খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ অগাস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

খুলনায় রাজনীতিকদের ছত্রছায়ায় মাদকের জমজমাট বিকিকিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১১ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:১০:০০

খুলনায় রাজনীতিকদের ছত্রছায়ায় মাদকের জমজমাট বিকিকিনি। প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে থাকায় চিহ্নিত এসব মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছু হটছে প্রশাসনও। মাদক বিক্রেতাদের দলীয় কমিটিতে না রাখার হুঁশিয়ারি, প্রশাসনকে কঠোর হতে নির্দেশনা ও সর্বশেষ খুলনায় আ’লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় মাদককে ‘না’ বলুন শপথের পরও বন্ধ হচ্ছে না। বরং দলের নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের নীল ছোবল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, খুলনার ফুলতলা বাজারে অভিযান চালিয়ে গত ১৮ জুন দিবাগত রাতে একশ’ পিস ইয়াবা ও ১৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ উপজেলার সদর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মোল্লা হেদায়েত হোসেন লিটু (৪৫) কে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফুলতলার তাজপুর গ্রামের মৃত আঃ সামাদ মোল্লার ছেলে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা লিটুর মুক্তির দাবিতে তার সমর্থকরা থানা ঘেরাও করার চেষ্টাও করেছিল। জামিনে মুক্ত হয়ে পূর্বের পেশায় ফিরে গেছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে, গত বছর ১২ ডিসেম্বর ৫০ পিস ইয়াবাসহ সাতক্ষীরার সম্রাট প্লাজার আবাসিক হোটেলের সামনে থেকে খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশির ইউপি সদস্য ও ১নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। একই সাথে আটক হওয়া খুলনার একজন সাংস্কৃতিক কর্মী (নৃত্য শিল্পী) মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ছাড়া পান। সম্প্রতি ওই সাংস্কৃতিক কর্মীর সাথে গভীর রাতে নগরীতে দেখা যায় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলামকে।
এছাড়া ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর দাকোপ উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি কৃষ্ণপদ মণ্ডল (৩৭), আ’লীগ কর্মী (সুতারখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী) তাপস জোয়াদ্দার (৩৬) ও শ্যামল কুমার ঘোষকে (৫০) তক্ষক সাপ ও ছয় বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল।
তার আগে, একই বছরের ২০ জুন পাইকগাছার কপিলমুনিতে ১০ বোতল ফেন্সিডিলসহ কপিলমুনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শুভংকর রায় (৩২) কে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব-৬। তার সাথে থাকা আরো দু’সহযোগী পালিয়ে যায়। র‌্যাবের একজন সদস্য ক্রেতা ছদ্মবেশে ৩০০ বোতল ফেন্সিডিল দেড় লাখ টাকায় ক্রয়ের জন্য তার সাথে চুক্তির ফাঁদ পেতেছিল। রূপসা চিংড়ি বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় কৃষক লীগ নেতা শেখ আব্দুল মান্নান (৪০) এবং দাকোপ উপজেলার খাদুড়ী গ্রামের বিমল কৃষ্ণ দাসের পুত্র ব্যবসায়ী সত্যব্রত দাস (৩৫) কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) শিকদার আক্কাস আলী মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, “জেলায় শতাধিক মাদক বিক্রেতা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় রয়েছে। আর মাদক বিক্রেতারা নিজেরাও অর্থের জোরে প্রভাবশালী। তাই অনেক ক্ষেত্রে পিছু হটতেও হয়।”
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ফুলতলার খালেক শেখের ছেলে জাকির হোসেন, নজির মোড়লের ছেলে শাহ মোড়ল, মৃত হাসান আলীর ছেলে রশিদ সরদার, মৃত শহিদ আলীর ছেলে ওয়াহিদ, মঞ্জু বিশ্বাসের স্ত্রী মর্জিনা, মতলেব ভূঁইয়ার ছেলে লিটনসহ কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। রূপসার সেনের বাজারের মোশাররফ হোসেন মুসা, আলতাফ শেখের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা, মৃত নজুর স্ত্রী রোজী, হোসেন কানা পেশাদার মাদক বিক্রেতা। দিঘলিয়ার জাফর শেখের ছেলে জামির হোসেন, মৃত মকবুল বিশ্বাসের ছেলে আকরাম, মোনতাজ সরদারের ছেলে মনির সরদার, ডুমুরিয়ার গফ্ফার, লুৎফর, মকবুল, পঞ্চানন কুন্ডু, আঃ হান্নান মোল্লা, দাকোপের মাদক সম্রাজ্ঞী খ্যাত আসমা ও রুমা; পাইকগাছায় পরেশ নন্দন, তপন প্রামানিক, হাকীম মজলিশ, আসমা, অর্চনা ও অচিন্ত, কপিলমুনি বাজারের অর্জুন বিশ্বাস, অমর সাধু ও সালাম গাজী, কয়রার আমাদীর কাশেম শেখের স্ত্রী শারো বেগম, অপু পাল ও হাজেরা বেগম, মিলন গাজী ও খালেক গাজীসহ কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যমতে, খুলনা জেলায় দেড়শ’ পেশাদার মাদক বিক্রেতা রয়েছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। আর ডিএসবি’র তথ্যমতে, জেলায় মাদক বিক্রেতার সংখ্যা দুই শতাধিক।
এদিকে খুলনা মহানগরীতেও দুই শতাধিক পাইকারী মাদক বিক্রেতা রয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। নগরীর মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণেও উঠে এসেছে ক্ষমতাসীনদের নাম ।
কেএমপি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) এস এম কামরুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। প্রতিদিন মাদকসহ বিক্রেতাদের আটক হচ্ছে। মহিলারা বেশি। মনে রাখতে হবে মাদক বিক্রেতা বা মাদকসেবীদের কোন নীতি নেই; তাই রাজনীতির আশ্রয় তাদের দেয়া উচিত নয়।
খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, জনবল সঙ্কটের মধ্যদিয়েই বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছেন তারা। বিক্রেতারা গ্রেফতারও করছে। তবে জনবল ও যানবাহনের সংকট দূর হলে মাদক নির্মূলে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫৭