না ফেরার দেশে আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফ


আবৃত্তিশিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থপতি কাজী আরিফ আর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই সেন্ট লুকস হাসপাতালে বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী প্রজ্ঞা লাবণী ও দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। কাজী আরিফের কন্যা অনসূয়া আরিফ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়ে তার বাবার বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য সকলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
কাজী আরিফের মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আহকাম উল্লাহ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কাজী আরিফকে দেখতে তিনি হাসপাতালে যান। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত তিনি খোঁজখবর রাখতেন। তিনি জানান, ওই হাসপাতালে ২৫ এপ্রিল তার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল। অপারেশনও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু আইসিইউতে থাকা অবস্থায় তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।
কাজী আরিফ অমৃত্যু আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি মুক্তকণ্ঠ আবৃত্তি একাডেমির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও।
আবৃত্তিশিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থপতি কাজী আরিফের জন্ম ১৯৫২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ি জেলা সদরের কাজীকান্দা গ্রামে। বড় হয়েছেন চট্টগ্রামে। বাবা কাজী আজিজুল ইসলাম পাকিস্তান ইউনাইটেড ব্যাংকে চাকুরি করতেন। মা কাজী নিন্নি ইসলাম। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। স্কুল-কলেজ জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারপর ভর্তি হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে পদচারণা কলেজ জীবন থেকে।
তার আলোচিত আবৃত্তি অ্যালবামগুলোর মধ্যে ‘পত্রপুট’, ‘তাম্রলিপি’ অন্যতম। বাহার রহমান আশির দশকের মাঝামাঝি নতুনদের কবিতা নিয়ে একটি অ্যালবাম করেন। তারপর বেরোয় ‘এখনো রবীন্দ্রনাথ’-দুই খণ্ডে, ‘আজো নজরুল’ ইত্যাদি। এ পর্যন্ত তার ১৭টি আবৃত্তির অডিও অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।

 


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।