়ে যায়। ১৭ এপ্রিল যে অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয় তার নাম রাখা ‘মুজিবনগর’। অন্য নাম কারো মাথায় আসেনি। এ দু’টি ঘটনা মুজিবের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বড় সাফল্য।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই জাতির পিতা। নতুন প্রজন্মকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না। বর্তমান সরকার পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরেছে। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যার কয়েকজনের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে এবং বাকিদেরও বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
কারণ তারা ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুর পরিবারকেই হত্যা করেনি, হত্যা করেছে পুরো জাতিকে। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের অবশ্যই রায় কার্যকর করে কলঙ্কজনক অধ্যায় থেকে বাংলাদেশকে মুক্তি দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু আজীবন কোটিপ্রাণ বাঙালি হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। আজ বঙ্গবন্ধু’র  শাহাদাৎবার্ষিকীতে তার সুমহান আদর্শ ও মহিমান্বিত স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বাঙলার বৈশাখ : বাঙালির বৈশাখ

বাঙলার বৈশাখ : বাঙালির বৈশাখ

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৪৯

বর্ষবরণ-১৪২৫

বর্ষবরণ-১৪২৫

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৫২

বাংলা পঞ্জিকা ও বাংলার আবহাওয়া

বাংলা পঞ্জিকা ও বাংলার আবহাওয়া

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৫০






বৈশাখে দেশী মজাদার খাবার

বৈশাখে দেশী মজাদার খাবার

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৪৫

নতুনের আহ্বান

নতুনের আহ্বান

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৪৫

বোশেখ 

বোশেখ 

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৪৫

বৈশাখের আমেজ

বৈশাখের আমেজ

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৪৪


ব্রেকিং নিউজ



যে কারণে রোজা নষ্ট হয় 

যে কারণে রোজা নষ্ট হয় 

২১ মে, ২০১৮ ০০:৫৯

যে কারণে রোজা নষ্ট হয় 

যে কারণে রোজা নষ্ট হয় 

২১ মে, ২০১৮ ০০:৫৯