খুলনা | সোমবার | ১৮ জুন ২০১৮ | ৪ আষাঢ় ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

দৌলতপুর বিএল কলেজে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী মোতাহার রহমান | প্রকাশিত ২৫ মে, ২০১৭ ০০:২৮:০০

ভারত জুড়ে বৃটিশ বিরোধী বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন (১৭৫৭-১৯৪৭)। কংগ্রেস, ফরোয়ার্ড ব্লক, স্বরাজপার্টি, মুসলিম লীগ ও কমিউনিস্ট পার্টি এ আন্দোলনের পুরোভাগে। বৃটিশ ১৯০৫ সালে বাংলাকে দু’ভাগে বিভক্ত অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে। বাঙালির তীব্র আন্দোলনের মুখে চার বছর পর বৃটিশ তার পূর্ব সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যায়। বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। বৃটিশের বিরুদ্ধে বাঙালির আর এক দফা বিজয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলাম খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯২২ সালে কাজী নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা ভারত জুড়ে সাড়া জাগায়।  একই বছর তার সম্পাদিত অর্ধ সাপ্তাহিক ধুমকেতু স্বাধীনতা সংগ্রামের নীরব সংগঠকের ভুমিকা পালন করে।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন খুলনার ছাত্র, সাংবাদিক ও আইনজীবীরা প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহন করে। তাদের মধ্যে দিঘলিয়ার সেনহাটির ত্রিগুণাচারণ সেন, অতুল চন্দ্র সেন, অনুজাচরণ সেন, রতিকান্ত দত্ত, রবীন সেন, ডাঃ রনশ ব্যানার্জী, দ্বিরাজ ভট্টাচার্য, কালিপ্রসন্ন দাশ গুপ্ত, রসিক লাল রায়, প্রফুল্ল চন্দ্র সেন, এ্যাডভোকেট ননী গোপাল রায়, জ্ঞানদত্ত চৌধুরী, কামিনী রঞ্জন মিত্র, খোন্দকার উকিল উদ্দিন, মোস্তা গাউসুল হক, জালাল উদ্দীন হাশেমী, আব্দুস সবুর খান, আবুল হাকীম, গোবিন্দ লাল ব্যানার্জী, মুকুন্দ বিহারী মল্লিক, হরিপদ দাস, অতুল সেন, স্বদেশ বসু, ননী গোপাল রায়, বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, সুরেন্দ্র নাথ কুশারী, ডা: আবুল কাশেম, সুকুমার মিত্র, কালীপদ সরকার, দ্বিজরাজ ভট্টাচার্য, ডুমুরিয়ার শহীদ বিপ্লবী চারু চন্দ্র বসুর নাম উল্লেখযোগ্য। (প্রফেসর বি করিম রচিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য খুলনার দৌলতপুর)। এদের অনেকেই বিদ্রোহী কবির অনুসারী।
দৌলতপুরের সন্তান ডাঃ  আবুল কাশেমের সঙ্গে - বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে। কলকাতায় ডাক্তারী শাস্ত্রে লেখাপড়া করতেন। তিনি কবিকে খুলনায় আসার প্রস্তাব দেন (ডঃ সৈকত আসগর রচিত খুলনা কবি কাজী নজরুল ইসলাম নামক প্রবন্ধ)। ১৯২৬ সালে কবির দ্বিতীয়পুত্র কাজী বুলবুল বসন্তরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পুত্র শোকে কবি পতœী পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। কবি এ সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তবুও ডাঃ আবুল কাশেমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ১৯২৬ সালে কবি খুলনায় আসেন। তিনি ভারতের কৃষ্ণনগর থেকে ট্রেনে যশোরে এসেছিলেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর ট্রেনে খুলনার দৌলতপুর স্টেশনে পৌঁছান।
যশোরে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর ট্রেনে খুলনা অভিমুখে যাত্রা করেন। তিনি দৌলতপুর রেল স্টেশনে এসে নামেন। ১৯৬২ সালে বিদ্রোহী কবির জন্ম জয়ন্তীর এক অনুষ্ঠানে মরহুম ডাঃ আবুল কাশেম উল্লেখ করেন “কাজী দা খুলনা এসে আমার বাসভবনে ওঠেন। তিনি ঢাকা বা ফরিদপুর এলে কবি জসীম উদ্দিন ও কবি বন্দে আলী মিয়া তার সফরসঙ্গী হতেন।
১৯২৬ সালে বিএল কলেজের নাম ছিল দৌলতপুর হিন্দু একাডেমী। এই বছরে বিদ্রোহী কবিকে হিন্দু একাডেমীতে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সময় বঙ্কু বিহারী ভট্টাচার্য কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুলের জন্ম শতবার্ষিকীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ মোঃ মাজহারুল হান্নানের সম্পাদনায় স্মরণিকায় (মে ১৯৯৯) সাহিত্যিক ও সাংবাদিক অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা সিন্দাইনী খুলনা জেলায় কবি নজরুল ইসলাম নামক প্রবন্ধে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ডঃ সৈকত আসগর রচিত খুলনায় কবি নজরুল ইসলাম নামক প্রবন্ধ শেখ আখতার হোসেন রচিত সাহিত্যিক ডাঃ আবুল কাশেম ও কাজী আব্দুল খালেক সম্পাদিত ধুমকেতু নামক প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে দৌলতপুর হিন্দু একাডেমীতে কবির আগমন ঘটে। কাজী নজরুল ইসলাম তার সুহৃদ মুরলীধর বসু, খান মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন এবং ব্রজ বিহারী বর্মণকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেন “খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, দৌলতপুর ও বনগ্রাম প্রভৃতি ঘুরে এলাম আজ”। “আমি যশোর, খুলনা ঘুরে আজ ফিরছি”। “আমি আজ সকালে ফিরে এলাম যশোর, খুলনা, বাগেরহাট ও দৌলতপুর ঘুরে। পত্রগুলো লেখা ১৯২৬ সালের ৯ অক্টোবর তারিখে।  

 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



সমাজ ও গ্রন্থাগার

সমাজ ও গ্রন্থাগার

০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:০০


জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ

জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ

১০ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:২৩

এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০






পুলিশ মেমোরিয়াল ডে

পুলিশ মেমোরিয়াল ডে

০২ মার্চ, ২০১৭ ০০:৩৪


ব্রেকিং নিউজ




আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা

আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা

১৫ জুন, ২০১৮ ০১:০০








আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:৪৬