আজ সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

সর্বশেষ সংবাদ

কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ আরও সংবাদ

কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।
কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।
কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।
কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।

জাতীয়

খুলনাসহ ১৩ ক্লাবে টাকা দিয়ে হাউজি কার্ড খেলা বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

খবর প্রতিবেদন
খুলনা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি ক্লাবে অর্থের বিনিময়ে হাউজি, ডাইস ও কার্ড খেলা আয়োজন করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। ক্লাবগুলোকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ...

বিস্তারিত

ক্ষমা চেয়ে রেহাই পেলেন সিইসিসহ পাঁচ নির্বাচন কমিশনার

জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট

ইদ্রিস আলীর রায় আজ মানবতাবিরোধী অপরাধ

মনুষ্য সৃষ্টের কারণেই ফ্লাইটের ত্র“টির জন্য দায়ী : সংসদে মেনন

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে পাঁচ শতাধিক ঘর আগুনে পুড়ে ছাই : দগ্ধ ১৫

সংসদ জুড়ে আতঙ্ক

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ দিন : ফখরুল

পদ্মাসেতু বিশ্ব দরবারে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে : প্রধানমন্ত্রী

দুই ছাত্রলীগ নেতার জামিন বাতিল, গ্রেফতারি পরোয়ানা

রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে ফিলিপাইন, বাংলাদেশের না

নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন এসপি মোজাহিদ

ডিসেম্বরের শেষের দিকে শৈত্য প্রবাহের আশঙ্কা

আরো সংবাদ

আঞ্চলিক

image gallery thumbnail

খুলনায় সাংবাদিকদের অবস্থান ধর্মঘট

নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার দাবিতে

খবর বিজ্ঞপ্তি
দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা ও অষ্টম ওয়েজ বোর্ড বা¯Íবায়নের দাবি জানিয়েছেন খুলনার সাংবাদিক নেতারা। তারা বলেছেন, ওয়েজ বোর্ড বা¯Íবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কালক্ষেপণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। ...

বিস্তারিত

ফুলবাড়ীগেটে ইয়াবাসহ আটক ২

ডাঃ জহর লাল সিংহের ফেলোশীপ ডিগ্রী লাভ

এমপি পুত্র রফিকের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল আজ

খুলনা খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতি ও পরিবহন ঠিকাদার বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন

দিঘলিয়া শ্রমিক লীগের সম্পাদককে অব্যাহতি

ফাতিমা হাইস্কুল এক্স-স্টুডেন্টস্ এন্ড টিচার্স এসোসিয়েশনের সভা

ডিজিটাল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে উন্নত সেবা নিশ্চিতের আহŸান

স্বৈরাচার পতন দিবসের কর্মসূচি সফলে খালিশপুরে ছাত্রদলের সভা

১০ ডিসেম্বর ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন

২৬নং ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা শ্যাম দত্তের মৃত্যু

জেলা ও নগর সৈনিক লীগের মানববন্ধন

নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে স্মারকলিপি পেশ

আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক

রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার দাবিতে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার মানুষের মানবতার মিছিল

নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চাইলেন নাজিব

খবর প্রতিবেদন
মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষে মালয়েশিয়ায় সমাবেশ করেছেন হাজার হাজর মানুষ। বিপন্ন মানবতার পক্ষে মানুষের এই মিছিলে সামিল হয়েছেন রাজনীতিকরাও। রাজনৈতিক বিভাজন আর বিভক্তির ঊর্ধ্বে উঠে তারা বিপন্ন মানবতার সুরক্ষা দাবি করেছেন। অপরদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ...

বিস্তারিত

ক্যালিফোর্নিয়ায় নৈশ-পার্টির আগুনে ৪০ জনের মৃত্যুর শঙ্কা

মিয়ানমার সীমান্তে এবার ভারতীয় সেনা নিহত

১৩ যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিমান নিখোঁজ

ক্যালিফোর্নিয়ায় আগুনে মৃত্যু ৯

ধর্ষণ-নির্যাতন আর আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে মিয়ানমারে!

পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার ৩৩ বাংলাদেশি কারাগারে

তিস্তা চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লির বার্তা : আনন্দবাজার

রোহিঙ্গাদের নৌকায় মিয়ানমার বাহিনীর নির্বিচারে গুলি

পশ্চিমবঙ্গের ১৮ জেলার রাস্তায় সেনা

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সীমান্তে লেজার-রাডারে কঠোর পাহারা বসাবে ভারত

বিদেশি টানতে ভিসা সহজ করল ভারত

পশ্চিমবঙ্গে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ৩ সেনা কর্মকর্তা নিহত

আরো সংবাদ

খেলার মাঠে

এই তো সেই জিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট খেতাবটা সবার আগে তার গায়েই লেগেছিলো। জিয়াউর রহমান জনি। জাতীয় দলে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে এক সময়ে ছিলেন অটোমেটিক চয়েজ, ছিলেন অনস্বীকার্য নাম। বিশালদেহী মানুষ। বড় বড় ছক্কা মারতে পারেন, বলে এক সময় বেশ ভালো গতি ছিলো। দূর থেকে ...

বিস্তারিত

বিনোদন

মাধুরীর দেহরক্ষী মোশাররফ করিম

খবর বিনোদন
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতের দেহরক্ষীর ভূমিকায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ভার্সেটাইল অভিনেতা মোশাররফ করিম। ঠিক এমনটাই হতে চলেছে, তবে সেটা নাটকে নয়, সিনেমায়। বলিউডের এই অভিনেত্রীর দেহরক্ষী চরিত্রে অভিনয়ের ব্যাপারে এরই মধ্যে কথা পাকাপাকি হয়েছে মোশাররফ করিমের। কলকাতার পরিচালক ...

বিস্তারিত

সময়ের খবর স্পেশাল

খুলনাঞ্চলে মাদক ব্যবসা ...

আশরাফুল ইসলাম নূর ও সোহাগ দেওয়ান
খুলনা অঞ্চলে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। পাইকারী মাদক বিক্রেতাদের নিকট থেকে প্রতি মাসেই অন্তত ১০ লাখ টাকা মাসোহারা নিচ্ছেন অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা। এ ...

বিস্তারিত...
close
খুলনাঞ্চলে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা!
খুলনা অঞ্চলে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। পাইকারী মাদক বিক্রেতাদের নিকট থেকে প্রতি মাসেই অন্তত ১০ লাখ টাকা মাসোহারা নিচ্ছেন অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা। এ অর্থের বন্টন হয় উধ্বর্তন কর্মকর্তা থেকে অফিসের পিয়ন পর্যন্ত। ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দু’কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক পারভীন আখতার। মাদক বিক্রেতা ও অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, খুলনার শতাধিক পয়েন্ট থেকে প্রতি মাসে অন্তত ১০ লাখ টাকা মাসোহারা উত্তোলন করেন অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আছেন ক-অঞ্চলে কর্মরত সিপাহী সিদ্দিকুর রহমান ও ফারুক হোসেন। ব্যক্তিগত কয়েকটি বিকাশ নম্বরে তারা মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে মাশোহারার টাকা গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ কম দেখিয়ে আড়ালে তা বিক্রি করা হয় মাদক-নির্দিষ্ট কয়েকজন বিক্রেতার কাছে। অভিযানে জব্দ মাদক বিক্রি হয় ফুলতলার জাকির ও বসিরের বৌ; রূপসার জাবুসা এলাকার হোসেন কানার নিকট। গত ১৮ আগস্ট রূপসার রূপসী হোটেল থেকে ১৬ হাজার ৩৯৬ পিচ ইয়াবা উদ্ধারের একটি মামলা হয়। ওই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে জানা গেছে, ওই চালানে ২০ হাজার পিচ ইয়াবা ছিল। জব্দকৃত ইয়াবার অবশিষ্ট ৩ হাজার ৬০৪ পিচ গোপনে উপরোক্ত তিনজনের কাছে বিক্রি করা হয়। এ বিষয়ে ওই মামলার বাদী ক-অঞ্চলের উপ-পরিদর্শক মনোজিৎ কুমার বলেন, অভিযানটি সিপাহী সিদ্দিকুর রহমান ও এএসআই নূর মোহাম্মদ পরিচালনা করেছিলেন। রূপসা স্ট্যান্ড রোডের রূপসী আবাসিক হোটেলের ওই কক্ষে পরে আমাকে ডাকা হয়। পরিদর্শক ছুটিতে থাকায় আমি মামলার বাদী হয়েছি। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে পারবো না বলে জানান তিনি। সূত্রটি আরও জানায়, সিপাহী সিদ্দিকুর রহমান প্রায় ১২ বছর ধরে খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন। তবে তিন বছরের বেশি কোন সরকারি কর্মকর্তার একই স্থানে চাকুরিরত থাকার নিয়ম নেই বলে জানিয়েছেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক পারভীন আখতার। এদিকে খুলনা মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ে নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় রয়েছে অধিদপ্তরের সদ্য বিদায়ী একজন সহকারী পরিচালক সিদ্ধেশ্বর তেলী। তিনি অবসরে গেলেও সিপাহী সিদ্দিক ও ফারুকের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছেন। সূত্রটি জানায়, নগরীর সোনাডাঙ্গা বৌ বাজার এলাকার থ্রী-সিস্টার খ্যাত ফেন্সিডিল বিক্রেতা হোসনেয়ারা তার বোন, লুতু ও জাহানারার প্রতি মাসে দেয় ৩৫ হাজার টাকা, রূপসা রামনগরের হালিম শেখ ১৫ হাজার, সোনাডাঙ্গা থানার পিছনের ইয়াবা বিক্রেতা হামিদা বেগম ৩ হাজার টাকা, নগরীর ৫নং ঘাট এলাকার পাইকারী গাঁজা বিক্রেতা মমিন গাজী ১০ হাজার টাকা, রূপসা স্ট্যান্ড রোডের গাঁজা বিক্রেতা সেলিম গাজী ও আবুল কালাম ৪ হাজার টাকা, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনের তানিয়া ৫ হাজার, রহিম নগরের গাঁজা বিক্রেতা হাবীব ও ৫নং ঘাটের হ্যাপী ৫ হাজার টাকা, সাচিবুনিয়ার গাঁজা বিক্রেতা দুলাল ৫ হাজার টাকা, নগরীর বার্মাশীল রোডের সকল মাদক বিক্রেতাদের থেকে ১১ হাজার টাকা আদায় করে দেয় দীপক নামের এক দালাল, নগরীর টিনা ব¯িÍ থেকে ১২ হাজার, রূপসা ঘাট মো¯Íফার ছেলে তপন ২০ হাজার টাকা, জেলার রূপসার জাবুসার গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রেতা হোসেন আলী ওরফে হোসেন কানা ১২ হাজার টাকা, রূপসার রাজাপুরের পাইকারী গাঁজা বিক্রেতা মুছা ১৫ হাজার টাকা, চালনা বাজারের ফেন্সিডিল বিক্রেতা আসমা বেগম ৫ হাজার টাকা, রূপসার রামনগরের ইয়াবা বিক্রেতা হালিম শেখ ১০ হাজার টাকা, জেলার চালনা বাজারের গাঁজা ও ফেন্সিডিল বিক্রেতা নাসিমা বেগম ৫ হাজার, বানিয়াশান্তার পতিতা পল্লীর জাহানারা ও নার্গিসসহ ৬/৭টি পয়েন্ট থেকে ২৪ হাজার টাকা, দাকোপের বাজুয়া বাজারের পাইকারী গাঁজা বিক্রেতা শাকিলা বুলবুল ১২ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে মাসোহারা দেয়। তবে মাসোহারা আদায়ে কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেননি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক পারভীন আখতার। তিনি বলেন, ভালোর মধ্যে দুষ্টু প্রকৃতির লোকও রয়েছে। ইতোপূর্বে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে বদলী করা হয়েছে। সিপাই সিদ্দিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এসেছে। সেগুলোরও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমানের পিএ রিফাতের ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগ করে তার সাথে কথা বলতে চাইলে ‘স্যার ব্য¯Í আছেন’ বলে এড়িয়ে যান।

খুলনায় আবার খেলা ...

আব্দুল্ল¬াহ এম রুবেল
খুলনার দুঃখের আরেক নাম হয়ে উঠছে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম। গত পাঁচ বছরে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এখানে হলেও তার থেকে বেশী বার করতে হয়েছে বড় ধরনের সংস্কার। আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন ...

বিস্তারিত...
close
খুলনায় আবার খেলা কবে?
খুলনার দুঃখের আরেক নাম হয়ে উঠছে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম। গত পাঁচ বছরে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এখানে হলেও তার থেকে বেশী বার করতে হয়েছে বড় ধরনের সংস্কার। আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন এই ভেন্যু গত পাঁচ বছর ধরে শুধু সংস্কারের মধ্যেই আছে। টাইগারদের লাকি ভেন্যু খ্যাত আবু নাসের স্টেডিয়াম এখন রয়েছে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায়। গত এপ্রিল মাসে ঝড়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্টেডিয়ামটি। এরপর ৬ মাস কেটে গেলেও সংস্কারের জন্য কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কবে নাগাদ সংস্কার কাজ শুরু হয়ে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক খেলার উপযুক্ত হবে তার সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষের কাছে। ফলে পুনরায় এ মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। স্টেডিয়াম প্রস্তুত না থাকায় এবারের বিপিএলও এ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে পারলো না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে স্টেডিয়াম সংস্কার প্রকল্প। অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় প্রতিবারই কিছুদিন পর স্টেডিয়ামের অবকাঠামো বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এর থেকেও আশঙ্কার খবর হচ্ছে, যদি টানা দুই বছর কোন স্টেডিয়ামে খেলা না হয়, সেক্ষেত্রে আইসসিসি থেকে পুনরায় ভেন্যুর মর্যাদা নিতে হয়। এর আগে ওয়ানডে স্ট্যাটাস ও টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে খুলনাকে। সর্বশেষ চলতি বছর জানুয়ারি মাসে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪টি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। ৮ মাসেরও বেশী সময় হয়েছে এ ভেন্যুতে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই। পারিপাশ্বিক অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে হয়তো আন্তর্জাতিক ম্যাচহীন ২ বছর পার করতে হতে পারে খুলনাকে। সেক্ষেত্রে পুনরায় আইসিসির স্বীকৃতি পেতে হবে। সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয় শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের। স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়ান বিল্ডিং, প্রেসিডেন্ট বক্স, মিডিয়া বক্সসহ অধিকাংশ ভবনের সিলিং ও গ্লাস ভেঙে পড়ে। মাঠের ভিতরে থাকা সাইড স্ক্রিনও ভেঙে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়। একই সাথে কোন বড় ধরনের খেলা এ মাঠের জন্য অনুপোযোগী হয়ে যায়। এসব ভবনে থাকা প্রায় সবগুলো এসি (তাপ নিয়ন্ত্রক) অকেজো হয়ে যায়। এছাড়া স্টেডিয়ামে আগে থেকেই এক পাশের গ্যালারির চেয়ার উঠিয়ে নেয়া হয়। ফলে এখন শ্রীহীন অবস্থায় রয়েছে স্টেডিয়ামটি। ফ্লাড লাইটেরও বেহাল দশা। বেশ কিছু লাইট অকেজো হয়ে পড়েছে। এছাড়া নিম্নমানের প্লাস্টিকের চেয়ার স্থাপনের ফলে গ্যালারির এক অংশের প্রায় সব চেয়ার ভেঙে গেছে। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালেই এই চেয়ারগুলো ভেঙে যায়। এরপর থেকে এই ভেন্যুতে চেয়ার ছাড়াই রয়েছে। এমনকি জিম্বাবুয়ে সিরিজে গ্যালারিতে এক অংশ চেয়ার ছাড়াই দর্শকদের খেলা দেখতে হয়। বারবার নিম্নমানের চেয়ার স্থাপনের ফলে চেয়ার ভেঙে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঝড়ের পর দিনই শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ বিসিবিকে ক্ষতির বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে জানায়। এরপর বিসিবি থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে সংস্কার প্রয়োজন জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়। একাধিকবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে থেকে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করলেও সংস্কার কাজ শুরুর আর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকল্প প্রকৌশলী মোঃ আওলাদ হোসেন গতকাল সময়ের খবরকে জানান, আমরা একটি প্রকল্প তৈরি করে পরিকল্পনা বিভাগে পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন সাড়া পাইনি। কেন সাড়া নেই? কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে ? এসব প্রশ্নের উত্তরে কিছুই জানাতে পারেননি খুলনা অঞ্চলের জাতীয় ক্রীড়া পরিষেদের উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এই প্রকৌশলী। দায় এড়ানো বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের আসলে কিছুই করার নেই। সন্তোষজনক কোন উত্তর পাওয়া যায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গ্রাউন্ডস এ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ ন্যাশনাল ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেনের কাছ থেকেও। তিনি জানান, আমাদের খুব বেশী কিছু করার থাকে না। এই স্টেডিয়ামে কি কি লাগবে সেটা জানিয়ে আমরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে চিঠি দিয়েছি কিন্তু কোন সাড়া পাচ্ছি না। তবে এটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে দাবি করে বলেন, আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। তবে বিসিবি’র খুলনা বিভাগীয় পরিচালক শেখ সোহেল খুলনা আবু নাসের স্টেডিয়াম নিয়ে বৃহৎ পরিকল্পনার কথা জানালেন। তিনি গতকাল সময়ের খবরকে বলেন, আবু নাসের স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণ ক্ষমতা খুব কম। কোন ম্যাচ হলে এখানে উপচে পড়া দর্শক হয়। যেটি নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ারও কারণ। এ কারণে স্টেডিয়ামের গ্যালারির এক পাশে দ্বি-তলা নির্মাণ করার কথা ভেবেছে বিসিবি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে একটি প্রস্তুাব দেয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছর নাগাদ এ কাজ শুরু হবে। তখন এই স্টেডিয়ামে নিয়মিত খেলা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লে¬খ্য, ২০০৬ সালে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামেরর আন্তর্জাতিক ম্যাচের পথচলা শুরু। ওই বছর খুলনাতে একটি ওয়ানডে ম্যাচ ও পরবর্তী বছর দু’টি ওয়ানডে ও একটি টি-টেয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ৬ বছর খুলনার আবু নাসের স্টেডিয়ামে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। ২০১২ সালে ওয়েস্ট বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে স্টেডিয়ামটি টেস্ট ভেন্যুর স্বীকৃতি পায়। ওই বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয় এ মাঠে। এরপর আবারও দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আর সর্বশেষ ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়। এখন আবার অপেক্ষার পালা। কবে আবার আবু নাসের স্টেডিয়ামে খেলা হবে ?

দৌলতপুরে গোলপাতার ঝুপড়ি ...

মোহাম্মদ মিলন
রাস্তার পাশে গোলপাতার লম্বা ঝুপড়ি ঘর। দেখলে মনে হয় এখানে বস্তি, মাদকের আখড়া বা জুয়ার আসর। কিন্তু এসব কিছু না। এগুলো এক একটি কলেজ ও স্কুল। যেখানে শিক্ষাদান করছেন বিভিন্ন ...

বিস্তারিত...
close
দৌলতপুরে গোলপাতার ঝুপড়ি ঘরে রমরমা কোচিং বাণিজ্য!
রাস্তার পাশে গোলপাতার লম্বা ঝুপড়ি ঘর। দেখলে মনে হয় এখানে বস্তি, মাদকের আখড়া বা জুয়ার আসর। কিন্তু এসব কিছু না। এগুলো এক একটি কলেজ ও স্কুল। যেখানে শিক্ষাদান করছেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের নামকরা শিক্ষক এবং ‘ভাইয়ারা’। এমনটাই সরকারি বিএল কলেজের সামনের দৃশ্য। শুধু বিএল কলেজ রোডই নয়, দৌলতপুরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এসব কোচিং সেন্টার। চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। স্থানীয়রা জানায়, সরকারি বিএল কলেজ ও দিবা-নৈশ কলেজ রোডে অলিগলিতে রয়েছে এসব কোচিং সেন্টার। শতভাগ পাশের নিশ্চয়তা, গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার প্রতিশ্র“তিসহ নানা প্রলোভন দিয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের কোচিংমুখী করা হচ্ছে। আর এসব কোচিং সেন্টার নামে-বেনামে পরিচালনা করছে খোদ সরকারি-বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা। সেই সাথে রয়েছে অমুক ভাই, তমুক ভাইয়াদের কোচিং সেন্টার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দৌলতপুরে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য রয়েছে ৩৩টি কোচিং সেন্টার, আর অর্থনীতির জন্য ৬টি, ইংরেজির জন্য ৫টি, গণিত/বাংলার জন্য ৪টি কোচিং সেন্টার। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা ও জব কোচিং রয়েছে ১৭টি। এসব কোচিং সেন্টারে পাঠদান করছেন বিভিন্ন কলেজ থেকে অনার্স, মাস্টার্স পাশ করা ছাত্র (ভাইয়া) ও সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। এখানে ‘ভাইয়েদের’ পাশাপাশি সরকারি বিএল কলেজ, দিবা-নৈশ কলেজ, শহীদ জিয়া কলেজ, রায়ের মহল কলেজ, ভবদহ কলেজ নওয়াপাড়া, সবুরুন্নেছা কলেজ, বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষকরাও এখানে ছোট ছোট ঘর ভাড়া করে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। শুধু তাই নয়, নগরীর একটি সরকারি স্বনামধন্য কলেজের অধ্যক্ষ বিএল কলেজ রোডে এসে কোচিং পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সঠিকভাবে ক্লাসে না নিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন। স্কুল-কলেজে না গিয়ে শিক্ষার্থীরা এসব কোচিং সেন্টারের দিকেই ঝুঁকছে। আর কোচিংয়ে না গেলে টিউটোরিয়াল নম্বর কমানোসহ নানা ভয় প্রদর্শন করাও হয় বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। গতকাল বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দৌলতপুর বিএল কলেজ ও দিবা-নৈশ কলেজ রোডে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কোচিং সেন্টার। এখানে প্যানা-পোস্টার আর সাইনবোর্ডে ছেয়ে গেছে। ছোট ছোট ঘরের মধ্যে কয়েকটি বেঞ্চ, টেবিল ও বোর্ড বসিয়ে নেয়া হচ্ছে ক্লাস। বিএল কলেজের ১নং গেটের বিপরীত পাশে রেল লাইন ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু গোলপাতার ছোট ছোট ঘর। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এখানে বেঞ্চগুলোতে ভর্তি রয়েছে শিক্ষার্থীরা। অথচ এ সময়ে এসব শিক্ষার্থীদের থাকার কথা নিজ নিজ ক্লাসরুমে। সেখানে না গিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টারে তারা ক্লাস করছেন। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। কেউ কেউ নামে, আবার কেউ বা বেনামে এসব কোচিং পরিচালনা করছেন। আর ভাইয়েদের কোচিংতো রয়েছেই। এমনকি কলেজ বাউন্ডারীর মধ্যেও পরিচালনা করা হচ্ছে কোচিং। বিএল কলেজের অডিটোরিয়ামের পিছনে অবস্থিত মরহুম সেকেন্দার আলী তালুকদার স্যারের বাড়ির নিচতলায় বিএল কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ মনিরুজ্জামান বেঞ্চ বসিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিং করান, পাবলা খা-পাড়াস্থ ডাঃ সামছুর রহমানের বাড়ির ৪র্থ তলা ভাড়া নিয়ে কোচিং পরিচালনা করছেন বিএল কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রবিউল ইসলাম, তৃতীয় তলায় সাতক্ষীরার কলোরোয়া কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের শফিক আহম্মেদ স্যার এবং নিচতলায় সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের মহিতোষ স্যার কোচিং পরিচালনা করছেন। এছাড়া বিএল কলেজের মুহাম্মাদ আলী স্যারের অর্থনীতি কোচিং, পলাশ স্যারের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং কোচিং, রুহুল আমীন স্যারের হিসাববিজ্ঞান কোচিং, তবিবার স্যারের হিসাববিজ্ঞান কোচিং, আফরুজ্জামান স্যারের স্কলার বিসিএস একাডেমী, সাব্বির স্যারের গণিত কোচিং, মধুসুদন স্যারের হিসাব বিজ্ঞান কোচিং, কমলেশ বালা স্যারের হিসাববিজ্ঞান কোচিং, কমার্স কলেজের কবির স্যারের জব এ্যাসিওরেন্স, শহীদ জিয়া কলেজের আলমগীর সিদ্দিক রনি স্যারের প্রমিস হিসাববিজ্ঞান একাডেমী, দিবা-নৈশ কলেজের প্রভাষক মোঃ সাইফুল ইসলামের পরিচালনা চলছে লজিক হোম, সঞ্জয় অধিকারী স্যারের এ্যাপেক্স কোচিং, শামীম স্যারের স্টার ইংলিশ কোচিং, এমদাদ সাইদী স্যারের হিসাব বিজ্ঞান, মনির হোসেন স্যারের ছোয়া হিসাব বিজ্ঞান কোচিং, জাকির হোসেন স্যারের আইসিটি কোচিং, কাজল স্যারের হিসাব বিজ্ঞান কোচিং, ফারুক স্যারের হিসাব বিজ্ঞান অনার্স কোচিং, ফারুক হোসেন স্যারের কমিউনিটি কমার্স কোচিং, কুয়েট স্কুলের মিলন স্যারের স্বর্ণা ইংলিশ কোচিং, পলিটেকনিক কলেজের আজিজ স্যারের কমার্স একাডেমী, আজহারুল ইসলাম স্যারের দিগন্ত হিসাব বিজ্ঞান কোচিং, প্রসেনজিৎ স্যারের উত্তরণ হিসাববিজ্ঞান কোচিং, সুজন কুমার বিশ্বাসের গণিত একাডেমী, নাজমুল হাসানের নাজমুল স্যারের আইসিটি ব্যাচ, মোঃ মনিবুর রহমান মনিরের জিএস মেথড। দিবা-নৈশ কলেজ এলাকার শরীফ আমজাদ হোসেনের সড়কে অবস্থিত বায়তুল হামদ্ জামে মসজিদের বিপরীত পাশের একটি গলিতে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের রয়েছে। এর মধ্যে দৌলতপুর (দিবা-নৈশ) কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাপস রায়ের আইসিটি কোচিং সেন্টার, একই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক হাসিবুজ্জামান বাবু’র একাদশ, দ্বাদশ ও অনার্স শিক্ষার্থীদের জন্য গীতাঞ্জলি বাংলা কোচিং, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক কেএম ইমদাদ সাঈদীর পরিচালনায় একাদশ-দ্বাদশ (স্পেশাল ব্যাচ), অনার্স, ডিগ্রী, মাস্টার্স এবং বিএ শিক্ষার্থীদের সকল বিষয়ে পড়ানোর জন্য কমার্স টিচিং হোম। এছাড়া এখানে রয়েছে এসবি প্রাইভেট টিউটোরিয়াল হোম। এর সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েটের শিক্ষার্থী ও অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা পরিচালিত। এখানে জেএসসি, এইচএসসি একাডেমিক ও ফাইনাল কোচিং করানো হয়। এছাড়া মোঃ মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় রয়েছে গণিত কোচিং, পদার্থ বিজ্ঞানের জন্য দীপক কুমার মল্লিক, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জন্য প্রদীপ কুমার মল্লিকের উচ্চতর গণিত কোচিং, স্টুডেন্ট কোচিং, নলেজ ভিই কোচিং। দত্ত বাড়ি এলাকায় এস এম আব্দুল গফ্ফার স্যারের স্টুডেন্ট কোচিং। এছাড়া দিবা-নৈশ কলেজ রোডে কোচিং পরিচালনা করেন বিএল কলেজের রসায়নের জেরিন ম্যাডাম। এছাড়া অজিত স্যার, অতিশ বাবু, আনিস, মোহন রায়, জামাল, সব্যসাচী, তাপস, আলোক কান্তি, অলিম্পিক, আসাদ, সুমন, বিদ্যুৎ, অহিদ, আব্দুর রহমান, ভবেস স্যার, তপন কয়াল, বিষ্ণুপদ স্যার, আরেফিন স্যার বিভিন্নস্থানে ঘর ভাড়া নিয়ে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন। এছাড়া বিএল কলেজ রোডে রয়েছে, রিয়্যাল কমার্স কোচিং সেন্টার, প্রোগ্রেস কোচিং সেন্টার, বিবিএ কোচিং সেন্টার, এ্যাবিলিটি কমার্স কোচিং, আপগ্রেড কোচিং কোচিং, চ্যালেঞ্জ কোচিং সেন্টার, কনফিডেন্স জিসাববিজ্ঞান কোচিং সেন্টার, ইংলিশ টিউটোরিয়াল হোম, ড্যাফোডিল ইংলিশ কোচিং, অর্থনীতি কোচিং, জীনিয়াস অর্থনীতি কোচিংসহ ৫২টির মতো কোচিং সেন্টার। সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবরে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে খুলনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক টি এম জাকির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিএল কলেজের অধ্যক্ষ গুলশান আরা বেগম জানান, কলেজ চলাকালীন সময়ে কোন শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। শিক্ষকদের পৌনে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোচিং পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কোন ক্লাস যদি না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আমাকে জানাতে মোবাইল নম্বরও দিয়েছি। দৌলতপুর কলেজ (দিবা-নৈশ)’র অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সদরুজ্জামান সবুর জানান, ‘মৌখিকভাবে শুনেছি শিক্ষকরা কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। তবে কলেজে ক্লাস চলাকালীন সময়ে কোন শিক্ষক কোচিংয়ে অংশ না নেয় সে বিষয়ে সকল শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিভাবদেরকেও সচেতন হতে হবে। অনেক অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের ক্লাসে না পাঠিয়ে কোচিংয়ের পাঠিয়ে থাকেন। ছেলে-মেয়েরা যাতে কলেজের ক্লাসে আসে সে বিষয়ে অভিভাবকদের লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন’। তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু শিক্ষকদের বেতন অপ্রতুল। যে কারণে তারা কোচিং করিয়ে থাকেন। অনেক সময় কর্তৃপক্ষ তাদেরকে চাপ দিতে পারে না’। খুলনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক টি এম জাকির হোসেন জানান, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে মাউশি কর্মকর্তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নগরীর সড়কগুলো ফের ...

আশরাফুল ইসলাম নূর

নগরীতে পাঁচ হাজার ইজিবাইক চলাচল করবে, আর শো’রুমগুলো সিলগালা করে দেয়া হবে-এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা গত ২০ মে থেকেই। গত ১১ মে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুস ...

বিস্তারিত...
close
নগরীর সড়কগুলো ফের ইজিবাইকের দখলে তিন প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ আমদানি

নগরীতে পাঁচ হাজার ইজিবাইক চলাচল করবে, আর শো’রুমগুলো সিলগালা করে দেয়া হবে-এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা গত ২০ মে থেকেই। গত ১১ মে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কার্যত্ব, গত পাঁচ মাসেও উপরোক্ত সিদ্ধান্ত বা¯Íবায়ন হয়নি। দু-একটি শো’রুমে জরিমানা করলেও বর্তমানে নগরীতে আবারও ইজিবাইকের রমরমা অবস্থা। মহানগরীর সড়ক-মহাসড়কে আবারও ইজিবাইকের দখলে। নাগরিক দুর্ভোগের সাথে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কেসিসি’র সূত্রমতে, খুলনা মহানগরীর সড়কের দৈর্ঘ্য ৬৪০ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। এই সড়কেই চলাচল করছে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত ও নগরীর অন্তত ৩০ সহস্রাধিক ইজিবাইক। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা, তীব্র যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগে গলার কাটায় পরিণত হয় ইজিবাইক। এসব সমস্যা উত্তরণে নগরীতে পাঁচ হাজার ইজিবাইকের অনুমোদন আর শো’রুমগুলো সিলগালা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় গত ১১ মে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে-স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিটির ভারপ্রাপ্ত মেয়র, খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে সকলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- ২০ মে’র পর থেকে নির্ধারিত লাল রঙের ব্যতীত অননুমোদিত ইজিবাইক চলাচল করতে পারবে না। একই সাথে ইজিবাইকের বিপনন বন্ধের নগরীর শো’রুমগুলো সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। একই সাথে ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ আমদানিকারকদের (শহরের ছয়জন রয়েছেন) ট্রেড লাইসেন্স বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নগরীতে পূর্বের অনুমোদিত এক হাজার ৯৬৩টি এবং নতুন করে ৩ হাজার ৩৭টিসহ মোট ৫ হাজার ইজিবাইক যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন দেবার সিদ্ধান্ত ছিল। আর তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান ও বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, কেসিসি’র ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ আনিছুর রহমান বিশ্বাষ এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ মোঃ হারুনুর রশিদ।
ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর সূত্র অনুযায়ী নগরীতে বর্তমানে ২০ সহস্রাধিক ইজিবাইক চলাচল করছে। আর সীলগালা করা ইজিবাইকের শো’রুমগুলোও এখন পুরোদমে বিকিকিনি চলছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, স¤প্রতি ইজিবাইক বিপননকারী তিনটি প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি আমদানী করেছে। আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানগুলো হল খানজাহান আলী রোডের সুন্দরবন কলেজের বিপরীতের ফ্রেস ট্রেড, সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনালের বিপরীতের ইয়ার মটরস্, শের-এ বাংলা রোডের বিসমিল্লাহ অটো এবং সোনাডাঙ্গার বি-ফাইন। অতি গোপনীয়তার সাথে বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ সোনাডাঙ্গা-গল্লামারী বাইপাস এলাকায় মজুদ করা রয়েছে। এসব গুদামে মজুদ যন্ত্রাংশ দিয়ে অর্ধ সহস্রাধিক ইজিবাইক ফিটিং হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এদিকে, কৌশলে শো’রুমে ইজিবাইক দেখে পছন্দ ও দর-দাম ঠিক হলেই গুদাম থেকে ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে। দু’মাস পূর্বে কয়েকটি শো’রুমে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছিল। অবশ্যই এখন আবার পুরোদমে চলছে নগরীর শো’রুমগুলো।
খুলনা মহানগর ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম মানিক বলেন, নগরীর প্রকৃত চালকদের সনাক্ত করলে ৫ হাজারের মধ্যে ইজিবাইকের সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হবে না। শহরের বাইরের থেকে প্রচুর পরিমাণ ইজিবাইক প্রতিদিন নগরীতে চলাচল করায়, যানজটের সৃষ্টি হয়। শো’রুমগুলো বন্ধ করলে এমনিতেই ইজিবাইক শূন্য হয়ে যাবে খুলনা।
রূপসা থেকে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিটাল পর্যন্ত প্রতিদিন যাতায়াতকারী শিক্ষক ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, অফিসের যাওয়া-আসার নির্দিষ্ট কিছু সময় ইজিবাইক বন্ধ থাকছে মেইন রোডে। দিনের বাকীটা সময় নগরী জুড়ে শুধুই ইজিবাইক আর ইজিবাইক। সড়ক দুর্ঘটনা তো আছেই; রয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ।
কেসিসি’র ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ আনিছুর রহমান বিশ্বাষ বলেন, ইজিবাইকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ একটা কঠিন কাজ। খুব শিগগিরই একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে আনতে কাজ চলছে। শো’রুমগুলোর ট্রেড লাইসেন্স আর নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইজিবাইকের সংখ্যা ৫ হাজারে নামিয়ে আনতে খুলনাবাসীর সহযোগিতা চাইছেন তিনি।
জনউদ্যোগ খুলনার আহবায়ক এড. কুদরত-ই খুদা বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইকের যেমনি আধিক্য; তেমনি নগরীতে গণপরিবহনের সংকট রয়েছে। তাই সুনির্ধারিত সংখ্যক ইজিবাইক নির্ধারিত রুটে চলাচল করলে নগরবাসী উপকৃত হবে। তবে বিশেষ কোন কর্মকর্তার অফিসে যাতয়াতের সময় নগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্য¯Íতম সড়কটিতে ইজিবাইক বন্ধ করে দেয়া খুলনার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।
বিআরটিসি খুলনার উপ-পরিচালক মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিষিধাজ্ঞা থাকলেও  ব্যাটারি চালিত থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক) যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি আমদানী করা হচ্ছে। এসব যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি আমদানী এবং সংযোজন বন্ধ করতে পারলেই ইজিবাইক বন্ধ হয়ে যাবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল আহসান বলেন, খুলনা শহরের ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপর। তারা যত তাড়াতাড়ি তালিকা প্রস্তুত করে নির্ধারিত রঙে আনতে পারবেন, ততো দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ইজিবাইকের নির্ধারিত সংখ্যায় আনা সম্ভব হবে।
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান সময়ের খবরকে বলেন, ডাকলে কেউ আসে না। প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। সংখ্যা নির্ধারণে আমিসহ কয়েকজনকে দায়িত্ব দেয়া হলেও কেউ এনিয়ে মাথা ঘামায় না। আমি নিজে যে টুকু পারছি চেষ্টা করতেছি। যত দ্রুত সম্ভব খুলনা শহরকে যানজটমুক্ত করণে ইজিবাইকের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও কেএমপি কমিশনারকেও এব্যাপারে উদ্যোগী হতে আহŸান জানিয়েছেন তিনি।

 

ভাঙন রোধ ও ...

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা বছর বৈশাখ মাসের শুরু থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত বৃষ্টিতে খুলনা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কাস্টমঘাট থেকে রুজভেল্ট জেটি পর্যন্ত ভৈরব তীরবর্তী নদের ভাঙন রোধে বড় ধরণের প্রকল্প গ্রহণ করা ...

বিস্তারিত...
close
ভাঙন রোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কেসিসি’র ৭শ’ কোটি টাকার প্রকল্প

বাংলা বছর বৈশাখ মাসের শুরু থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত বৃষ্টিতে খুলনা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কাস্টমঘাট থেকে রুজভেল্ট জেটি পর্যন্ত ভৈরব তীরবর্তী নদের ভাঙন রোধে বড় ধরণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প বা¯Íবায়নে ৭শ’ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রকল্প দু’টিতে অর্থ যোগান দিচ্ছে। এ প্রকল্পে ময়ূর নদীতে প্রতিমাসে খননের ব্যবস্থা থাকবে। আগামী বছরের শুরুতেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ১৯৭৩ সালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নদীর ভাঙন থেকে খুলনাকে রক্ষা করার সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।  
কুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ এক গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছে জলাবদ্ধতা খুলনা নগরীর বড় সমস্যা। ময়ূর নদী ভরাট ও সংযুক্ত খাল  সমূহ ভরাট ও অবৈধ দখলের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মাঝারি থেকে ভারি ধরণের বর্ষা হলে নগরীর ৮০ ভাগ রা¯Íা-ঘাট পানিতে নিমজ্জিত  হয়। গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয় নগরীতে সৃষ্ট ৮০ ভাগ বর্জ্য ময়ূর নদীতে ফেলার কারণে নদী ভরাটের সৃষ্টি হয়। মাঝারি থেকে ভারীবর্ষণের ফলে নগরীর প্রায় ৮০ ভাগ রাস্তা পানিতে নিমজ্জিত হয়। নগরীর পনের লাখ লোকের মধ্যে এক তৃতীয়াংশের অধিক লোক জলাবদ্ধতার ফলে নানাবিধ সমস্যায় পড়ে।
সিটি কর্পোরেশের সূত্র জানান, নগরীও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৫০ খালের মালিক জেলা প্রশাসন। কর্পোরেশন এগুলো তদারকি করেন মাত্র। উল্লেখযোগ্য খালগুলো হচ্ছে নিরালা, ময়ূর, মান্দার, ক্ষেত্রখালী, মতিয়াখালী, লবণচরা, তালতলা, মিস্ত্রিপাড়া, সবুজ বাগ, বাস্তুহারা, রায়ের মহল, ছড়ি-ছড়া, হাজী তমিজ উদ্দিন, নারিকেল বাড়িয়া, সুড়ি মারি, চক মথুরাবাদ, নবপল্লী, ছোট বয়রা শ্মশানঘাট, দেয়ানা, বেতবুনিয়া ইত্যাদি। বাস্তুহারা খাল, স্লুইচগেট, গল্লামারী নর্থ খাল ও কাস্টমঘাট ইত্যাদি এলাকায় খালের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। লবণচরা খালের একাংশ ভরাট করে অফিস ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। খুলনার একান্ন খাল গিলে খেয়েছে ৮১ প্রভাবশালী। পানি নিষ্কাষণের জন্য ১৯৬০ সালে অধুনালুপ্ত পৌরসভা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের মধ্যদিয়ে একটি খাল খনন করে। পৌরসভার অনুমোদন ছাড়া খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ঐ খালের ওপর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা ও সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল গড়ে তোলে। খালিশপুর হাউজিং এলাকায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্যুয়ারেজ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ জনবলের অভাবে পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জলাবদ্ধ নিরসন প্রকল্প : নগরীর আশি ভাগ এলাকা জলাবদ্ধতা দূরীকরণে চারশ’ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এডিবি এই প্রকল্পে অর্থ যোগান দেবে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আলুতলা ও রূপসা পয়েন্টে পাম্প হাউজ স্থাপন করে ভেতরের পানি রূপসা নদীতে ফেলা। স্লুইচগেট সংস্কারসহ পাম্প হাউজ নির্মাণ। খাল খননের মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে ছড়িছড়া, নবীনগর, হাসান বাগ, তালতলা, বাস্তুহারা, হরিণটানা, দেয়ানা ইত্যাদি। এই প্রকল্পের আওতায় বর্জ্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গ্যাস ও সার উৎপাদন করা হবে। তালুকদার আব্দুল খালেক ২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর নগরীর দখলদারদের হাত থেকে অবৈধ খালগুলো দখল মুক্ত করে।
শহর রক্ষা প্রকল্প : মহানগরীর কাস্টমঘাট থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ভৈরব নদের তীর সংস্কারের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে তিনশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রকল্পে অর্থ যোগান দেবে। গত ২১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে কেসিসি ও দাতা সংস্থার সাথে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছর থেকে কাজ শুরু হবে। ১৯৯২-৯৩ সালে ভৈরব নদের তীরে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৩১ মিটার শহররক্ষা বাঁধ প্রকল্পের সম্পন্ন করা হয়। ১৯৭৩ সালের ১১ জুলাই দৈনিক বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয় নদীর ভাঙন থেকে খুলনাকে রক্ষা করার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আশ্বাস দেন।  
কেসিসি’র মুখপাত্র : ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ আনিসুর রহমান বিশ্বাষ এ প্রতিবেদককে জানান, আগামী বছরের শুরুতে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও শহররক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। তিনি আশাবাদী বর্ষা মৌসুমে নগরবাসী জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা পাবে। দাতা সংস্থা আধুনিক উপকরণ সরবরাহ করছে। এর ফলে প্রতিমাসে ময়ূর নদীর খনন করা যাবে। ফলে দ্রুত পলি অপসারণ হবে। ক্ষুদের খাল খননের কাজ চলছে। অবৈধ দখলদারদের কারণে অধিকাংশ খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণ হয়েছে।
 

 

জমি অধিগ্রহণে জটিলতা ...

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)’র নেয়া গুরুত্বপূর্ণ তিন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও কার্যতঃ এখনও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। কেডিএ কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও জমি অধিগ্রহণে জটিলতা ...

বিস্তারিত...
close
জমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে কেডিএ’র তিন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)’র নেয়া গুরুত্বপূর্ণ তিন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও কার্যতঃ এখনও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। কেডিএ কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও জমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদে ওইসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভব হচ্ছে না। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ও রেস্ট হাউজ নির্মাণ।
কেডিএ সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে সরকারি অর্থে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ওই বছর ৩০ জুলাই প্রকল্পটির একনেকে অনুমোদন মেলে। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয় চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কোন অগ্রগতি নেই। শুধুমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র, সড়ক ও কালভার্টের ডিজাইনের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদার নিয়োগ এবং ভূমি হুকুম দখল কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অপর দিকে মন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়ন মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রেরণ করেছে সংস্থাটি।
অপর দিকে নিরালা আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কেডিএ। আর এটি বাস্তবায়নের জন্য ১০ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১০ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি। বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ২০১১ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি প্রকল্পটির অনুমোদন মিললেও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র হাইকোর্টের এক রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে তা বাস্তবায়নের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বর্তমান ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ প্রত্যাহারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেডিএ।
সংস্থাটি ২০১৩ সালের আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করে। তা হচ্ছে রেস্ট হাউজ নির্মাণ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১৫ সাল পর্যন্ত। ওই বছরই প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেও তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। সবেমাত্র ডিজাইন সম্পন্ন করে প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের জন্য ফের মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।  
কেডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী মোরতুজা আল-মামুন বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদে ওইসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভব হচ্ছে না। তাবে কেডিএ’র কোন গাফিলতি নেই। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কেডিএ’র প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

খুলনার দুই শতাধিক ...

মোঃ মহসিন হোসেন

দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) বিল-২০১৬ সংশোধিত আকারে পাস হওয়ার পরে সমন্বিত খুলনা জেলা কার্যালয় দুই শতাধিক মামলা ফেরত পাঠিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ তাদের বিচার পেতে দীর্ঘসুত্রিতার মধ্যে পড়বে বলে ধারণা ...

বিস্তারিত...
close
খুলনার দুই শতাধিক মামলা দীর্ঘসুত্রিতার শঙ্কা

দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) বিল-২০১৬ সংশোধিত আকারে পাস হওয়ার পরে সমন্বিত খুলনা জেলা কার্যালয় দুই শতাধিক মামলা ফেরত পাঠিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ তাদের বিচার পেতে দীর্ঘসুত্রিতার মধ্যে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খুলনা কার্যালয় সূত্র বলছে, দুদকের সুবিধার জন্যই এই আইন সংশোধন করা হয়েছে। সারা দেশে দুদকের যে জনবল রয়েছে তাতে এত অভিযোগ দুদকের পক্ষে তদন্ত করা সম্ভব নয়। সেজন্য দুদকই এই আইন সংশোধনের জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছিল। জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ জুন দশম জাতীয় সংসদের একাদশতম অধিবেশনে এই বিলটি পাস হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) বিল-২০১৬ নামের এই বিলে সরকারি সম্পত্তি সম্পর্কিত এবং সরকারি ও ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত প্রতারণা বা জালিয়াতি মামলা ছাড়া অন্যান্য প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলার তদন্তভার পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
২০০৪ সালের দুদক আইন অনুযায়ী জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও অপরাধ জনিত বিশ্বাসভঙ্গের মত বিষয়গুলো দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের তালিকায় ছিল। ২০০৯ সালে মুদ্রা পাচারের অভিযোগও দুদকের তফসিলভুক্ত করা হয়। আর ২০১৩ সালের নভেম্বরে এক সংশোধনীতে ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯ এবং ৪৭১ নাম্বার ধারার অপরাধ তদন্তের দায়িত্বও দুদককে দেয়া হয়। এই ধারাগুলোর মধ্যে প্রতারণার অভিযোগ ৪২০ ধারায় অন্তর্ভুক্ত। অন্যগুলো ব্যক্তিগত অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার ধারা। দুদকে ন্যাস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত মামলাগুলোর তদন্ত করত পুলিশ, বিচার চলত হাকিমের আদালতে। কিন্তু ‘ক্রিমিনাল ল এ্যামেন্ডমেন্ট এ্যাক্ট’ অনুযায়ী দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধগুলোর এখতিয়ার জেলা জজ আদালতের হাতে চলে যায়। অপরদিকে আইন সংশোধনের পর পুলিশ স্বাভাবিকভাবেই ৪২০ ধারার মামলা  নেয়া বন্ধ করে দেয়। এক্তিয়ার না থাকার কথা বলে অভিযোগকারীদের দুদকে যাওয়ার পরামর্শ দিতে থাকে থানা। অন্যদিকে লোকবলের অভাবের কথা বলে দুদক এসব অভিযোগের তদন্ত না করায় প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মামলা নিয়ে তেরি হয় অচলাবস্থা। এই প্রেক্ষাপটে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলাগুলোর তদন্তভার দুদক থেকে আগের মতো পুলিশের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংসদে এই আইন সংশোধন করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন খুলনার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ আবদুল হাই এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সময়ের খবরকে বলেন, সংশোধিত বিল পাসের পর পরই আমাদের হাতে থাকা দুই শতাধিক মামলা আমরা ফেরত দিয়েছি। এগুলো আদালত ও পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে। এখন থেকে এসব মামলা পুলিশ তদন্ত করবে ও আদালত বিচার করবে।
এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মোঃ আবদুল হাই বলেন, দুদকের এমনিতেই জনবল কম। তাই অধিক সংখ্যক মামলার তদন্ত করা কঠিন। সেজন্যই এটা করা হয়েছে। তবে এটা ঠিক যে, সাধারণ মানুষ যেভাবে দুদকের কাছে তাদের অভিযোগ পৌঁছাতে পারতো বা দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারতো, হয়তো এখন সেভাবে পারবে না। অপরদিকে সংশোধিত আইন পাশের পর আমাদের মাথার ওপর থেকে বিশাল এক বোঝা নেমে গিয়েছে। সারাদেশে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ করতে হলে যে ধরণের জনবল দরকার তা দুদকের নেই।

 

বেসরকারি চিকিৎসা সেবা ...

সোহাগ দেওয়ান

প্রায় ৩৪ বছর পর চিকিৎসকদের চিকিৎসা বাবদ ফি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়াও হয়েছে, যা বেসরকারি চিকিৎসা সেবা আইন’২০১৬ নামে অভিহিত হবে। নতুন আইন ...

বিস্তারিত...
close
বেসরকারি চিকিৎসা সেবা আইনে থাকছে জেল-জরিমানার বিধান

প্রায় ৩৪ বছর পর চিকিৎসকদের চিকিৎসা বাবদ ফি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়াও হয়েছে, যা বেসরকারি চিকিৎসা সেবা আইন’২০১৬ নামে অভিহিত হবে। নতুন আইন অনুযায়ী অফিস সময়ে কোনো ডাক্তার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিংবা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না। ছুটির দিনে নিজ জেলার বাইরে গিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না। এ নিয়ম না মানলে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আদালত উপযুক্ত মনে করলে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক অস্থাবর সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে নতুন এ আইনে ডাক্তাররা সরকার নির্ধারিত ফি’র তালিকা চেম্বারের সামনে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য থাকবেন। আদায় করা ফি বাবদ রোগীকে রসিদ দিতে হবে। রশিদের মুড়ি ডাক্তার নিজ দায়িত্বে সংরক্ষণ করতে বাধ্য থাকবেন। এছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায় করলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। কোনো ডাক্তার স্বীকৃত, অনুমোদিত সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি ছাড়া কোনো যোগ্যতার বিবরণ সাইনবোর্ড, নামফলক কিংবা ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহার করতে পারবেন না। মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে শতকরা ১০ ভাগ শয্যা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্রটি জানায়, ডাক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোনো ধরনের অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করবে বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল। ওই সংস্থার তদন্তে কোনো ডাক্তার দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। পক্ষান্তরে কোনো ব্যক্তি ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মারা গেলে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভাঙচুর করলে এবং এর ফলে কোনো ডাক্তার কিংবা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে আক্রমণকারীকে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়ার বিধার রাখা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট এক বৈঠক শেষে আইনের খসড়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, ১৯৮২ সালে এ সংক্রান্ত একটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ওই আইন চলে আসছে। তবে যুগের পরিবর্তনের কারণে আইনটি প্রতিপালন হচ্ছে না। তাই নতুন করে একটি আইনের খসড়া তৈরি করে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান মন্ত্রী।
আইনের খসড়া থেকে জানা যায়, সরকার বিভিন্ন সময়ে সময়ে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ডাক্তারদের ফি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত চার্জ নির্ধারণ করে দেবে। কোনো ডাক্তার সেবা সংক্রান্ত কোনো ধরনের মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র প্রদান করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো অর্থকড়ি নেয়া যাবে না। বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে অথবা ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বারে বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করতে হবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত সব তথ্য রেজিস্টারে লিখে রাখতে হবে। ওই রেজিস্ট্রার গোপনীয় দলিল হিসেবে গণ্য হবে। রোগীকে রোগের বিবরণ জানাতে হবে। প্রয়োজনীয় ও বিকল্প চিকিৎসা, চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং অস্ত্রোপচারের জটিলতা সম্পর্কে রোগীকে অবহিত করতে হবে। এমনকি খাতওয়ারি চিকিৎসা ব্যয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে।
খসড়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে সন্দেহজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা, বিষ প্রয়োগ, বেআইনি গর্ভপাত, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি, লাঞ্ছিত ও প্রহৃত ক্ষতি, অন্যের দ্বারা যে কোনো ধরনের আঘাত জনিত ক্ষতির ক্ষেত্রে চিকিৎসককে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করতে হবে। ডাক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধগুলোর তদন্ত ও বিচার ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৫নং আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। ডাক্তারের অপরাধের ফলে রোগীর মৃত্যু হলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪৫নং আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে। এছাড়া সরকারি লাইসেন্স ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে বেসরকারি কোনো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শন, চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি, কাগজপত্র পরীক্ষা করতে পারবেন। সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হয়েছে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাবে। চিকিৎসক আইন না মানলে বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিদর্শনকালে যদি প্রমাণ হয় জনস্বার্থেই এ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া দরকার, তাহলে সরকার যে কোনো বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দিতে পারবেন। এমনকি লাইসেন্সও বাতিল করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ১৫ দিনের সময় দিয়ে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। লাইসেন্স বাতিল হলে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসারত ব্যক্তিদের ওই প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে অন্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন। এ আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস এ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ বাতিল বলে গণ্য হবে।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ইকবাল আর্সনাল বলেন, নতুন আইন প্রণয়নের প্রাথমিক কাজ চলছে। ডাক্তারদের ফি এখনও নির্ধারণ হয়নি। তবে আইনটি চূড়ান্ত করা হলে তাতে ডাক্তারের ফি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত অন্যান্য চার্জ উল্লেখ থাকতে পারে।
এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মাসুম আলী বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা সেবা আইন ২০১৬ নামে নতুন করে একটি আইনের খসড়া তৈরি করে সমন্বয় সভা করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে অফিসিয়ালভাবে আমাদেরকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিছু জানায়নি।

 

আট কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে ...

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পর্যন্ত সাড়ে ৫শ’ কিলোমিটার এলাকা বিস্ফোরক দ্রব্য তদারকির পাশাপাশি বিক্রয়ের লাইসেন্স দিচ্ছেন মাত্র ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬ জেলার পেট্রোল পাম্প, এলপি গ্যাস ...

বিস্তারিত...
close
আট কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে ১৬ জেলা নিয়ন্ত্রণ করছে বিস্ফোরক পরিদপ্তর

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পর্যন্ত সাড়ে ৫শ’ কিলোমিটার এলাকা বিস্ফোরক দ্রব্য তদারকির পাশাপাশি বিক্রয়ের লাইসেন্স দিচ্ছেন মাত্র ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬ জেলার পেট্রোল পাম্প, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিনের খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স দিয়ে থাকে বিস্ফোরক পরিদপ্তর। খুলনা বিভাগে অনুমোদিত পদ রয়েছে ১০টি। সেখানে কর্মরত ৬ জন। অপরদিকে বরিশালে পদ রয়েছে ৬টি আছেন দু’জন। একজন সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক দুই বিভাগের ১৬ জেলার দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘ ১০ বছর ধরে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনার ১০ জেলা ও বরিশালের ৬ জেলায় দু’জন বিস্ফোরক পরিদর্শক ও চারজন সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক থাকার কথা। সেখানে মাত্র একজন সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক গত ১০ বছর ধরে এই দুই বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন।
জানতে চাইলে, খুলনা অফিসে কর্মরত সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সময়ের খবরকে জানান, জনবল বৃদ্ধির জন্য বহুবার উপরে জানানো হয়েছে। স¤প্রতি একজন এমএলএসএস দেয়া হয়েছে। যা আছে এই নিয়ে কাজ করছি। বিশাল এই এরিয়ার কাজ করার জন্য আমাদের নিজস্ব কোনো যানবাহন নেই। তারপরও কাজ করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, খুলনা বিভাগে ২৮৩টি ও বরিশাল বিভাগে ৪৯টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। অপরদিকে খুচরা পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন বিক্রয়ের দোকান আছে খুলনা বিভাগে ১ হাজার ১৩০টি ও বরিশাল বিভাগে ৩৭৫টি। এছাড়া খুলনায় এলপি গ্যাস বিক্রয়ের ৪৬৩টি ও বরিশাল বিভাগে রয়েছে ২৮১টি দোকান। এসব লাইসেন্স প্রতিবছর নবায়ন করতে হয়। পরিদর্শন করতে হয় সারা বছর। যারা লাইসেন্স নিয়েছেন, তারা শর্ত পূরণ করে ব্যবসা করছেন, কি না তাও দেখতে হয়। এত কিছু করার জন্য অনুমোদিত জনবল রয়েছে মাত্র ১৬ জন। তারমধ্যে আছেন মাত্র ৮ জন।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমরা যেসব লাইসেন্স দিয়ে থাকি এগুলোতো নবায়ন করতেই হয়, তার বাইরে ঢাকা থেকে যে লাইসেন্স দেয়া হয় সেগুলোর তদারকির দায়িত্বও আমাদের। এর মধ্যে ক্যালসিয়াম, কারবাইড ও বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে। এসবের লাইসেন্স ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে দেয়া হয়। লাইসেন্স দেয়ার বাইরেও নিয়মিত পরিদর্শন করতে হয়।
জানা গেছে, খুলনা বিভাগে অনুমোদিত জনবলের মধ্যে বিস্ফোরক পরিদর্শকের পদ একটি-এ পদটি শূন্য রয়েছে দশ বছর। সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শকের পদ ২টিতে আছেন একজন। কারিগরী সহকারির পদ একটি, তবে কেউ নেই। উচ্চমান সহকারি একটি পদে একজন আছেন। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর দু’টি পদে দু’জন আছেন। এমএলএসএস-এর অনুমোদিত দু’টি পদের বিপরিতে স¤প্রতি একজন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গার্ডের পদ একটিতে একজন আছেন।
অপরদিকে বরিশাল বিভাগে অনুমোদিত পদ ৬টি। বিস্ফোরক পরিদর্শকের একটি পদ শূন্য রয়েছে। সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক দুই পদে কেউ নেই। কারিগরী সহকারির একটি পদে একজন আছেন। কম্পিউটার অপারেটরের একটি পদ শূন্য রয়েছে। গার্ড একটি পদে একজন আছেন।
অধিদপ্তরের সূত্রটি জানায় এই বিশাল এলাকার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরিদর্শন, লাইসেন্স দেয়ার আগে সরেজিমনে পরিদর্শনের জন্য যাতায়াতের প্রয়োজন হলেও সেজন্য নিজস্ব কোনো যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। নিজ উদ্যোগে চলাচল অত্যন্ত কঠিন হলেও এভাবেই চলছে বছরের পর বছর। আর এই সুযোগে যত্রতত্র বিক্রি করা হচ্ছে পেট্রোল, ডিজেল, এলপি গ্যাসসহ দাহ্য পদার্থ।

 

কেসিসি’র সীমানা দ্বিগুন ...

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনকল্যাণ মূলক উদ্দেশ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সীমানা স¤প্রসারণের লক্ষে জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। স¤প্রসারণের আওতায় ২০টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষে প্রস্তাবিত এলাকার অধিবাসীদের মতামত জানতে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দেয়া ...

বিস্তারিত...
close
কেসিসি’র সীমানা দ্বিগুন হচ্ছে
জনকল্যাণ মূলক উদ্দেশ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সীমানা স¤প্রসারণের লক্ষে জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। স¤প্রসারণের আওতায় ২০টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষে প্রস্তাবিত এলাকার অধিবাসীদের মতামত জানতে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার তিন জন সংসদ সদস্য এ ব্যাপারে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। সর্বশেষ স¤প্রসারণ করা হয় ১৯৯৮ সালে। ২০টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত হলে কর্পোরেশনের জায়গা হবে ৮৮ বর্গ কিলোমিটার অর্থাৎ বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ। ব্রিটিশ জামানায় ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই খুলনা মিউনিসিপ্যালিটির যাত্রা শুরু হয়। কর্পোরেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর কেসিসি’র তৃতীয় সাধারণ সভা ও ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ সাধারণ সভায় শহরতলীর ২৬টি মৌজা কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ওই সভায় উল্লেখ করা হয়, শহরতলীর উল্লিখিত মৌজায় কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুকুল পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়েছে। সর্বাধিক নাগরিক সুবিধাদি প্রদানের লক্ষে প্রস্তাবিত এলাকা কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা এবং সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ২০১৪ সালের ৮ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর প্রস্তাবিত স্থানসমূহে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মতামত চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ খুলনা জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠায়। সূত্রটি আরও জানায় চলতি বছরের ৯ ফেব্র“য়ারি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে উপ-সচিব সরোজ কুমার নাথ সীমানা স¤প্রসারণের লক্ষে গণবিজ্ঞপ্তি জারী করার জন্য জেলা প্রশাসনকে দাপ্তরিক পত্র পাঠান। জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান ২০টি মৌজায় কেসিসির অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীদের মতামত চেয়ে গত ৩০ এপ্রিল গণবিজ্ঞপ্তি জারী করেন। প্রস্তাবিত মৌজাগুলো হচ্ছে বটিয়াঘাটা উপজেলার হরিণটানা, মাথাভাঙ্গা, ডুবি, খোলাবাড়িয়া, আলুতলা, ঠিকরাবাধ, কৃষ্ণনগর, সাচিবুনিয়া (আংশিক), ডুমুরিয়া উপজেলার চকমথুরাবাদ, বিলপাবলা (আংশিক), চক আসান খালীর (আংশিক), দৌলতপুর থানার আড়ংঘাটা, তেলিগাতি, দেয়ানা, যুগীপোল, মশিয়ালীর (আংশিক), ফুলতলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ, আটরা, গিলাতলা ও শিরোমনি (সেনানিবাস এলাকা বাদে)। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত স্থানীয় অধিবাসীদের কোন আপত্তি জেলা প্রশাসনের দপ্তরে জমা পড়েনি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত এলাকার অধিবাসীদের আপত্তি গ্রহণের সর্বশেষ সময় ৩০ মে। পরবর্তীতে মন্ত্রী পরিষদের সভায় স¤প্রসারিত এলাকা ঘোষণা করা হবে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায় কেসিসি এলাকায় অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে সংসদ সদস্য (খুলনা-১) পঞ্চানন বিশ্বাস হরিণটানা, মাথাভাঙ্গা, ডুবি, খোলাবাড়িয়া, আলুতলা, ঠিকরাবাধ, কৃষ্ণনগর (সম্পূর্ণ), সাচিবুনিয়া গ্রামের আংশিক সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন। অপরদিকে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা আড়ংঘাটা, তেলিগাতি, যুগীপোল ও দেয়ানার আংশিক এলাকাকে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। তাছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ শিরোমনি, গিলাতলা, আটরা, শ্যামগঞ্জ, চকআসানখালীর আংশিক এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করার মতামত দিয়েছেন। তিনি ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। অধুনালুপ্ত খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুল হুদা ‘খুলনা পৌরসভার ১শ’ বছর’ নামক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, ১৮৮৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাংলার লেফটেনেন্ট গভর্নর খুলনাকে মিউনিসিপ্যালিটি ঘোষণা করেন। ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই কয়লাঘাট, হেলাতলা, বানিয়াখামার, টুটপাড়া, গোবরচাকা, শেখপাড়া, নূরনগর, শিববাড়ি, চারাবাটি, ছোট বয়রা ও বারিয়াপাড়া নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। তখন কর্পোরেশনের এলাকা ছিল ৪ দশমিক ৬৪ বর্গকিলোমিটার। রেভারেণ্ট গগনচন্দ্র দত্ত প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালের মিউনিসিপ্যালিটি এ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও অর্ডিনেন্স অনুযায়ী এ মিউনিসিপ্যালিটির আয়তন ১৪ দশমিক ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় স¤প্রসারণ করা হয়। তখন ১৪টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়। ১৯৬২ সালে রায়েরমহল, বয়রা, গোয়ালপাড়া, দৌলতপুর, মহেশ্বরপাশা এলাকা মিউনিসিপ্যালিটির অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি নাম পরিবর্তন করে ‘খুলনা পৌরসভা’ নামকরণ করা হয়। ১৯৭৪ সালের ২০ ফেব্র“য়ারি ন্যাপ নেতা গাজী শহিদুল্লাহ স্বাধীনতা উত্তরকালে খুলনা পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ পৌর কর্পোরেশন ঘোষণা করেন। ১৯৯০ সালের ৮ আগস্ট সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়। কাজী আমিনুল হক মেয়র মনোনীত হন। তিনি খুলনার প্রথম মেয়র। ১৯৯২ সালে ইউনিয়ন বাতিল করে ৩১টি ওয়ার্ডে স¤প্রসারণ করা হয়। ২০১৩ সালের ১৫ জুন সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি’র নগর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি মেয়র নির্বাচিত হন। কর্পোরেশনের এখনকার আয়তন ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার এবং বসতি সাত লাখ মানুষের।

সম্ভাবনার নতুন ভূখন্ড ...

মুনির উদ্দীন আহমদ
চারিদিকে স্বচ্ছ নীল সাগরের অথৈ পানি, অবিরাম ঢেউ ভাঙছে দীর্ঘ বালুচরে ছলাত ছলাত শব্দে। বালুচরে বসতি গেড়েছে হাজার হাজার লাল কাঁকড়া। অমিত সম্ভাবনা নিয়ে বঙ্গোপসাগরের বুকে ধীরে ধীরে মাথা তুলছে ...

বিস্তারিত...
close
সম্ভাবনার নতুন ভূখন্ড ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’
চারিদিকে স্বচ্ছ নীল সাগরের অথৈ পানি, অবিরাম ঢেউ ভাঙছে দীর্ঘ বালুচরে ছলাত ছলাত শব্দে। বালুচরে বসতি গেড়েছে হাজার হাজার লাল কাঁকড়া। অমিত সম্ভাবনা নিয়ে বঙ্গোপসাগরের বুকে ধীরে ধীরে মাথা তুলছে বিশাল ভূখন্ড, বর্তমানে যার আয়তন প্রায় ১৫ বর্গ কিলোমিটার। যদিও দেশের মানচিত্রে এখনও ঠাঁই পায়নি এই দ্বীপটি। মাঘী পূর্ণিমায় দুবলার চরের রাশ মেলা পর্যটকদের কাছে ইতোমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের তীরে এই দুবলার চর। শীত মৌসুমে হাজার হাজার জেলে এখানে ভীড় জমায়। পশ্চিম পাড়ে মংলা বন্দর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে হিরণ পয়েন্ট পাইলট স্টেশন। মাঝে প্রমত্তা পশুর নদীর মোহনা। এই হিরণ পয়েন্টের ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে নতুন এই দ্বীপ। নেভীগেশনাল ম্যাপে এর পূর্ব নাম ঝধৎধিৎ ংধহফং. শীত এবং বর্ষায় হাজার হাজার পরীজায়ী পাখি এই দ্বীপে আস্তানা গাড়ে। তিন মাস তারা ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বড় করে চলে যায় সেই সুদূরে। জেলেরা মাঝে মাঝে দ্বীপ থেকে ডিম সংগ্রহ করে। সেজন্য তারা নাম দিয়েছিল ডিমের চর, যার বর্তমান নাম ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’। গত ৫/৭ বছরে দ্বীপটি জেগে উঠলেও পারতপক্ষে কেউ ওদিকে যাওয়ার সাহস পেত না। এমন কি অনুমতি না থাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী বা কোস্টগার্ডও ঐ দ্বীপে যায়নি। অনেকে বলে, ‘জলদস্যুদের ঘাঁটি ঐ দ্বীপ। জেলেদেরকে জিম্মি করে ওখানে রেখে মুক্তিপণ আদায় করে তারা।’ গত ৫ মার্চ এই দ্বীপে প্রথম পা দেন কোস্টগার্ডসহ প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা। কারণ কোস্টগার্ড জলদস্যু দমন এবং উপকূলবর্তী জেলেদের ও মংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমুদ্রগামী জাহাজের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ঐ দ্বীপে একটি সার্ভেইলেন্স স্টেশন করার অনুমতি চেয়েছে। ৫ মার্চ ভোরে পৌঁছলাম মংলা কোস্টগার্ড স্টেশনে। খুলনা থেকে যোগ দিলেন এডিসি (রেভেনিউ) দ্বীপঙ্কর বিশ্বাস ও এডিসি (এলএ) সুলতানুল আলম। বাগেরহাট থেকে এসেছেন তিন সাংবাদিক বন্ধু। সকাল ৯টায় উঠলাম আমেরিকার তৈরি হাইস্পীড ক্রুজার-সার্কে। বিশ নটিকাল মাইল গতিতে পশুর নদীর বুক চিরে দু’পাশে বিশাল ঢেউ তুলে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চললো সার্ক। ভাটার টানে তিন ঘন্টায় পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে। সবাই অপলকে তাকিয়ে আছি অদূরের নতুন ছোট্ট ভূখন্ডের দিকে। তীর তখনও ৫ কিলোমিটার দূরে। সার্কের সোনার নির্দেশ করছে ২ মিটার পানি। এই অগভীর পানিতে সার্ক চলবে না। আগে থেকে ঠিক করে রাখা উপকূলে চলাচলকারী জেলে নৌকায় গিয়ে উঠলাম। এক কিলোমিটার বাকি থাকতেই সাম্পানের তলা মাটিতে ঠেকে গেল। শেষ ভরসা ডিঙি নৌকা। কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে যেতে হবে। প্রথম ব্যাচে আমরা ছ’জন। একশ’ গজ দূরে ডিঙি নৌকার তলাও ঠেকে গেল। বাধ্য হয়ে নামতে হলো হাটু পানিতে। যেয়ে উঠলাম দ্বীপটিতে। সবার চোখে মুখে নতুন দেশ আবিস্কারের আনন্দ। চোখ মেলালাম দ্বীপের দিকে। উত্তর দক্ষিণে আনুমানিক প্রায় আট কিলোমিটার লম্বা হয়ে সমুদ সৈকত শুয়ে আছে। চিকচিক করছে বালি। হাজার হাজার লাল কাঁকড়ায় ছেয়ে আছে দীর্ঘ বালুতট। চারদিকের নীল বঙ্গোপসাগরের অবিরত ঢেউ সাদা মুকুট পরে স্বগর্জনে আছড়ে পড়ছে বালুতটে। সকলে অবাক বিস্ময়ে প্রাণ ভরে উপভোগ করছি প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে। এরপর একসাথে পা বাড়ালাম দ্বীপের উপরে। বুক সমান নল খাগড়ার ঝোপ। কেওড়া, সুন্দরী, হেতাল, গোল, বন কলমিসহ নাম না জানা বহু প্রজাতির গাছ, লতা ধীরে ধীরে সবুজ করে সাজিয়ে তুলছে নতুন এই দ্বীপ কন্যাকে। অদূরে সুন্দরী ২০-২৫ হাত লম্বা হয়ে গেছে। স্থানীয় এক জেলে বললেন, “শীতকালে দ্বীপের উত্তরে ৫ ভাগ ও বর্ষাকালে প্রায় ৩০ ভাগ পূর্ণ জোয়ারের সময় ডুবে যায়। ধীরে ধীরে ডোবার জায়গা কমে আসছে, বড় হচ্ছে দ্বীপ।” হরিণ ও বড় ধরনের সাপের চলাচলের ছাপও পাওয়া গেল। হরিণ সম্ভবত জলদস্যুরা সুন্দরবন থেকে ধরে এনে ছেড়ে দিয়েছে। নতুবা বিশ কিলোমিটার প্রমত্ত বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে আসা হরিণের পক্ষে সম্ভব নয়। জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা জেলে ও পর্যটকদের ব্যবহার্য স্যান্ডেল, জুতা, পানির বোতলসহ প্রচুর বর্জ্য দ্বীপটিতে পাওয়া গেল। প্রাথমিক জরিপ শেষে এডিসি দ্বীপঙ্কর বিশ্বাস বললেন, পূর্ণাঙ্গ জরিপের পর দ্বীপটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হবে। তারপর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, দ্বীপটি কোস্টগার্ড না বন বিভাগকে দেয়া যায়। এ ব্যাপারে কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেহেদী মাসুদ বলেন, নেপাল-ভুটানের সাথে বাণিজ্য শুরু ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লাবাহী জাহাজ আসতে শুরু করলে মংলা বন্দরে জাহাজের আগমন নির্গমন বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে। চট্টগ্রাম বন্দরে এধরনের সার্ভেইলেন্স স্টেশন থাকলেও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে তা নেই। ফলে এখানে একটি সার্ভেইলেন্স স্টেশন করা গেলে নিরাপত্তা বিধান করা সম্ভব হবে। সরকার ইচ্ছা করলে ভবিষ্যতে দেশী বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে দ্বীপটি সমৃদ্ধ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। লেঃ রাহাত বললেন, ফিরতে হবে। জোয়ার ধরতে না পারলে খুলনায় ফিরতে দেরি হয়ে যাবে। একই ভাবে ফিরলাম সার্কে। পেছনে পড়ে রইল অমিত সম্ভাবনা নিয়ে জেগে ওঠা ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’। ঠিকমত একে সাজানো গেলে, নিরাপত্তা দিলে আগামী মৌসুমেই দুবলার চরে রাশ মেলার সময় লাখো পর্যটকের মিলন মেলা হতে পারে দ্বীপটি। কক্সবাজারের পর এত লম্বা সমুদ সৈকত দেশে আর কোথাও নেই। সেন্ট মার্টিন থেকেও বড় এই দ্বীপ। মূল ভূখন্ড থেকে অনেক কাছে। মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্কও এখানে ভাল। দুবলার চর ও বঙ্গবন্ধু দ্বীপ কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকরা একসাথে দু’টি স্থানই দেখতে পারবেন। মালদ্বীপ, মরিসাস বা পৃথিবীর অন্য কোন দ্বীপ থেকে এর সৌন্দর্য কম নেয়। বাড়তি পাওয়া সুন্দরবন তো আছেই।

৭ মার্চের ভাষণের ...

কাজী মোতাহার রহমান
৭ মার্চ ১৯৭১ সাল, রেসকোর্স ময়দান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ। ইতিহাস খ্যাত। মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রস্তুতি। যুদ্ধকালীন নয় মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা। ঐতিহাসিক এই ভাষণের ভুল উদ্ধৃতি প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ ও ...

বিস্তারিত...
close
৭ মার্চের ভাষণের ভুল উদ্ধৃতি পাঠ করছে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা
৭ মার্চ ১৯৭১ সাল, রেসকোর্স ময়দান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ। ইতিহাস খ্যাত। মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রস্তুতি। যুদ্ধকালীন নয় মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা। ঐতিহাসিক এই ভাষণের ভুল উদ্ধৃতি প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় নামক অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে। এই শ্রেণীর ত্রিশ লাখ শিক্ষার্থী ভুল উদ্ধৃতি পাঠ করছে প্রতিদিন। জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত এ পাঠ্যপুস্তকটি ২০১২ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে পড়ানো হচ্ছে। এদিকে ৭ মার্চের ভাষণে ভুল উদ্ধৃতি, স্বাধীনতার ঘোষণা অসম্পূর্ণ, প্রথম পতাকা উত্তোলনের তথ্য অসম্পূর্ণ, ৭১ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের ভিন্ন ছবির কথা স্বীকার করেছেন পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃপক্ষ। পাঠ্যপুস্তকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অধ্যায়ের পাঠ-২ এ ৭ মার্চের ভাষণের বৈশিষ্ট্য অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে নির্বাচিত দল হিসাবে আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেন। পাঠ্যপুস্তকে আরও বলা হয়েছে, তিনি এ বক্তৃতায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে ‘বাংলাদেশ’ শব্দ ব্যবহার করে ভবিষ্যত নুতন রাষ্ট্রের নামকরণ চূড়ান্ত করেন। বাংলাদেশের সংবিধানে প্রকাশিত এক হাজার একশ’ সাতটি শব্দের এই ভাষণে উল্লেখিত বাক্যগুলো নেই। বঙ্গবন্ধু’র স্বাধীনতা ঘোষণায় পাঠ্যপুস্তকের সাথে সংবিধানের ভাষ্য’র মিল নেই। এখানেও সাংঘর্ষিক রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকে এগারো পাতায় ১৩ জানুয়ারি ৭১ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ছবি ছাপা হয়েছে। দৈনিক ইত্তেফাকের ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের বাঙালি’ নামক ফটো এ্যালবামে এই ছবির পরিচিতিতে উল্লেখ করেন ১৯৫৩ সালের মহান ২১ ফেব্র“য়ারির প্রভাত ফেরিতে নগ্ন পায়ে ভাষানী-মুজিব। পাঠ্যপুস্তকের ১২ পাতায় ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে ‘১৫ ফেব্র“য়ারি ১৯৭১, জয়বাংলা বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার দেয়।’ ছবিটি মূলত ছাত্রলীগ ও ডাকসু আয়োজিত ২ মার্চ ঢাবিতে স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনের। পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃপক্ষের ভাষ্য : জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যপুস্তক বিশেষজ্ঞ মুনীরা বেগম এ প্রতিবেদককে জানান, কর্তৃপক্ষ এসব ত্র“টি নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী ষষ্ট থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে এসব ত্র“টি সংশোধন করা হবে। ৭ মার্চের ভাষণের রেকর্ড অনুযায়ী এবং সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকে সংশোধনী আনা হবে। দেশের শিক্ষার্থীরা ২০১৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে ত্র“টিমুক্ত পাঠ্যপুস্তক উপহার পাবে। শিক্ষার্থীদের হাতে সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে।