খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

আঞ্চলিক দৈনিক প্রকাশনার নেপথ্যের কারিগর আনোয়ার আহমেদ

কাজী মোতাহার রহমান | প্রকাশিত ১২ জুলাই, ২০১৭ ০০:৩০:০০

সংবাদ সম্মেলন, জনসভা, মানববন্ধন অথবা সেমিনারের কখনই স্বশরীরে উপস্থিতি পাওয়া যায়নি আনোয়ার আহমেদকে। আম জনতার সাথে তার সম্পর্ক ছিল না বললেই চলে। অথচ তিন যুগেরও অধিক সময় ধরে সংবাদপত্রসেবী হিসেবে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। সংবাদপত্রকে জনপ্রিয় করার জন্য ত্যাগ, শ্রম ও মেধা নিয়োগ করেছেন বছরের পর বছর। ১৯৭৫ থেকে আমৃত্যু কর্মজীবী সাংবাদিক হিসেবে আত্মনিয়োগ করেছেন। প্রচার বিমুখ এই মানুষটির সাথে আম জনতার সম্পর্ক ছিল না। কখনও কোন অনুষ্ঠানে কলম ও রিপোটিং বুক হাতে তাকে দেখা যায়নি। কাজ করেছেন নেপথ্যে থেকে।
সংবাদ, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয়, সম্পাদনার ক্ষেত্রে তার জুড়ি ছিল না। চমৎকারভাবে উপস্থাপনা করতেন। শব্দ চয়ন ছিল প্রশংসনীয়। বাংলার ভাষার প্রতি দখল ছিল। স্বল্প কথায় মর্মার্থ বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতেন। ঢাউস লেখার পক্ষপাতি ছিলেন না। বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়। নিজেকে উপস্থাপনা কখন করতে চাননি। নিজের মেধা দিয়ে অপরের লেখাকে সৃজনশীল করার চেষ্টা করেছেন। কর্ম কৌশল দিয়ে শিক্ষানবীশ সাংবাদিকদের লেখনী সমৃদ্ধ করেছেন। সংবাদপত্রের সাথে সাথে বেতারে কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়। বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের দৃষ্টিপাত অনুষ্ঠান গ্রন্থনা করতেন। এখানেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তবুও তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি। নিজের মেধাগুণে বহাল থেকেছেন সর্বত্রে। সাংবাদিকদের রুটি রুজির আন্দোলনে ব্যয় করেছেন দীর্ঘ সময়। পেশাজীবী সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিক ইউনিয়নকে সমৃদ্ধ করতে সাহসী ভূমিকা নিয়েছেন। কর্মজীবন শুরু সাপ্তাহিক কালান্তর থেকে। তারপর দৈনিক জনবার্তা, গণদেশ, অনির্বাণ সর্বশেষ জন্মভূমিতে। একই পদ বার্তা সম্পাদক হিসেবে। এ দায়িত্বটি মূলতঃ দিক নির্দেশনা দেয়া। একটি দৈনিককে ছবি ও প্রতিবেদন দিয়ে সাজানোই আঞ্চলিক দৈনিকের বার্তা সম্পাদকের মূল কাজ। ফলে বিপুল পাঠকের সাথে বার্তা সম্পাদকদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। দিনের পর দিন নেপথ্যে থেকে বার্তা সম্পাদকরা পত্রিকাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তেমনি একটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি আনোয়ার আহমেদ। দীর্ঘ সময় কেটেছে সংবাদপত্র জগতে। গতকাল সকালে রাজধানীর একটি ক্লিনিকে ইন্তেকাল করেছেন। সহকর্মীরা তার চির বিদায়ে মর্মাহত হয়েছে। অনেকেই স্মৃতি হারিয়ে তার কর্মময় জীবন, কর্মজীবী সাংবাদিকদের আন্দোলনে ভূমিকা, বেতার ব্যক্তিত্ব ও সাহিত্য চর্চায় অবদানের বিষয়টি কার্পন্য না করেই তুলে ধরেছেন। একজন দক্ষ বার্তা সম্পাদকের শূন্যতার সৃষ্টি হলো। এই কর্মজীবী সাংবাদিকের অবদানের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রকে জনপ্রিয় করা এবং সৃজনশীল সাংবাদিক গড়ে তোলা তিনি আমৃত্যু মেধা নিয়োগ করেছেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে খুলনা ট্রেড ইউনিয়নকে শক্তিশালী করতে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তার চির বিদায়ের পর গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি সৃজনশীল কর্মকে।

 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০






পুলিশ মেমোরিয়াল ডে

পুলিশ মেমোরিয়াল ডে

০২ মার্চ, ২০১৭ ০০:৩৪


বৃক্ষ মানুষের পরম বন্ধু প্রকাশ

বৃক্ষ মানুষের পরম বন্ধু প্রকাশ

৩১ জানুয়ারী, ২০১৭ ০০:৫৯

খুলনার সংবাদপত্রের সেকাল-একাল

খুলনার সংবাদপত্রের সেকাল-একাল

৩১ জানুয়ারী, ২০১৭ ০০:৫৮


বঙ্গবন্ধু সেদিন যদি না ফিরতেন

বঙ্গবন্ধু সেদিন যদি না ফিরতেন

১০ জানুয়ারী, ২০১৭ ১২:৫৪


ব্রেকিং নিউজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:৪৫