খুলনা | শুক্রবার | ২৪ নভেম্বর ২০১৭ | ১০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

জেলা প্রশাসনের অভিযানে এএম কমিউনিকেশনকে জরিমানা

খুলনায় ভারতীয় সেটআপ বক্স ব্যবহারে অভিযোগ : অবৈধভাবে বিদেশী পে-চ্যানেল প্রচারের রমরমা ব্যবসা

সুমন আহমেদ | প্রকাশিত ১৪ জুলাই, ২০১৭ ০২:১০:০০

দীর্ঘদিন ধরে খুলনা মহানগরীতে কয়েকটি চক্র অবৈধভাবে ভারতীয় সেটআপ বক্স ব্যবহার করে বিদেশী পে-চ্যানেল প্রচার ও লাইসেন্স বিহীন ব্যবসা করে আসছে। এজন্য অবৈধভাবে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে তারা। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। তেমনি আবার ভারতে হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল অর্থও পাচার হচ্ছে। আছে স্থানীয় কেবল ব্যবসায়ীদের মধ্যে হানাহানির শঙ্কাও। এমন অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর ১৪নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এএম কমিউনিকেশনের পরিচালক সাবেক কাউন্সিলর মফিজুর রহমান পলাশকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, খুলনাঞ্চলে প্রায় ৪শ’ বৈধ কেবল ব্যবসায়ী রয়েছে। এই কেবল টিভি অপারেটর ব্যবসায়ীরা বিটিভি হতে লাইসেন্স নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করে আসছেন। তাদের অধীনে আবার অঞ্চল ভেদে ফিড অপারেটর রয়েছে। নিজেদের মধ্যে অনাকাঙ্খিত হানাহানি এড়াতে সীমানা নির্ধারণের সাথে খুলনা কেবল অপারেটরস্ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন গঠন হয়েছে। সঙ্গত কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে হানাহানি, মারামারি এমনকি হত্যার ঘটনা ঘটলেও খুলনায় কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে নগরীতে সম্প্রতি কেবল অপারেটর নামধারী সরকারের অবৈধ ঘোষিত অনুমোদনহীন সেটআপ বক্স, ডিটিএইচ, টাটা স্কাই, ডিস টিভি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় ভারতীয় পে-চ্যানেলগুলো পাইরেসি/ডাউনলিংক করছেন। এরপর আবার তারা নগরীর সোনাডাঙ্গার হাসানবাগ, বয়রা, রায়েরমহল, বাস্তহারা, মুজগুন্নী আবাসিক এলাকা, নতুন বাজার বাঁশপট্টিসহ বেশকিছু স্থানে গ্রাহক পর্যায়ে তা প্রদর্শন করছে। শুধু তাই নয়। ব্যবসায়ীক স্বার্থ হাসিলে তারা পেশীশক্তি মাধ্যমে বৈধভাবে ব্যবসারত কেবল ব্যবসায়ীদের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করছেন।
উল্লেখিত বিষয়ে নগরীর অর্ধশত কেবল ব্যবসায়ী জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগে তারা বলেন, সোনাডাঙ্গার ১নং বয়রা ক্রস রোডস্থ এএম কমিউনিকেশনের মালিক এস এম আইয়ূব আলী আইন বহির্ভূতভাবে ঠিকানা বদল করেছেন এবং ১৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ মফিজুর রহমান পলাশের পৃষ্ঠপোষকতায় তার নিজস্ব বাসভবনে কন্ট্রোল রুম বসিয়ে ছবি প্রদর্শন করছে। একই ভাবে আরও কিছু ব্যক্তি নগরীতে অবৈধভাবে পে-চ্যানেলগুলো গ্রাহক পর্যায়ে প্রদর্শন করছে। শুধু তাই নয়। একই সাথে তারা সরকারের রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বিপুল অর্থ পাচার করছেন।
সূত্রটি জানায় এ প্রচারনা কেবল টিভি আইনের (২০০৬ সালের কেবল টিভি গেজেটের ৪ এর ৪ ধারা) পরিপন্থি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের কন্ট্রোলার কর্তৃক সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্র“য়ারি ইস্যু করা প্রজ্ঞাপনে (নং-টিভি-লাইসেন্স/প্রশাসন-২১৫/১২৩১) এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। এর আগে ১৪ ফেব্র“য়ারি একই নির্দেশনা দিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। আবেদনে ব্যবসায়িরা আর্জি তোলেন, সুষ্ঠুভাবে ক্যাবল ব্যবসার স্বার্থে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে প্রদর্শন বন্ধ করা হোক।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আউয়াল নগরীর রায়ের মহলের পলাশের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তিনি অবৈধ ৪টি সেটআপ বক্স জব্দ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স করার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অন্যথায় সকল যন্ত্রপাতি জব্দ করা হবে বলেও জানান তিনি। বিকেল ৫টা হতে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। এভাবে অন্যান্য সকল কেবল অফিসে অভিযান চলবে বলে ম্যাজিস্ট্রেট জানান। প্রতিষ্ঠানটি দেশী-বিদেশী ৯০টি চ্যানেল সম্প্রচার করছিল। বলা বাহুল্য, চ্যানেল প্রতি কেবল অপারেটররা ৪/৫ হাজার মাসে পরিশোধ করেন। তবে মফিজুর রহমান পলাশ দাবি করেন, তার সকল কাগজপত্র বৈধ আছে। একটি মহল তাকে হয়রানির চেষ্টা করছে।

 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


গুম নতুন কিছু নয়

গুম নতুন কিছু নয়

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০১:২২


সমঝোতা স্মারক সই

সমঝোতা স্মারক সই

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০১:২০





বিদ্যুতের দাম ফের বাড়ল

বিদ্যুতের দাম ফের বাড়ল

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০১:১৩


সারচার্জ আরোপ ও আদায় চলবে

সারচার্জ আরোপ ও আদায় চলবে

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১৪:১৭



ব্রেকিং নিউজ