খুলনা | শুক্রবার | ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

পদ্মা সেতুর সাথে সরাসরি রেল সংযোগের বাইরেই থাকছে খুলনা!

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ০৫ মে, ২০১৭ ০২:২০:০০

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সাথে বিভাগীয় শহর খুলনার সরাসরি রেল সংযোগ হচ্ছে না! ফলে খুলনা অঞ্চলের শিল্প বিপ্লব, রাজধানীর সাথে সহজ ও সুলভ যোগাযোগে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত এবং সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা ভেস্তে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পদ্মা সেতুর নকশা অনুযায়ী সেতুর নিচের অংশে রেল এবং উপরের অংশে চলবে অন্য যানবাহন। ফলে একই সময়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকেও রেল সংযোগের আওতায় আনা হবে। যেখানে রাজধানীর কমলাপুর থেকে ছাড়া ট্রেন গেন্ডারিয়া হয়ে ৩৭ কিলোমিটার দূরের মুন্সিগঞ্জের মাওয়া যাবে। সেখান থেকে মূল পদ্মা সেতু দিয়ে যাবে অন্যপ্রান্ত জাজিরায়। আর জাজিরা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার এবং পরে ভাঙ্গা থেকে নড়াইল হয়ে যশোর পর্যন্ত ৮৭ কিলোমিটার রেল সংযোগ দেয়া হবে। তাহলে পদ্মা সেতুর সাথে সরাসরি রেল সংযোগের বাইরেই থেকে যাবে বিভাগীয় শহর খুলনা। রাজধানীতে যেতে হলে খুলনাবাসীকে যশোর হয়ে যেতে হবে। আর মংলা বন্দরের পণ্য বা মালামাল খুলনা হয়ে যশোর ঘুরে যেতে হবে ঢাকায়। এতে বাড়বে সময় ও যাতায়াত ব্যয়।
এসব বিষয়ে জানতে গতকাল বৃহস্পতিবার রেল মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করে অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা জানান, স্পর্শকাতর প্রকল্প তাই ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজাল) পরিবর্তন করা কঠিন। কোনভাবে ডিপিপি পরিবর্তন করতে চাইলে দু’দেশের মধ্যে পুনরায় আলোচনা হতে হবে।
সূত্রটি জানায়, কমলাপুর থেকে গেন্ডারিয়া স্টেশন পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রেল লাইনে হবে প্রথম কাজ। পুরো কাজের জন্য গত বছরের ৮ আগস্ট চীনের সরকারি কোম্পানি চায়না রেলওয়ে গ্র“প লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষর হয়েছে চুক্তি। প্রকল্পের বাজেট প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার আর বাকী ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে চীন। ঋণচুক্তি এখনো হয়নি, তাই শুরু করা যাচ্ছে না কাজ। ফলে সেতু উদ্বোধনের দিনই পুরো রেল লাইন চালুর পরিকল্পনায়ও আনতে হচ্ছে পরিবর্তন।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, কাগজে-কলমে প্রকল্প শুরু ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। তবে চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তি না হওয়ায় এখনো শুরু করা যায়নি পদ্মা বহুমুখী সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ। চলতি মাসেই দু’দেশের মধ্যে এ চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের সূত্র। তবে সেতু উদ্বোধনের দিনই রেল চলাচল শুরু করার যে পরিকল্পনা ছিলো, যথাসময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় তা এখন অনেকটাই কঠিন হবে। রয়েছে নানা প্রাকৃতিক ও কারিগরি জটিলতা। তবু নদীতে চলছে পদ্মা সেতুর কাজ। ২০১৫ সালের শেষের দিকে শুরু, আর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা।
রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, “আশা করি, মে মাসেই চুক্তিটা আমরা করতে পারবো। যে লক্ষ্য আমরা নির্ধারণ করেছি এর মধ্যেই এই প্রকল্পটি আংশিক অর্থাৎ ভাঙ্গা থেকে পদ্ম সেতুর এপার পর্যন্ত আমরা যদি শেষ করতে পারি তাহলেও অন্তত পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে।”
পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “তাদের (রেল মন্ত্রণালয়ের) টার্গেট ছিলো আমাদের সাথেই শুরু করার। তবে এটা কঠিন হবে তাদের জন্য, যেহেতু মূল কাজ শুরু হয়নি।”
প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, চীন সরকারের সাথে চুক্তির বিষয়টি দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ঝুলে থাকায় কাজে হাত দেয়া যায়নি এখনো। আর তাই পদ্মা সেতু চালুর প্রথম দিনেই পুরো রেল সংযোগ চালুর বিষয়টি থেকে আপাতত কিছুটা সরে আসতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে। তবে চলতি মাসেই ঋণচুক্তি সম্পন্ন হলে দেরিতে হলেও রেলে চড়ার সুযোগ পাবেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসী। তবে সরাসরি রেল সংযোগের বাইরেই থাকলে খুলনাবাসী।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, “পদ্মা সেতুর রেল সংযোগটি নড়াইল হয়ে খুলনার ফুলতলা বা যশোরের বসুন্দিয়ায় আসবে। ফুলতলায় হলে সেখানে একটি স্টেশন হবে। তাতে খুব বেশি অসুবিধা হবে না।”
তবে ভিন্নমত পোষণ করে খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, “পদ্মাসেতুর রেল রুটটি সরাসরি খুলনাতে সার্চ করছে না। এটি গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া থেকে নড়াইল হয়ে চলে যাবে যশোরে।”
এ প্রসঙ্গে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “পদ্মাসেতুর রেল রুটটি সরাসরি খুলনায় না আসায় এ অঞ্চলের মানুষ বঞ্চিত হবে। পদ্মাসেতুর পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাবে না। এটা বিবেচনায় নিয়েই খুলনা-মংলা রেল লাইনের কাটাখালীতে একটি স্টেশন নির্মাণ এবং সেখান থেকে ভাটিয়াপাড়ায় রেল সংযোগ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছি। আমার বিশ্বাস, খুলনাঞ্চলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সময়েই কাটাখালী থেকে ভাটিয়াপাড়া রেল সংযোগের কাজটিও করা হবে। অন্যথায় বিভাগীয় শহর খুলনা ও মংলা বন্দর পদ্মা সেতুর রেল যোগাযোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।”

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আলী আকবর রুপু আর নেই

আলী আকবর রুপু আর নেই

২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৭:০০

শিক্ষা ক্যাডারের ২৯ কমকর্তাকে বদলি

শিক্ষা ক্যাডারের ২৯ কমকর্তাকে বদলি

২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৬:৫৯


টেকনাফে ৩৪ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ

টেকনাফে ৩৪ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ

২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৬:৫৭

খালেদার অর্থদণ্ড স্থগিত

খালেদার অর্থদণ্ড স্থগিত

২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৩:৪৯


খালেদার জামিন শুনানি রোববার

খালেদার জামিন শুনানি রোববার

২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৩:৪৭



ব্রেকিং নিউজ





ডুমুরিয়ায় কিশোর নিখোঁজ

ডুমুরিয়ায় কিশোর নিখোঁজ

২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০১:২৫




নগরীতে দেশী মদসহ আটক ৬ 

নগরীতে দেশী মদসহ আটক ৬ 

২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০২:১৬