আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ ভাদ্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

ভূমিকম্পে কাঁপলো দেশ

খবর প্রতিবেদন
খুলনাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের বন্দরনগরী চাউক এলাকা। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্পটি আঘাত আনে। প্রায় ১০ থেকে ১২ সেকেন্ড এ কম্পন অনুভূত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্থ অবজারভেটরির তত্ত¡াবধায়ক অধ্যাপক সৈয়দ হুয়ায়ুন আখতার জানান, এই ভ‚মিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের চাউক অঞ্চলে, কেন্দ্র ছিল ভ‚-পৃষ্ঠের ৮৪ কিলোমিটার গভীরে। গত ১৩ এপ্রিল রাতে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সারাদেশ। সেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলও ছিলো মিয়ানমার। এদিকে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল ...

বিস্তারিত

সর্বশেষ আরও সংবাদ

খুলনায় এবার রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট

বছরে উৎপাদন ৪৭৭ মেট্রিক টন

আল মাহমুদ প্রিন্স

রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে খুলনায় ব্যবহৃত হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট। প্রাতিষ্ঠানিক ও কৃষক পর্যায়ে  চলতি বছরে এর উৎপাদন হয়েছে ৪৭৭ মেট্রিক টন। মাছের খামার, পাট, রবি শস্য, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন শাক-সবজিতে এই সার ব্যবহার হচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এর ...

বিস্তারিত

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত গণবিরোধী : খালেদা

‘সুন্দরবন ধ্বংস হলে বাসযোগ্য থাকবে না’

বিশেষ প্রতিনিধি

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্তকে দেশবিরোধী ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে সুন্দরবন ধ্বংস হলে বাংলাদেশ আর বাসযোগ্য থাকবে না। এই তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুন্দরবনের কাছ থেকে অন্য এলাকায় সরিয়ে ...

বিস্তারিত

সব সাংবাদিক হত্যার বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী

‘তাড়াতাড়ি অনলাইন পত্রিকার নীতিমালা করে ফেলবো’

খবর প্রতিবেদন

সব সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় বিচার হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে দুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় প্রথমবারের মতো এ অনুদান দেয়া হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ...

বিস্তারিত

খুলনার ১৩ হাজার হেক্টর জমির আমন ও শাক-সবজি পানিতে নিমজ্জিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত রবিবার দিনভর অতিবৃষ্টিতে নগরীর ২৫টি ওয়ার্ড ও জেলার ৬১টি ইউনিয়নের আমন ধান ও শাক-সবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। জমির পরিমাণ ১৩ হাজার হেক্টর। ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ কোটি টাকা। সরকারি খাস খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার ফলে অতিবৃষ্টির পানি ...

বিস্তারিত

জাতীয়

নিষিদ্ধ হচ্ছে আনসার আল ইসলাম

খবর প্রতিবেদন
নিষিদ্ধ হচ্ছে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। জঙ্গি হামলা ও একাধিক লেখক-ব্লগার হত্যার অভিযোগে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটি) প্রধান মনিরুল ইসলাম। গতকাল বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে ...

বিস্তারিত

খালেদার রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা কমেডি ছাড়া আর কী : আ’লীগ

সুন্দরবন আমরা তৈরি করে নিতে পারব না : সুলতানা কামাল

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে সোমবার ঢাকায় আসছেন জন কেরি

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত গণবিরোধী : খালেদা

সব সাংবাদিক হত্যার বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী

উইলস লিটলের ছাত্রী ছুরিকাঘাতে আহত

মীর কাসেম আলীর রিভিউ শুনানি রবিবার পর্যন্ত মুলতবি

ভূমিকম্পে কাঁপলো দেশ

গুলশানে হামলা : হাসনাতের জামিন আবেদন নাকচ

খালেদার বিরুদ্ধে নড়াইলে গ্রেফতারী পরোয়ানায় বিএনপি’র উদ্বেগ

তাবেলা হত্যাকান্ড : বিএনপি নেতা কাইয়ুমসহ দুই জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা

প্রকাশক দীপন হত্যা : পুরস্কারের জঙ্গি গ্রেফতার সিফাত রিমান্ডে

আরো সংবাদ

আঞ্চলিক

image gallery thumbnail

নগরীতে ব্যবসায়ীর নগ্ন ছবি তুলে চাঁদাবাজি : দু’নারীসহ গ্রেফতার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীতে আবারো এক মাছ ব্যবসায়ীর নগ্ন ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছাড়ার ভয় দেখিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় দু’নারীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিলো।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ...

বিস্তারিত

পাইকগাছায় ওয়াপদার ভেড়ীবাঁধে মারাত্মক ফাটল

প্রবল বর্ষণ ও উজানের পানির তোড় কপোতাক্ষ পাড়ের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও নৌপথ অচল

কাজী নজরুল ইসলাম পদকে ভূষিত কেএমপির ডিসি আব্দুল্লাহ আরেফ

খুমেক হাসপাতাল থেকে ৫ দালাল গ্রেফতার

খালিশপুরে প্রতারণা মামলায় তিন আসামি আটক

সাবেক খাদ্য পরিদর্শক কাদের মোল্লার ৫ বছরের কারাদণ্ড

নগরীতে তিনটি প্রতিষ্ঠান ও দু’ফল ব্যবসায়ীর জরিমানা

চাঁদাবাজি মামলায় এসআই সোহেল রানা কারাগারে

ডুমুরিয়ায় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে দশম শ্রেণীর ছাত্রী আহত

কালিগঞ্জে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর সময় আটক ২

মণিরামপুরে বাস চালকের ৪ মাস জেল প্রতিবাদে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক

ইতালিতে প্রবল ভূমিকম্পে অন্তত ৭০ নিহত

‘নিশ্চিহ্ন’ আস্ত একটা শহর

খবর প্রতিবেদন
ইতালির মধ্যাঞ্চলে ছয় দশমিক দুই মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৭০ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাগরিক সুরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র। বেশ কিছু ভবন ধসে পড়ে লোকজন চাপা পড়ে আছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ...

বিস্তারিত

খেলার মাঠে

ইংলিশদের নির্ভয়ে বাংলাদেশে আসার আহবান মাশরাফির

ক্রীড়া প্রতিবেদক
অন্য কোন কিছু নিয়ে নয়, শুধুই ক্রিকেট নিয়েই ভাবো আর বাংলাদেশে চলে আসো খেলতে। শঙ্কার মধ্যে থাকা ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরকে সামনে রেখে এমন আহবান জানালেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি। বুধবার মিরপুর শের এ বাংলা স্টেডিয়ামে ইংলিশ ...

বিস্তারিত

মাশরাফি-সাকিবদের প্রস্তুতি ম্যাচ আজ

খুলনায় ফেন্সিং প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু

খুলনায় কুস্তি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু হচ্ছে আজ

পাইকগাছায় আন্তঃ স্কুল ফুটবলে গড়ইখালী চ্যাম্পিয়ন

আন্তঃবাহিনী ফুটবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন নৌবাহিনী

ভুটানে সম্ভাবনা জাগিয়েও ড্র শেখ রাসেলের

কচুয়ায় জাতীয় স্কুল মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট নয় ইসিবি : শঙ্কায় ইংল্যান্ড সিরিজ

সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে শুরু হচ্ছে মাস্টার্স কাপ ক্রিকেট

কালিগঞ্জে আন্তঃস্কুল-মাদ্রাসা ফুটবলে বিষ্ণুপুর পিকেএম স্কুল চ্যাম্পিয়ন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভলিবলে চ্যাম্পিয়ন যশোর

ফুলতলায় আন্তঃ স্কুল ফুটবলে রি-ইউনিয়ন স্কুল চ্যাম্পিয়ন

আরো সংবাদ

বিনোদন

পরীমণির ব্যস্ততায় ‘পাষাণে’ নবাগতা এমি

খবর বিনোদন
ভীষণ ব্যস্ত হালের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণি। সিডিউল দিতে না পারায় ‘পাষাণ’ ছবিতে তাই অভিনয়ের সুযোগ পেলেন নবাগতা এমিয়া এমি। ছবিতে এমির বিপরীতে অভিনয় করবেন কলকাতার নায়ক ওম। অথচ ব্যস্ততা না থাকলে ওমের নায়িকা হিসেবে পরীমণিই ছিলেন পরিচালকের প্রথম পছন্দ। পাষাণের পরিচালক ...

বিস্তারিত

সময়ের খবর স্পেশাল

কেসিসি’র সীমানা দ্বিগুন ...

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনকল্যাণ মূলক উদ্দেশ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সীমানা স¤প্রসারণের লক্ষে জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। স¤প্রসারণের আওতায় ২০টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষে প্রস্তাবিত এলাকার অধিবাসীদের মতামত জানতে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দেয়া ...

বিস্তারিত...
close
কেসিসি’র সীমানা দ্বিগুন হচ্ছে
জনকল্যাণ মূলক উদ্দেশ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সীমানা স¤প্রসারণের লক্ষে জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। স¤প্রসারণের আওতায় ২০টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষে প্রস্তাবিত এলাকার অধিবাসীদের মতামত জানতে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার তিন জন সংসদ সদস্য এ ব্যাপারে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। সর্বশেষ স¤প্রসারণ করা হয় ১৯৯৮ সালে। ২০টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত হলে কর্পোরেশনের জায়গা হবে ৮৮ বর্গ কিলোমিটার অর্থাৎ বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ। ব্রিটিশ জামানায় ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই খুলনা মিউনিসিপ্যালিটির যাত্রা শুরু হয়। কর্পোরেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর কেসিসি’র তৃতীয় সাধারণ সভা ও ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ সাধারণ সভায় শহরতলীর ২৬টি মৌজা কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ওই সভায় উল্লেখ করা হয়, শহরতলীর উল্লিখিত মৌজায় কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুকুল পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়েছে। সর্বাধিক নাগরিক সুবিধাদি প্রদানের লক্ষে প্রস্তাবিত এলাকা কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা এবং সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ২০১৪ সালের ৮ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর প্রস্তাবিত স্থানসমূহে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মতামত চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ খুলনা জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠায়। সূত্রটি আরও জানায় চলতি বছরের ৯ ফেব্র“য়ারি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে উপ-সচিব সরোজ কুমার নাথ সীমানা স¤প্রসারণের লক্ষে গণবিজ্ঞপ্তি জারী করার জন্য জেলা প্রশাসনকে দাপ্তরিক পত্র পাঠান। জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান ২০টি মৌজায় কেসিসির অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীদের মতামত চেয়ে গত ৩০ এপ্রিল গণবিজ্ঞপ্তি জারী করেন। প্রস্তাবিত মৌজাগুলো হচ্ছে বটিয়াঘাটা উপজেলার হরিণটানা, মাথাভাঙ্গা, ডুবি, খোলাবাড়িয়া, আলুতলা, ঠিকরাবাধ, কৃষ্ণনগর, সাচিবুনিয়া (আংশিক), ডুমুরিয়া উপজেলার চকমথুরাবাদ, বিলপাবলা (আংশিক), চক আসান খালীর (আংশিক), দৌলতপুর থানার আড়ংঘাটা, তেলিগাতি, দেয়ানা, যুগীপোল, মশিয়ালীর (আংশিক), ফুলতলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ, আটরা, গিলাতলা ও শিরোমনি (সেনানিবাস এলাকা বাদে)। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত স্থানীয় অধিবাসীদের কোন আপত্তি জেলা প্রশাসনের দপ্তরে জমা পড়েনি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত এলাকার অধিবাসীদের আপত্তি গ্রহণের সর্বশেষ সময় ৩০ মে। পরবর্তীতে মন্ত্রী পরিষদের সভায় স¤প্রসারিত এলাকা ঘোষণা করা হবে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায় কেসিসি এলাকায় অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে সংসদ সদস্য (খুলনা-১) পঞ্চানন বিশ্বাস হরিণটানা, মাথাভাঙ্গা, ডুবি, খোলাবাড়িয়া, আলুতলা, ঠিকরাবাধ, কৃষ্ণনগর (সম্পূর্ণ), সাচিবুনিয়া গ্রামের আংশিক সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন। অপরদিকে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা আড়ংঘাটা, তেলিগাতি, যুগীপোল ও দেয়ানার আংশিক এলাকাকে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। তাছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ শিরোমনি, গিলাতলা, আটরা, শ্যামগঞ্জ, চকআসানখালীর আংশিক এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করার মতামত দিয়েছেন। তিনি ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। অধুনালুপ্ত খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুল হুদা ‘খুলনা পৌরসভার ১শ’ বছর’ নামক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, ১৮৮৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাংলার লেফটেনেন্ট গভর্নর খুলনাকে মিউনিসিপ্যালিটি ঘোষণা করেন। ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই কয়লাঘাট, হেলাতলা, বানিয়াখামার, টুটপাড়া, গোবরচাকা, শেখপাড়া, নূরনগর, শিববাড়ি, চারাবাটি, ছোট বয়রা ও বারিয়াপাড়া নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। তখন কর্পোরেশনের এলাকা ছিল ৪ দশমিক ৬৪ বর্গকিলোমিটার। রেভারেণ্ট গগনচন্দ্র দত্ত প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালের মিউনিসিপ্যালিটি এ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও অর্ডিনেন্স অনুযায়ী এ মিউনিসিপ্যালিটির আয়তন ১৪ দশমিক ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় স¤প্রসারণ করা হয়। তখন ১৪টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়। ১৯৬২ সালে রায়েরমহল, বয়রা, গোয়ালপাড়া, দৌলতপুর, মহেশ্বরপাশা এলাকা মিউনিসিপ্যালিটির অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি নাম পরিবর্তন করে ‘খুলনা পৌরসভা’ নামকরণ করা হয়। ১৯৭৪ সালের ২০ ফেব্র“য়ারি ন্যাপ নেতা গাজী শহিদুল্লাহ স্বাধীনতা উত্তরকালে খুলনা পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ পৌর কর্পোরেশন ঘোষণা করেন। ১৯৯০ সালের ৮ আগস্ট সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়। কাজী আমিনুল হক মেয়র মনোনীত হন। তিনি খুলনার প্রথম মেয়র। ১৯৯২ সালে ইউনিয়ন বাতিল করে ৩১টি ওয়ার্ডে স¤প্রসারণ করা হয়। ২০১৩ সালের ১৫ জুন সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি’র নগর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি মেয়র নির্বাচিত হন। কর্পোরেশনের এখনকার আয়তন ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার এবং বসতি সাত লাখ মানুষের।

অবশেষে খুলনা-মংলা রেল ...

মোহাম্মদ মিলন
অবশেষে খুলনা-মংলা রেল লাইন প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের রূপসা সেতুর অদূরে রেল ব্রীজ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প এলাকায় চলছে সয়েল টেস্টের কাজ। অপরদিকে ভূমি ...

বিস্তারিত...
close
অবশেষে খুলনা-মংলা রেল লাইন প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু
অবশেষে খুলনা-মংলা রেল লাইন প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের রূপসা সেতুর অদূরে রেল ব্রীজ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প এলাকায় চলছে সয়েল টেস্টের কাজ। অপরদিকে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না হওয়ায় এখনও পর্যন্ত শুরু হয়নি রেল লাইন নির্মাণের কাজ। তবে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর শিগগিরই জমি অধিগ্রহণ শুরু করা হবে। দেয়া হবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ জানালেন জেলা প্রশাসন। সেই সাথে চলতি মাসে ভারতের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রেললাইন নির্মাণ কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে। এদিকে, খুলনা-মংলা রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার গুরুত্ব বেড়ে যাবে। সেই সাথে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর লবণচরার মাথাভাঙা এলাকায় খুলনা-মংলা রেল সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প এলাকায় বিভিন্ন মেশিনসহ প্রয়োজনীয় মালামাল আনা হয়েছে। এখানে চলছে সয়েল টেস্টের কাজ। জমিতে এবং নদীর অভ্যন্তরে উভয় স্থানে কাজ চলছে। রূপসা রেল সেতু নির্মাণ কাজের সাব কন্ট্রাক্টর গৃহায়ন লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান সময়ের খবরকে জানান, গত ৮ এপ্রিল প্রকল্প এলাকায় আসা হয়। আর ১৪ এপ্রিল থেকে সয়েল টেস্টের কাজ শুরু করা হয়েছে। রেল সেতু নির্মাণের জন্য রূপসা নদী এবং নদীর দুই পাড়ের ১৪৪টি স্থানে সয়েল টেস্ট করা হবে। ইতোমধ্যে ৮টি স্থানে সয়েল টেস্টের কাজ শেষ করা হয়েছে। আরও ৮টি স্থানে বোরিংয়ের কাজ চলছে। দেড় মাসের মধ্যে সয়েল টেস্টের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। তবে, পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে সময় আরও বেশী লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রকল্পের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুর রহিম সময়ের খবরকে জানান, খুলনা-মংলা রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে রূপসা নদীতে রেল সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ব্রীজের জন্য ভারতের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লারসেন এন্ড টাব্র সয়েল টেস্টের কাজ শুরু করেছেন। এরপর পাইলিংয়ের কাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, রেল লাইন নির্মাণের কাজে এখন আর কোন বাধা নেই। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন খুলনা-বাগেরহাটের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূণ দেয়ার পর জেলা প্রশাসন রেলওয়ের কাছে জমি হস্তান্তর করবে। এরপর কাজ শুরু হবে। তবে, ফুলতলার দেড় কিলোমিটার এবং মংলা পোর্টের ৬ কিলোমিটার সর্বমোট সাড়ে ৭ কিলোমিটার সরকারি জমি রয়েছে। এই জমিতে কাজ শুরু করতে কোন সমস্যা নেই। চলতি মাসে রেল লাইন নির্মাণের জন্য ভারতের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইরকন প্রকল্প এলাকায় আসবে। রেল সেতুর পাশাপাশি অচিরেই রেল লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী। খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল আহসান সময়ের খবরকে জানান, খুলনা-মংলা রেল সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া রেল লাইনের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য কিছু টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পত্র পাওয়া গেলে জমির মালিকদের ৬ ধারা নোটিশ প্রদান করা হবে। এরপর তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করা হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা-মংলা রেলপথ প্রকল্পটির কাজ ৩টি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি রেল সেতু, অপরটি রেল লাইন এবং অন্যটি টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং। এ প্রকল্পে ৭৫০ একর জমির প্রয়োজন হবে। অধিগ্রহণের জন্য খুলনার ৪০১.২৭৯০২ একর, বাগেরহাটের ২৭৫.০২৫৭ একর ও মংলা কর্তৃপক্ষের ৭৩.৩৫৭ একর জমি প্রয়োজন হবে। এদিকে, প্রকল্পের অধীনে লুপ লাইনসহ রেলওয়ে ট্র্যাকের দৈঘ্য ৮৬ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ হবে। এর মধ্যে রূপসা নদীর উপরে হযরত খানজাহান আলী সেতুর দেড় কিলোমিটার দূরে যুক্ত হবে ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রেল সেতু। এছাড়া ২১টি ছোটখাট ব্রীজ ও ১১০টি কালভার্ট নির্মিত হবে। ফুলতলা থেকে মংলা পর্যন্ত ৮টি স্টেশন হবে। স্টেশনগুলোর মধ্যে ফুলতলা, আড়ংঘাটা, মোহাম্মদ নগর, কাটাখালী, চুলকাঠি, ভাগা, দিগরাজ ও মংলা। এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে ২১ শতাংশ বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেললাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ এবং ব্রীজের জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাকী টাকা জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ও ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই রেলপথটি নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের রেললাইন তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ভারতের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভারতের ইরকন সাথে চুক্তি হয়েছে। আর ব্রীজ তৈরির জন্য ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারতের লারসেন এন্ড টাব্র নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) খুলনা-মংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন করে। পরে ২০১২ সালের নভেম্বর প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পায় ভারতের সিইজি নিপ্পন কোয়ি জেভি প্রতিষ্ঠান।

নগরীতে ‘মরণ ফাঁদ’ ...

এস এম আমিনুল ইসলাম
নগরীর সড়কগুলোর দু’পাশে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য বৈধ ও অবৈধ মিনি পোল, ইউনি পোল ও বিলবোর্ড। প্রাকৃতিকসহ নানা কারনে এসব বিলবোর্ড সড়কের উপর ভেঙ্গে ও হেলে পড়ছে। ফলে ওই ...

বিস্তারিত...
close
নগরীতে ‘মরণ ফাঁদ’ বিলবোর্ড
নগরীর সড়কগুলোর দু’পাশে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য বৈধ ও অবৈধ মিনি পোল, ইউনি পোল ও বিলবোর্ড। প্রাকৃতিকসহ নানা কারনে এসব বিলবোর্ড সড়কের উপর ভেঙ্গে ও হেলে পড়ছে। ফলে ওই সব সড়ক দিয়ে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। মাঝে মধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনা। নাগরিক নেতাদের অভিমত, সড়কের দু’পাশে স্থাপিত এসব বিলবোর্ডের ফলে প্রাণহানীসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘœসহ শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। তাই এসব দ্রুত অপসারণের দাবি জানান তারা। অবশ্য কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র বলছেন, ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু বিলবোর্ড অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত তা কার্যকর করা হবে। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ে নগরীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও আলোচনায় এসেছে সড়কের দু’পাশে স্থাপিত বিলবোর্ড। মহানগরীর সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ২টিসহ জোড়াগেট, নিরালা, শিববাড়ী, গল্লামারী, ডাকবাংলা, বয়রা, নিউমার্কেট ও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বিলবোর্ড সড়কের উপর ভেঙ্গে ও হেলে পড়েছে। এমতাবস্থায় বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নানা শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন মোট ১ হাজার ২শ’ ১৫টি সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের দু’পাশে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য বৈধ ও অবৈধ মিনি পোল, ইউনি পোল ও বিলবোর্ড। বৈধ বিলবোর্ডের মাধ্যমে কর্পোরেশন মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় করে থাকে। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে এসব বোর্ড স্থাপন করায় প্রাকৃতিকসহ নানা কারনে এগুলো সড়কের উপর হেলে পড়ছে। যে কোন সময় এগুলোর কারনে প্রাণহানীসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। নগরীর কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঝড়ে সড়কের উপর বড় বড় বিলবোর্ড হেলে পড়ায় স্বাভাবিক যানবাহন চলেচলে বিঘœ ঘটছে। তাছাড়া এ বিলবোর্ড যানবাহন ও মানুষের উপর পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, সড়কের দু’পাশে স্থাপিত এসব বিলবোর্ডের ফলে প্রাণহানীসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া এসব বিলবোড যানবাহন চলাচলে বিঘœসহ শহরের সৌন্দর্যও নষ্ট করছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা রয়েছে সড়কের পাশে কোন বিল বোর্ড রাখা যাবে না। তাই জনস্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব কর্পোরেশনের উচিত সড়কের পাশ থেকে এসব বিলবোর্ড অপসারণ করা। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কর্পোরেশনের এস্টেট অফিসার মোঃ নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ব্যস্ততম সড়ক ও জনবহুল এলাকায় বিলবোর্ডগুলো বেশ ঝুঁকির তৈরি করছে। এর ফলে যানমালের ক্ষতি হতে পারে। তাই ওইসব এলাকাগুলো থেকে বিলবোর্ড অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে। কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ আনিছুর রহমান বিশ্বাষ বলেন, ইতোমধ্যে নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দুই তিন দিনের মধ্যেই এসব বিলবোর্ড অপসারণ করা হবে। এছাড়া কর্পোরেশনের অনুমতি ব্যতিরেকে নগরবাসীর বাড়ির ছাদে যে বিল বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে সে বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে আগামী সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সম্ভাবনার নতুন ভূখন্ড ...

মুনির উদ্দীন আহমদ
চারিদিকে স্বচ্ছ নীল সাগরের অথৈ পানি, অবিরাম ঢেউ ভাঙছে দীর্ঘ বালুচরে ছলাত ছলাত শব্দে। বালুচরে বসতি গেড়েছে হাজার হাজার লাল কাঁকড়া। অমিত সম্ভাবনা নিয়ে বঙ্গোপসাগরের বুকে ধীরে ধীরে মাথা তুলছে ...

বিস্তারিত...
close
সম্ভাবনার নতুন ভূখন্ড ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’
চারিদিকে স্বচ্ছ নীল সাগরের অথৈ পানি, অবিরাম ঢেউ ভাঙছে দীর্ঘ বালুচরে ছলাত ছলাত শব্দে। বালুচরে বসতি গেড়েছে হাজার হাজার লাল কাঁকড়া। অমিত সম্ভাবনা নিয়ে বঙ্গোপসাগরের বুকে ধীরে ধীরে মাথা তুলছে বিশাল ভূখন্ড, বর্তমানে যার আয়তন প্রায় ১৫ বর্গ কিলোমিটার। যদিও দেশের মানচিত্রে এখনও ঠাঁই পায়নি এই দ্বীপটি। মাঘী পূর্ণিমায় দুবলার চরের রাশ মেলা পর্যটকদের কাছে ইতোমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের তীরে এই দুবলার চর। শীত মৌসুমে হাজার হাজার জেলে এখানে ভীড় জমায়। পশ্চিম পাড়ে মংলা বন্দর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে হিরণ পয়েন্ট পাইলট স্টেশন। মাঝে প্রমত্তা পশুর নদীর মোহনা। এই হিরণ পয়েন্টের ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে নতুন এই দ্বীপ। নেভীগেশনাল ম্যাপে এর পূর্ব নাম ঝধৎধিৎ ংধহফং. শীত এবং বর্ষায় হাজার হাজার পরীজায়ী পাখি এই দ্বীপে আস্তানা গাড়ে। তিন মাস তারা ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বড় করে চলে যায় সেই সুদূরে। জেলেরা মাঝে মাঝে দ্বীপ থেকে ডিম সংগ্রহ করে। সেজন্য তারা নাম দিয়েছিল ডিমের চর, যার বর্তমান নাম ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’। গত ৫/৭ বছরে দ্বীপটি জেগে উঠলেও পারতপক্ষে কেউ ওদিকে যাওয়ার সাহস পেত না। এমন কি অনুমতি না থাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী বা কোস্টগার্ডও ঐ দ্বীপে যায়নি। অনেকে বলে, ‘জলদস্যুদের ঘাঁটি ঐ দ্বীপ। জেলেদেরকে জিম্মি করে ওখানে রেখে মুক্তিপণ আদায় করে তারা।’ গত ৫ মার্চ এই দ্বীপে প্রথম পা দেন কোস্টগার্ডসহ প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা। কারণ কোস্টগার্ড জলদস্যু দমন এবং উপকূলবর্তী জেলেদের ও মংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমুদ্রগামী জাহাজের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ঐ দ্বীপে একটি সার্ভেইলেন্স স্টেশন করার অনুমতি চেয়েছে। ৫ মার্চ ভোরে পৌঁছলাম মংলা কোস্টগার্ড স্টেশনে। খুলনা থেকে যোগ দিলেন এডিসি (রেভেনিউ) দ্বীপঙ্কর বিশ্বাস ও এডিসি (এলএ) সুলতানুল আলম। বাগেরহাট থেকে এসেছেন তিন সাংবাদিক বন্ধু। সকাল ৯টায় উঠলাম আমেরিকার তৈরি হাইস্পীড ক্রুজার-সার্কে। বিশ নটিকাল মাইল গতিতে পশুর নদীর বুক চিরে দু’পাশে বিশাল ঢেউ তুলে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চললো সার্ক। ভাটার টানে তিন ঘন্টায় পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে। সবাই অপলকে তাকিয়ে আছি অদূরের নতুন ছোট্ট ভূখন্ডের দিকে। তীর তখনও ৫ কিলোমিটার দূরে। সার্কের সোনার নির্দেশ করছে ২ মিটার পানি। এই অগভীর পানিতে সার্ক চলবে না। আগে থেকে ঠিক করে রাখা উপকূলে চলাচলকারী জেলে নৌকায় গিয়ে উঠলাম। এক কিলোমিটার বাকি থাকতেই সাম্পানের তলা মাটিতে ঠেকে গেল। শেষ ভরসা ডিঙি নৌকা। কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে যেতে হবে। প্রথম ব্যাচে আমরা ছ’জন। একশ’ গজ দূরে ডিঙি নৌকার তলাও ঠেকে গেল। বাধ্য হয়ে নামতে হলো হাটু পানিতে। যেয়ে উঠলাম দ্বীপটিতে। সবার চোখে মুখে নতুন দেশ আবিস্কারের আনন্দ। চোখ মেলালাম দ্বীপের দিকে। উত্তর দক্ষিণে আনুমানিক প্রায় আট কিলোমিটার লম্বা হয়ে সমুদ সৈকত শুয়ে আছে। চিকচিক করছে বালি। হাজার হাজার লাল কাঁকড়ায় ছেয়ে আছে দীর্ঘ বালুতট। চারদিকের নীল বঙ্গোপসাগরের অবিরত ঢেউ সাদা মুকুট পরে স্বগর্জনে আছড়ে পড়ছে বালুতটে। সকলে অবাক বিস্ময়ে প্রাণ ভরে উপভোগ করছি প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে। এরপর একসাথে পা বাড়ালাম দ্বীপের উপরে। বুক সমান নল খাগড়ার ঝোপ। কেওড়া, সুন্দরী, হেতাল, গোল, বন কলমিসহ নাম না জানা বহু প্রজাতির গাছ, লতা ধীরে ধীরে সবুজ করে সাজিয়ে তুলছে নতুন এই দ্বীপ কন্যাকে। অদূরে সুন্দরী ২০-২৫ হাত লম্বা হয়ে গেছে। স্থানীয় এক জেলে বললেন, “শীতকালে দ্বীপের উত্তরে ৫ ভাগ ও বর্ষাকালে প্রায় ৩০ ভাগ পূর্ণ জোয়ারের সময় ডুবে যায়। ধীরে ধীরে ডোবার জায়গা কমে আসছে, বড় হচ্ছে দ্বীপ।” হরিণ ও বড় ধরনের সাপের চলাচলের ছাপও পাওয়া গেল। হরিণ সম্ভবত জলদস্যুরা সুন্দরবন থেকে ধরে এনে ছেড়ে দিয়েছে। নতুবা বিশ কিলোমিটার প্রমত্ত বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে আসা হরিণের পক্ষে সম্ভব নয়। জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা জেলে ও পর্যটকদের ব্যবহার্য স্যান্ডেল, জুতা, পানির বোতলসহ প্রচুর বর্জ্য দ্বীপটিতে পাওয়া গেল। প্রাথমিক জরিপ শেষে এডিসি দ্বীপঙ্কর বিশ্বাস বললেন, পূর্ণাঙ্গ জরিপের পর দ্বীপটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হবে। তারপর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, দ্বীপটি কোস্টগার্ড না বন বিভাগকে দেয়া যায়। এ ব্যাপারে কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেহেদী মাসুদ বলেন, নেপাল-ভুটানের সাথে বাণিজ্য শুরু ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লাবাহী জাহাজ আসতে শুরু করলে মংলা বন্দরে জাহাজের আগমন নির্গমন বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে। চট্টগ্রাম বন্দরে এধরনের সার্ভেইলেন্স স্টেশন থাকলেও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে তা নেই। ফলে এখানে একটি সার্ভেইলেন্স স্টেশন করা গেলে নিরাপত্তা বিধান করা সম্ভব হবে। সরকার ইচ্ছা করলে ভবিষ্যতে দেশী বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে দ্বীপটি সমৃদ্ধ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। লেঃ রাহাত বললেন, ফিরতে হবে। জোয়ার ধরতে না পারলে খুলনায় ফিরতে দেরি হয়ে যাবে। একই ভাবে ফিরলাম সার্কে। পেছনে পড়ে রইল অমিত সম্ভাবনা নিয়ে জেগে ওঠা ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’। ঠিকমত একে সাজানো গেলে, নিরাপত্তা দিলে আগামী মৌসুমেই দুবলার চরে রাশ মেলার সময় লাখো পর্যটকের মিলন মেলা হতে পারে দ্বীপটি। কক্সবাজারের পর এত লম্বা সমুদ সৈকত দেশে আর কোথাও নেই। সেন্ট মার্টিন থেকেও বড় এই দ্বীপ। মূল ভূখন্ড থেকে অনেক কাছে। মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্কও এখানে ভাল। দুবলার চর ও বঙ্গবন্ধু দ্বীপ কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকরা একসাথে দু’টি স্থানই দেখতে পারবেন। মালদ্বীপ, মরিসাস বা পৃথিবীর অন্য কোন দ্বীপ থেকে এর সৌন্দর্য কম নেয়। বাড়তি পাওয়া সুন্দরবন তো আছেই।

৭ মার্চের ভাষণের ...

কাজী মোতাহার রহমান
৭ মার্চ ১৯৭১ সাল, রেসকোর্স ময়দান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ। ইতিহাস খ্যাত। মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রস্তুতি। যুদ্ধকালীন নয় মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা। ঐতিহাসিক এই ভাষণের ভুল উদ্ধৃতি প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ ও ...

বিস্তারিত...
close
৭ মার্চের ভাষণের ভুল উদ্ধৃতি পাঠ করছে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা
৭ মার্চ ১৯৭১ সাল, রেসকোর্স ময়দান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ। ইতিহাস খ্যাত। মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রস্তুতি। যুদ্ধকালীন নয় মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা। ঐতিহাসিক এই ভাষণের ভুল উদ্ধৃতি প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় নামক অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে। এই শ্রেণীর ত্রিশ লাখ শিক্ষার্থী ভুল উদ্ধৃতি পাঠ করছে প্রতিদিন। জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত এ পাঠ্যপুস্তকটি ২০১২ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে পড়ানো হচ্ছে। এদিকে ৭ মার্চের ভাষণে ভুল উদ্ধৃতি, স্বাধীনতার ঘোষণা অসম্পূর্ণ, প্রথম পতাকা উত্তোলনের তথ্য অসম্পূর্ণ, ৭১ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের ভিন্ন ছবির কথা স্বীকার করেছেন পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃপক্ষ। পাঠ্যপুস্তকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অধ্যায়ের পাঠ-২ এ ৭ মার্চের ভাষণের বৈশিষ্ট্য অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে নির্বাচিত দল হিসাবে আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেন। পাঠ্যপুস্তকে আরও বলা হয়েছে, তিনি এ বক্তৃতায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে ‘বাংলাদেশ’ শব্দ ব্যবহার করে ভবিষ্যত নুতন রাষ্ট্রের নামকরণ চূড়ান্ত করেন। বাংলাদেশের সংবিধানে প্রকাশিত এক হাজার একশ’ সাতটি শব্দের এই ভাষণে উল্লেখিত বাক্যগুলো নেই। বঙ্গবন্ধু’র স্বাধীনতা ঘোষণায় পাঠ্যপুস্তকের সাথে সংবিধানের ভাষ্য’র মিল নেই। এখানেও সাংঘর্ষিক রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকে এগারো পাতায় ১৩ জানুয়ারি ৭১ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ছবি ছাপা হয়েছে। দৈনিক ইত্তেফাকের ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের বাঙালি’ নামক ফটো এ্যালবামে এই ছবির পরিচিতিতে উল্লেখ করেন ১৯৫৩ সালের মহান ২১ ফেব্র“য়ারির প্রভাত ফেরিতে নগ্ন পায়ে ভাষানী-মুজিব। পাঠ্যপুস্তকের ১২ পাতায় ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে ‘১৫ ফেব্র“য়ারি ১৯৭১, জয়বাংলা বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার দেয়।’ ছবিটি মূলত ছাত্রলীগ ও ডাকসু আয়োজিত ২ মার্চ ঢাবিতে স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনের। পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃপক্ষের ভাষ্য : জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যপুস্তক বিশেষজ্ঞ মুনীরা বেগম এ প্রতিবেদককে জানান, কর্তৃপক্ষ এসব ত্র“টি নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী ষষ্ট থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে এসব ত্র“টি সংশোধন করা হবে। ৭ মার্চের ভাষণের রেকর্ড অনুযায়ী এবং সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকে সংশোধনী আনা হবে। দেশের শিক্ষার্থীরা ২০১৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে ত্র“টিমুক্ত পাঠ্যপুস্তক উপহার পাবে। শিক্ষার্থীদের হাতে সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে।

গল্লামারী-সোনাডাঙ্গা সড়কের বৈদ্যুতিক ...

এস এম আমিনুল ইসলাম
নগরীর গল্লামারী-সোনাডাঙ্গা আউটার বাইপাস সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো স্থানান্তর ছাড়াই চলছে ৬ লেনে উন্নীতকরণ। আর এর ফলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি, যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে বড় ধরনের এ উদ্যোগ ভেস্তে যাবার আশঙ্কা ...

বিস্তারিত...
close
গল্লামারী-সোনাডাঙ্গা সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তর ছাড়াই চলছে ৬ লেনে উন্নীতকরণ?
নগরীর গল্লামারী-সোনাডাঙ্গা আউটার বাইপাস সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো স্থানান্তর ছাড়াই চলছে ৬ লেনে উন্নীতকরণ। আর এর ফলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি, যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে বড় ধরনের এ উদ্যোগ ভেস্তে যাবার আশঙ্কা নগরবাসীর। অবশ্য কেসিসি কর্মকর্তারা বলছেন, খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলতে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে। স¤প্রতি সড়কটি প্রস্ততকরণে ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কেসিসি। কর্পোরেশনের নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, গল্লামারী থেকে সোনাডাঙ্গা পর্যন্ত ১.৭২ কিলোমিটার আউটার বাইপাস সড়কটি নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে বিবেচিত। খুলনা থেকে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মংলা, কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা রুটের সকল বাস ও ট্রাক সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাতায়াতে এ সড়কটি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য রিক্সা, ইজিবাইক, ভ্যান ও মানুষও চলাচল করে এ সড়কে । অপরদিকে, জিরোপয়েন্ট ও গল্লামারী, সোনাডাঙ্গা, বয়রা ও দৌলতপুর এলাকার মাঝে এ সড়কটি অবস্থিত। ফলে ওই এলাকা ঘিরে ও কাছাকাছি পাইকারী কাঁচাবাজার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বে-সরকারি কলেজ, অসংখ্যক সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। তাছাড়া শহর প্রসারিত হওয়ায় বর্তমান সড়কটি ব্যবহারের মাত্রা বেড়েছে বহুগুণে। এ অবস্থায় সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে ৬ লেনে উন্নীতকরণে একটি প্রকল্প নেয় কর্পোরেশন। প্রকল্পে রয়েছে ৬ লেনে উন্নীতকরণ, পথচারীদের হাঁটার জন্য ফুটপথ ও বসার ব্যবস্থা, ভ্যান সাইকেল চলাচল ও পার্কিং ব্যবস্থা, পথচারী পারাপার, ডিভাইডার উপর ফুলের গাছ লাগনো ও পানি নিষ্কাশনের জন্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ইত্যাদি। যা বর্তমানে এডিবি ও কেএফডাব্লু-এর অর্থায়নে ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে কর্পোরেশনের নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। কিন্তু সড়কটির উন্নয়নে প্রস্ততকরণের ফলে সড়কের ভিতরে রয়েছে বেশ কিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি। যা আপাতত স্থানান্তরের কোন উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না কর্পোরেশনের। সংশ্লিষ্ট এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সড়কটি উন্নয়ন ও ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজ বেশ এগিয়ে গেছে। কিন্তু সড়কের উপর চলে আসা ওই খুঁটিগুলো অপসারণ ও স্থানান্তরের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তারা আরও বলেন, খুঁটিগুলো স্থানান্তর ছাড়াই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি, যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে কেসিসি’র নেয়া এ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে। কেসিসির সিআরডিপি প্রকল্পে কর্মরত প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ছয়ফুদ্দিন (প্রেষণে) সময়ের খবরকে বলেন, সড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণে কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে স্বল্প সময়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে, যানজট ও দুর্ঘটনা কমে আসবে, যাতায়াত ঝুঁকিমুক্ত হবে, এবং নগরীর শ্রীবৃদ্ধি পাবে। তবে কর্পোরেশন নির্দেশনা পেলে খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলতে তাদের কোন বাধা নেই বলে জানান তিনি। অবশ্য কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নাজমুল ইসলাম বলেন, খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংসদে বিল পাসের ...

মোহাম্মদ মিলন
সংসদে বিল পাস হওয়ার সাত মাস অতিক্রম হলেও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না আসায় নিয়োগ হয়নি প্রকল্প পরিচালক, আর এজন্য নেয়া হয়নি অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ। খুলনায় ...

বিস্তারিত...
close
সংসদে বিল পাসের সাত মাসেও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়নি
সংসদে বিল পাস হওয়ার সাত মাস অতিক্রম হলেও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না আসায় নিয়োগ হয়নি প্রকল্প পরিচালক, আর এজন্য নেয়া হয়নি অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ। খুলনায় পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ক্ষেত্রে যেমন প্রসার ঘটবে, তেমনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরো একটি প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়িত হবে। কৃষি বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার প্রসার এবং কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়ে উন্নত শিক্ষাদান, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও হস্তান্তর এবং দেশীয় কৃষির উৎপাদন বাড়ানোর স্বার্থে খুলনা অঞ্চলে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনার খালিশপুরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্র“তি দেন। এরপর নগরীর দৌলতপুরের কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অব্যবহৃত ৫০ একর জমি এবং পাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন ১২ একর জমি নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেয়া হয়। মন্ত্রিসভায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়া অনুমোদনের পর তা পাসের জন্য সংসদে পাঠানো হয়। কৃষি ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা, সমতা অর্জন ও জাতীয় পর্যায়ে কৃষি বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করতে সুনির্দিষ্ট বিধিসহ খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যলয় স্থাপনের বিধান রেখে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ চলতি বছরের ৫ জুলাই সংসদ অধিবেশনে ‘খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৫’ পাসের জন্য উত্থাপন করেন এবং তা অনুমোদন পান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) সময়ের খবরকে জানান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি খুলনায় স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে, এখনও ভাইস চ্যান্সেলর বা প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, যিনি ভাইস চ্যান্সেলর হবেন তাকেই প্রকল্পের পরিচালক করা হবে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আসলে প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে। কিন্তু তা কবে নাগাদ হতে পারে তা কেউ বলতে পারছেন না। এদিকে নগরীর দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলে আমাদের আর বাইরে গিয়ে লেখাপড়া করতে হবে না। এখানেই স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা নিয়ে কৃষকদের সহায়তা করতে পারবো।’ একইভাবে অপর শিক্ষার্থী মোঃ আবুল হোসেন বলেন, ‘খুলনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় না থাকার কারণে ইচ্ছা থাকলেও পড়তে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়টি হলে এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এ অঞ্চলের কৃষি ক্ষেত্রে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।’ খুলনা মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা সময়ের খবরকে জানান, ‘খুলনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা কৃষি শিক্ষার সুযোগ পাবে। এখান থেকে নেওয়া টেকনোলজি আমাদের কৃষকদের নানা উপকারে আসবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষির জন্য রয়েছে স্বল্প সিট। ফলে শিক্ষার্থীদের ঢাকা, ময়মনসিংহসহ বাইরে গিয়ে লেখাপড়া করতে হয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়টি হলে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে ...

সুমন আহমেদ
২০০৭ সালে ইস্যু করা জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতার নাম ভুল। মিল নেই মাধ্যমিকের সনদের জন্ম তারিখ। সংশোধনে বয়রাস্থ থানা নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে দ্বারস্থ হন। জানতে পারেন ত্র“টিমুক্ত পিতার আইডি আনতে হবে। ...

বিস্তারিত...
close
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে নানা ভোগান্তি বিনামূল্যের ফরম ফটোকপির দোকানে!
২০০৭ সালে ইস্যু করা জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতার নাম ভুল। মিল নেই মাধ্যমিকের সনদের জন্ম তারিখ। সংশোধনে বয়রাস্থ থানা নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে দ্বারস্থ হন। জানতে পারেন ত্র“টিমুক্ত পিতার আইডি আনতে হবে। পিতার আইডি নেই। ২২ বছর আগে তিনি মারা গেছেন। বিকল্প মায়ের আইডি কার্ড। তাতেও রয়েছে স্বামীর নাম ভুল। তাও সংশোধন করতে হবে। তবেই নিজের আইডি করা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তা জানান। সরেজমিনে গত ৩ ফেব্র“য়ারি বুধবার দুপুরে আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় পরিদর্শনে গেলে নগরীর ২৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ ইব্রাহিম খলিল এসব বলেন। তিনি আরও বলেন, সবকিছু শুনে শেষমেষ ওই কর্তার কাছে ফরম চাইলেন। বিনামূল্যে থানা নির্বাচন কমিশনার বিতরণের কথা থাকলেও দেননি তিনি। বরং স্বল্প মূল্যে বাহিরের ফটোকপির দোকানে পাওয়া যাচ্ছে জানালেন। তবে কি? এসব কর্মকর্তারা ওদের দিয়ে ফরম বিক্রি করে ব্যবসা করছেন! মন্তব্য তার। আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয় প্রবেশমুখে ডান পাশে দেখা গেল, বোর্ডের সাথে দেয়ালে জুড়ে নোটিশ/বিজ্ঞপ্তি দেয়া। প্রায় প্রতিটি নোটিশে ছোট্ট করে লেখা, ’’পাসপোর্ট অফিসের সামনে ও ট্রাকস্ট্যান্ডের পাশে ফটোকপির দোকানে সকল আবেদন ফরম পাওয়া যায়।’’ এছাড়া ডুপ্লিকেট কপি পেতে নির্দিষ্ট ফরমে থানার জিডি মূল কপি ও সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখায় ২শ’ টাকার সাথে ৩০ টাকা ভ্যাট জমার রশিদ কপিসহ স্বশরীরে হাজির হয়ে আবেদন করতে হবে। আরও দেখা গেল নতুন ভোটার নিবন্ধন হতে জন্ম নিবন্ধন, কাউন্সিলরের নাগরিক সনদ, এসএসসি সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), পিতা/মাতার এনআইডি ফটোকপি, স্বামী/স্ত্রী’র এনআইডি ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), পৌর কর/বিদ্যুৎ/পানি/টেলিফোন বিলের ফটোকপি, ভাড়াটিয়া হলে ভাড়ার রশিদ ও সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখায় ২শ’ টাকার সাথে ৩০ টাকা ভ্যাট জমার রশিদ কপিসহ সকল কাগজের সত্যায়িত কপি নিয়ে স্বশরীরে হাজির হতে হবে। এনআইডি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে করণীয় মর্মে নোটিশে রয়েছে, আবেদনকারীর এনআইডি ফটোকপি, ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নিজস্ব প্যাডে স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র, পৌর কর/বিদ্যুৎ/পানি/টেলিফোন বিলের ফটোকপি, ভাড়াটিয়া হলে ভাড়ার রশিদসহ চাহিদার আলোকে অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে হবে। কথা হয় ১০১নং রুমে দায়িত্বরত এমএলএসএস মোস্তাকের সাথে। জানা যায়, সংশোধনে আবেদন করলে ৫/৬ মাস পর পাওয়া যায়। এর আগে নিতে হলে ঢাকায় যেতে হবে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিকল্প কি? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন ঢাকায় গিয়ে পরিচিতজনদের দ্বারা অথবা টাকা-পয়সা খরচ করে স্বল্প সময়ে পেতে পারবেন। খুলনা অফিস থেকে স্বল্প সময়ে পাওয়ার সুযোগ নেই। শুধুমাত্র ডাটা কালেকশন করে প্রেরণ করাই তাদের কাজ। তারপর কে পেল? পেল না। তা তাদের বিষয় নয়। ১০৩নং কক্ষে দায়িত্বরত থানা নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ের অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান ও শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের কথোপকথন পরিলক্ষিত হয়। মেহেদী নিজের আইডি সংশোধন করতে এসে শোনেন পিতারটা লাগবে। মেহেদী পিতার আইডিতে ভুল রয়েছে জানালে কর্মকর্তা মায়েরটা আনতে বলেন। মায়ের আইডি কার্ডেও ভুল আছে। এমন কথায় ওই কর্তা ঠাট্টা করে শোনায় আপনার সবই ভুল, সংশোধন করা লাগবে না। অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান বলেন, সদর থানাভুক্তদের সেবা দেন তিনি। বিনামূল্যে ফরম কেন দেয়া হচ্ছে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানায়, এত মানুষকে ফরম দেয়া সম্ভব নয়। প্রথমে যা দেয়ার তা দিয়েছি। এখন সামনের ফটোকপির দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। যার প্রয়োজন সেখান থেকে নিয়ে নেবেন। আরও প্রশ্ন থাকলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে পরামর্শ দেন তিনি। খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমান (চলতি দায়িত্ব) সময়ের খবরকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেট সংযোগে ধীরগতির ফলে ডাটা আপলোড করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। রয়েছে প্রধান কার্যালয়ে জনবল সংকট। তাই এনআইডি পেতে দেরি হচ্ছে। আবেদন জমার ৫/৬ মাস পর এনআইডি প্রদানের তারিখ দেয়া হলেও স্বল্প সময়ে তা বিতরণ হয় বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গত বছরে হালনাগাদকারীদের স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে বলে বলা হয়েছে, তবে জটিলতার কারনে এখানো দেয়া হয়নি। সংশোধনে সৃষ্ট জটিলতা সমাধানে উর্ধ্বতনদের সাথে আলাপের পরামর্শ দেন তিনি। কারণ অধস্তনরা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এমন ঘটনায় অবশ্যই আবেদনকালে ড্রাইভিং লাইসেন্স/পাসপোর্ট/জন্ম নিবন্ধন/এফিডেভিটের সত্যায়িত ফটোকটি সংযুক্ত করতে হবে। কর্মকর্তা মুজিবুর আরও জানান, প্রধান কার্যালয়ে ফরম চাইলে চাহিদানুযায়ী পাওয়া যায় না। তাই বিনামূল্যে ফরম বিতরণ সর্বদা সম্ভব নয়। তবে ফটোকপির দোকানে বিক্রি হয় বলে তিনি শুনেছেন। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে আরও দেখা যায়, ২৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তপন পাল গত বছর ১৮ মার্চ ভোটার হালনাগাদকালে অত্র কার্যালয়ে এসে ছবি তোলেন। নির্দিষ্ট ফি ব্যাংকে জমা দেন। তার ভোটার এলাকা নং-০২৬০, ফরম নং-৩০৯৯৭৩৯৪। আক্ষেপ করেন ৫/৬ মাস পর পাওয়ার কথা থাকলেও অদ্যবধি এনআইডি পাননি তিনি। বয়োবৃদ্ধা তার নাতী মোঃ সাইফুল্লাহকে নিয়ে অফিসে ঘুরপাক খেতে দেখা গেল। এক পর্যায়ে হাঁপিয়ে উঠে তিনি সিঁড়ির ওপর বসে রইলেন। নাতীর শিক্ষাবৃত্তির জন্য এনআইডি (ফরম নং-২৭৭২৪৯৯০, ভোটার এলাকা নং ০১৮৫) নিতে এসেছেন। ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস থেকে জেনেছেন তাদের এনআইডি চলে আসছে। তবে এখানে (১০১ নং রুম) এসে শোনেন আসেনি। তবে কবে আসবে তাও নিশ্চিত করছেননা সশ্লিষ্টরা। শুধু জুলাইতে খোঁজ নিতে বলেছেন। এছাড়া পুলিশ সদস্য আদম আলী বেপারী জানান, বয়স ভুলের কারণে এনআইডি সংশোধন করতে খালিশপুর থানা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ১১ জানুয়ারি আবেদন জমা দিয়েছেন। এনআইডি ছাড়া নতুন স্কেলে বেতন পাওয়া যাবে না। তাই ৩ ফেব্র“য়ারি ফের আসেন কিন্তু এপ্রিলের আগে পাওয়ার সুযোগ নেই শুনে নিরাশ হয়ে ফিরে যান তিনি।

খুলনায় অভিযুক্ত পুলিশের ...

আশরাফুল ইসলাম নূর
খুলনাতেও কতিপয় পুলিশ সদস্য নানাবিধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। অর্থের বিনিময়ে মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসীদের সহায়তা দেয়া, উৎকোচ, নিরাপরাধীদের আটকে পেন্ডিং মামলায় জড়ানো, মিথ্যা দোষারোপে স্বনামধন্য ব্যক্তিদের ফাঁসানোর চেষ্টা, সম্পত্তি জবর ...

বিস্তারিত...
close
খুলনায় অভিযুক্ত পুলিশের শাস্তি নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন : পেয়েছেন পদোন্নতি ও পদক
খুলনাতেও কতিপয় পুলিশ সদস্য নানাবিধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। অর্থের বিনিময়ে মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসীদের সহায়তা দেয়া, উৎকোচ, নিরাপরাধীদের আটকে পেন্ডিং মামলায় জড়ানো, মিথ্যা দোষারোপে স্বনামধন্য ব্যক্তিদের ফাঁসানোর চেষ্টা, সম্পত্তি জবর দখলসহ খুলনায় পুলিশের বিরুদ্ধে রয়েছে নানান সব অভিযোগ। সব অভিযোগ গণমাধ্যমের সামনে আসেনি। হয়রানির ভয়ে নিরবে সহ্য করেন ভুক্তভোগীরা। তবে আলোচিত অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, সাময়িক বরখাস্ত বা ক্লোজড কিংবা মামলা হলেও সেসব অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় না। নিষ্পত্তি হলেও খুলনায় কোন কর্মকর্তা অভিযুক্ত শাস্তি পেয়েছেন এমন তথ্য জানা যায়নি। উল্টো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে খুলনাতে। সারাদেশের আলোচিত ইস্যু পুলিশী নির্যাতনের ঘটনায় খুলনায় অভিযুক্ত পুলিশের শাস্তি হয় কি না, প্রশ্ন রয়েছে জনমনে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মহানগরীর দৌলতপুরে কলেজ ছাত্র ইমরান হোসেনকে (১৭) নির্যাতনের ঘটনায় কার্তিককুল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ আব্দুল হামিদকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। গত ৫ জানুয়ারি রাতে খুলনার খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইমরান হোসেনকে কার্তিককুল পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে ৭ পুলিশ সদস্য নির্যাতন করে। দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে বলে জানান কেএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোঃ আব্দুল্লাহ আরেফ। গত বছর ২৯ জানুয়ারি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শেখ জয়নুদ্দীনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা (যার নং-৩৪) দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উপ-পরিচালক আবদুস ছাত্তার সরকার। এজাহারে উল্লেখ করা হয় শেখ জয়নুদ্দীন, পিতা মৃত শেখ এমান আলী, খরিয়াটি, আশাশুনি, জেলা সাতক্ষীরা-একজন সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা। কিন্তু তিনি ব্যবসায়ী পরিচয়ে এসএম নূরুল্লাহ, পিতা-মোঃ জালাল উদ্দিন শেখ নাম ধারণ করে এসিই ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস লিমিটেড নামের ব্রোকারেজ হাউজে বিও একাউন্ট খোলেন। যা প্রতারণা সামিল এবং দণ্ডবিধির ৪১৯ ও ৪২০ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমীর তৈমুর ইলি, এএসআই মোঃ ইব্রাহিম ও মোঃ ফিরোজের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগে মহানগর হাকিমের আদালতে মামলা (নম্বর-১৭/২০১৫) দায়ের করেন ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম। খুলনা মহানগর হাকিম আবির পারভেজ জেলা প্রশাসনের অধীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত করে গেল বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটা থানা এলাকার ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম আরজি’তে বলেন, পুলিশ সদস্যরা তাকে ডেকে থানায় নিয়ে যান। এরপর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নিরূপায় হয়ে গত বছরের ২৭ আগস্ট তিনি ৫০ হাজার টাকা দেন। গত বছরের ৫ জুলাই মহানগরীর শিরোমনি এলাকায় জনতার উপর হামলার ঘটনায় ৯ জুলাই খুলনার ৩য় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) অধিনায়ক হারুন অর রশীদ, পরিদর্শক সাবদার হোসেন ও আজিজ, সুবেদার মুজিবুর রহমান ও সিরাজ, এস আই মতিয়ার রহমান, হাবিলদার (ক্লার্ক) মিন্টু ও মোস্তাফিজ, হাবিলদার নুর আহম্মদ, আরপি হাবিলদার জাহাঙ্গীর, নায়েক রিপন, কনস্টেবল মিজানুর রহমান মিজান, সিপাহী মেহেদী, হযরত ও মাসুদ রানাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে জবর দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার ও হামলার অভিযোগে মহানগর হাকিম আদালত ‘ঘ’ অঞ্চলে মামলা করেন স্থানীয় জাব্দীপুর এলাকার জনৈক মোঃ শাকিল আহম্মেদ। মোড়ল আজিজুর রহমান নামে জনৈক ব্যক্তি মহানগরীর শিরোমনি এলাকায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) একটি বাণিজ্যিক প্লট ক্রয় ও দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। আবার, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল খুলনা সদর থানায় ছাত্রদলের দুই কর্মীকে ঝুলিয়ে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগে তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান, সিপাই আবু সুফিয়ান ও মামুন আখতার এবং গাড়িচালক সুধাংশুকে ২৩ এপ্রিল প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে কেএমপি। সে সময়ে পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-কমিশনার মোঃ হায়দার আলীকে ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে ৭দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন কেএমপি কমিশনার। তদন্তে কি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল তা জানা যায়নি, তবে পদোন্নতি পেয়ে এসএম কামরুজ্জামান এখন কেএমপি’র (খালিশপুর জোন) সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে, ২০১২ সালে মহানগরীর মুজগুন্নি আবাসিক এলাকার কাজের মেয়ে জীবিত সীমার হত্যা নাটক সাজিয়ে খালিশপুর থানার এস আই শিল্পপতি মাসুদ হাসান ও তার স্ত্রী ফাতিমা ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। মোটা অংকের উৎকোচ দাবি করে একাধিকবার রিমান্ডের নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। একপর্যায়ে জীবিত সীমা হাজির হয় আদালতে। পরে এস আই শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন শিল্পপতি মাসুদ হাসান। বর্তমানে বরখাস্ত এস আই শাহ আলমের বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক মামলা তদন্ত চলছে। তবে উপরোক্ত সব ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) মুখপাত্র শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী এড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, সব অপরাধীরই দণ্ডনীয় শাস্তি প্রাপ্য। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ প্রবণতা কমবে। সেক্ষেত্রে আইনের রক্ষকরা আইনভঙ্গ করলে তাদের শাস্তি দিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, ফলে জনগনের সেবা দেয়াই তাদের দায়িত্ব। সেখানে ব্যর্তয় ঘটলে রাষ্ট্রের ও সমগ্র পুলিশ বাহিনীর সম্মান রক্ষার্থে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।

দু’সংস্থার টানাটানিতে চালু ...

সোহাগ দেওয়ান
বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লি¬উটিসি’র অবহেলার কারনে খুলনা থেকে ঢাকা রুটে রকেট স্টীমার সার্ভিস চালু হচ্ছে না। ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা নিয়ে দু’টি সংস্থার পরস্পর বিরোধী ও দায়সারা বক্তব্যের মাঝে আটকে আছে শত ...

বিস্তারিত...
close
দু’সংস্থার টানাটানিতে চালু হচ্ছে না খুলনা-ঢাকা রকেট সার্ভিস
বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লি¬উটিসি’র অবহেলার কারনে খুলনা থেকে ঢাকা রুটে রকেট স্টীমার সার্ভিস চালু হচ্ছে না। ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা নিয়ে দু’টি সংস্থার পরস্পর বিরোধী ও দায়সারা বক্তব্যের মাঝে আটকে আছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রকেট সার্ভিস। ঢাকা-খুলনা রুটের রকেট সার্ভিস বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত লোকসান গুণতে হচ্ছে বিআইডব্লি¬উটিসি কর্তৃপক্ষকে। ঢাকা-মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত রকেট সার্ভিস চালুতে গত ৩ মাসে কোটি টাকার বেশি লোকসান গুণেছে এ কর্তৃপক্ষ। খুলনা রুটকে বাদ দিতে ষড়যন্ত্র চলছে বিআইডব্লিউটিসি’র অভ্যন্তরে। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখন লুটপাট হচ্ছে সংস্থার বিভিন্ন সম্পত্তি ও নৌযান। এদিকে গত ২০১৪ সালের ২৯ মার্চ বিআইডব্লি¬উটিসি’র নতুন দু’টি স্টীমার এমভি বাঙালি ও এমভি মধুমতি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে ঢাকা-খুলনা রুটের রকেট চলাচল দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঘোষণার পর এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে একটি আশার সঞ্চার হলেও এখনো পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়নি। বিআইডব্লি¬উটিসি’র একটি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সংস্থার কিছু উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা শুরু থেকেই খুলনায় আঞ্চলিক কার্যালয় থাকা বরিশালকে আঞ্চলিক কার্যালয় ঘোষণা করে চিঠি ইস্যু করেন। যা এখনো পর্যন্ত সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হয়নি। এরপর সংস্থার সে সকল কর্মকর্তারা খুলনা অঞ্চলের দিক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই মুখ ফিরিয়ে নিতে থাকেন। রকেট চলাচলের জন্য নৌরুটের খোঁজ খবর না রাখা, ধীরে ধীরে খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের লোকবল কমিয়ে আনা, বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার করা থেকে বিরত থাকা, নৌযানগুলোকে ব্যক্তি বিশেষের কাছে হস্তান্তর করা, কর্তৃপক্ষের জমি বিক্রিসহ মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনায় অনিহা প্রকাশ ইত্যাদি। বর্তমানে রকেট সার্ভিসে স্টীমার রয়েছে, অস্ট্রিস, মাসুদ, লেপচা, টার্ন, শীলা, মধুমতি ও বাঙালি। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী গাজী স্টীমারটি ১৯৯৮ সালে ডকইয়ার্ডে মেরামতকালে অগ্নিকান্ডে নষ্ট হয়। সূত্রটি আরও জানায় ২০১১ সালের ২ অক্টোবর ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা অজুহাতে ঢাকা-খুলনা রকেট সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিকল্প রুট হিসেবে মংলার জয়মনির ঘোল বগি হয়ে খুলনা-ঢাকা রকেট সার্ভিসের স্টীমার চলাচলের জন্য আলোচনা শুরু হয়। রকেট সার্ভিস চলাচলের জন্য নাব্যতাসহ সকল ধরনের সুবিধা থাকলেও সে সুযোগকেও ধামাচাপা দেওয়া হয়। একটি বারের জন্যও ঢাকা-খুলনা রুটের রকেট সার্ভিস সে রুটে ব্যবহার বা বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া বিআইডব্লিউটিসি’র বিভিন্ন নৌযান ব্যক্তি বিশেষের কাছে বরাদ্দ দিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত রকেট সার্ভিসটি চালু রয়েছে। বিআইডব্লি¬উটিসি’র খুলনা অফিস সূত্র থেকে জানা গেছে, সাড়ে ৩শ’ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য থেকে কমতে কমতে এখন মাত্র ৬০ জনের মতো এখানে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৪টি ঘাট পল্টন ছাড়া বিআইডব্লি¬উটিসি’র সচল কোন নৌযান এখানে নেই। বিভিন্ন স্থাপনা জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্থার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা দায়সারা বক্তব্য দিচ্ছেন। এছাড়া একজন অন্য আরেকজনের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশ নৌ-পরিবহন ও পরিচালনা বিভাগ (বিআইডবি¬উটিএ)-এর উপ-পরিচালক মোঃ আশরাফ হোসেন সময়ের খবরকে জানান, গত ২০১৫ সালের নভেম্বরে বিআইডব্লিউটিসি একটি পত্রে জানিয়েছিল খুলনা-ঢাকা রুটের রকেট চলাচল শুরু হবে। এজন্য খুলনাস্থ স্টীমার ঘাট ও পল্টনসহ সব কিছু প্রস্তুত রাখার কথাও বলেছিল। আমরাও তাদের চাহিদা মতো সব কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত আর কোন খোঁজ খবর তারা নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন, ঘষিয়াখালী চ্যানেলের বর্তমান গভীরতায় ১২/১৩ ফিট ড্রাফ্ট নিয়ে বিভিন্ন নৌযান পণ্য আনা নেওয়ার করছেন। আর অন্য দিকে রকেট সার্ভিসের যে সমস্ত স্টীমার রয়েছে তাতে মাত্র ৬/৭ উর্ধ্বে গেলে ৮ ফিট ড্রাফ্ট থাকে। নাব্যতার দোহাই দিয়ে ঢাকা-খুলনা রুটের রকেট সার্ভিস চালু করা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। বিআইডব্লি¬উটিসি’র বাণিজ্য যাত্রী ও ফেরী বিভাগের (জিএম) এন.এস.এম শাহাদাৎ আলী বলেন, ঘষিয়াখালী রুটে ঢাকা-খুলনা রকেট সার্ভিস চলাচলের মতো গভীরতা রয়েছে কিন্তু বিআইডব্লি¬উটিএ কর্তৃপক্ষ একপত্রে কিছুদিন আগে আমাদের জানিয়েছে জোয়ার ভাটির সাথে মিল রেখে চ্যানেলটি ব্যবহার করতে হবে। এ কারনে সার্ভিসটি চালু হতে গিয়েও হয়নি। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি পর্যবেক্ষণ দল ঘষিয়াখালী চ্যানেল পরিদর্শন করবেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া রকেট সার্ভিস ও বিআইডব্লি¬উটিসি’র আরো কিছু প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি । এ বিষয়ে বাগেরহাট-৩ আসন (মংলা-রামপাল) সংসদ সদস্য তালুকদার আবদুল খালেক সময়ের খবর প্রতিবেদককে জানান, ঢাকা-খুলনা রুটে রকেট সার্ভিস চালুর জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। ঘষিয়াখালী চ্যানেলে আর অল্প একটু কাজ বাকী রয়েছে যা শিগগিরই শেষ হবে। এরপর অবশ্যই এ রুটে আবারও ঐতিহ্যবাহী রকেট চলাচল চালু হবে বলে জানান এ প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত ...

সুমন আহমেদ
খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে দালাল চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। সেই সাথে কর্তাদের বিরুদ্ধে চক্রের সাথে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে গেলে উৎকোচের নানা পথ দেখান তারা। অন্যথায় শুরু ...

বিস্তারিত...
close
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত : দালাল-কর্তা সিন্ডিকেটের কবলে খুলনা পাসপোর্ট অফিস
খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে দালাল চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। সেই সাথে কর্তাদের বিরুদ্ধে চক্রের সাথে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে গেলে উৎকোচের নানা পথ দেখান তারা। অন্যথায় শুরু হয় হয়রানী। সব মিলিয়ে পাসপোর্ট কার্যালয় ঘিরে গড়ে উঠেছে ঘুষ বাণিজ্যের এক বিশাল সিন্ডিকেট। এদের দৌরাত্মে সাধারণরা সেবা নিতে হরহামেশাই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। ভোগান্তিতে পড়ে উৎকোচ দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সরেজমিনে গত ১৮ জানুয়ারী পাসপোর্ট অফিসের বিতরণ শাখায় লম্বা লাইন, বিতরণকারীদের কাজে ধীরগতি, আনসার সদস্য, এমএলএসএস ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরকে আগতদের সাথে দেন-দরবার করতে দেখা যায়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থী জানান, জরুরী ফি ব্যাংক ড্রাফট্ করে ১৩ জানুয়ারি বুধবার ফরম জমা দিলে উচ্চমান সহকারী নুরুল হুদা ছবি তুলতে ১৮ জানুয়ারি আসতে বলেন। ধার্য্যকৃত দিনে আসলে তিনি ফরম খুঁজে পাচ্ছে না, হাতের কাজ শেষ করে দেখছিসহ নানা অজুহাতে ঘুরপাক খাওয়াচ্ছেন। সকাল সাড়ে ১০টা হতে পৌনে ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছি, এখনও তাদের হাত কাজ শেষ হয়নি বলে আক্ষেপ করেন তিনি। আরও জানা গেলে, নাহিদ আক্তার খান নামের এক শিক্ষার্থী ১৭ জানুয়ারি ফরম জমা দিলে স্টুডেন্ট আইডি ও সংযুক্ত সত্যায়িত কপির মূলটি নিয়ে আসতে বলেন। এখন তিনি এই সত্যায়িত চলবে নাসহ নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। এছাড়া ভোগান্তি দিতে জন্ম নিবন্ধনের মূল কপি হারিয়ে ফেলে বলছেন, ফরমের সাথে দেয়া হয়নি। নাহিদ জানান, খুলনা জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মোঃ আল-মামুন এ সকল কাগজ সত্যায়িত করেন। টাকা ছাড়া কাজ করাতে গিয়েই এমন ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া সেবা প্রত্যাশী সেজে আনসার সদস্য হান্নানের কাছে তথ্য জানতে চাইলে, নিজ মোবাইল নম্বর দিয়ে ০১৭২৯৮২৬৫৪১ বলেন, একদিনে ছবি তোলায় খরচ-খরচার ঝামেলা আছে। অতিরিক্ত এক হাজার টাকা দিলে হবে এমন প্রশ্নে জানান, এক হাজার টাকাতো অফিসাররেই দেয়া লাগবে। আমার কিছু থাকবে না। দেড় হাজার টাকা নিয়ে আসেন। অন্যরা ২/৩ হাজার টাকার নিচে দিনের দিনে ছবি তুলে দেবেন না বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, প্রভাবশালী একটি দালাল চক্রটির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পাসপোর্ট অফিস। সেই সাথে অফিসের দায়িত্বরতরা সেবা প্রদানের বিপরীতে অতিরিক্ত ২/৩ হাজার টাকা আদায় করছেন। আবার কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এখন দালালের কাজ করছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন গ্রাহককে জরুরী ভিত্তিতে ৭ দিন (সর্বোচ্চ ১৫ দিন) পাসপোর্ট করতে হলে ৬ হাজার টাকা এবং সাধারণ ভিত্তিতে (সর্বোচ্চ ১ মাস) পাসপোর্ট করতে ৩ হাজার টাকার সাথে ১৫% ভ্যাটসহ ব্যাংক ড্রাফট করতে হয়। তবে দালাল চক্রের সাথে যোগাযোগ না করে ফরম জমা বা ছবি তোলার লাইনে দাঁড়ালে বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি পত্রিকার সংবাদকর্মী পাসপোর্ট কার্যালয়ে সেবা নিতে গেলে, দায়িত্বরত আনসার সদস্য মাহাবুব অতিরিক্ত ২ হাজার টাকায় অতি দ্রুত পাসপোর্ট পাইয়ে দেয়ার প্রস্তাবনা দেন। অন্যথায় পাসপোর্ট পেতে গেলে দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলে জানান তিনি। গত রবিবার সরেজমিনে ফের পরিদর্শনে গেলে, প্রশাসন শাখায় দায়িত্বরত কর্তা উজ্জ্বল শিকদারের সাথে এক পরিচিত ব্যক্তির কথোপকথন লক্ষ্য করা যায়। শোনা যায়, উজ্জ্বল পাসপোর্ট প্রতি ১ হাজার টাকা করে এক হজ্ব এজেন্সীর ৪০টি পাসপোর্ট করাবেন। সম্প্রতি তার মধ্যে ৭টি পাসপোর্ট ছবি তোলা হয়। কথা ছিল অতিরিক্ত টাকা উভয়ের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হবে। তবে উজ্জ্বল পুরাটাই হজম করে নেয়ায় তাদের সম্পর্কে তিক্ততা দেখা গেল। এছাড়া ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিমিলের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সেবা নিতে আসলে বিতরণ শাখায় কর্মরত এমএলএসএস শিহাব উদ্দিন অতিরিক্ত ১৫শ’ টাকার বিনিময়ে দ্রুত পাসপোর্ট করে দেয়ার কথা বলেছেন। একাধিক ভুক্তভোগী জানান, বর্তমানে দালাল ছাড়া কোন পাসপোর্ট করতে গেলে ফরম পূরণ ভুল, এটা নেই, ওটা নেই, সকল কাগজের মূল কপি দেখাতে হবে এমন নানা অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়। তথ্য চাইলে, দায়িত্বরতরা জানায়, ১০ দিনে সাড়ে ৯ হাজার ও ৩০ দিনে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় সহজে পাসপোর্ট করিয়ে দেয়া যাবে বলে জানান। খুলনা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, বিগত দিনের মত এখন দালালদের উপদ্রব নেই। কর্মরতরাই দালালের কাজ করছেন এমন অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি তার। সেবা প্রত্যাশীদের অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত পাসপোর্ট করিয়ে দেয়ার প্রস্তাবনার অভিযোগ ভুক্তভোগীরা লিখিতভাবে দিলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। জনভোগান্তী লাঘবে আগামীতে আরও সেবামুখী কার্যক্রম হাতে নেয়া বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত রবিবার সহকারী পরিচালকের দপ্তরে থাকাকালীন সময়ে (৩টা ৩০ মিনিট) এক বায়োবৃদ্ধ অভিযোগ করেন, পর পর দু’দিন আসলেও নানা অজুহাতে তার ফরম জমা নেয়া হয়নি। একই সময়ে ডুমুরিয়ার রংপুর গ্রামের ঝর্ণা সরকার অভিযোগ দেন, লস্ট সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তা বার বার ফিরিয়ে দেয়ায় তিনি সর্বশেষ এডি’র কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। প্রসঙ্গতঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাসপোর্ট নিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন বলে ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট সরকার প্রতিশ্র“তি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাংবাদিকদের জানান হুইপ মোঃ শহীদুজ্জামান সরকার। কিন্তু সরকার প্রধানের সেই নির্দেশনা যেন খুলনা পাসপোর্ট অফিসের কেউ মানতেই চাইছে না।

সীমান্তের জেলা-স্থানীয় বাজার ...

সুমন আহমেদ
খুলনায় লবণের বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও কাঁচামাল সংকটে উৎপাদনে গতি হারিয়ে দক্ষিণের লবণ মিলগুলো অচল হতে বসেছে। আবার বাজারের চাহিদানুযায়ী সরবরাহ করতে না পারায় স্থানীয় বাজারে লবণের ...

বিস্তারিত...
close
সীমান্তের জেলা-স্থানীয় বাজার অবৈধ ভারতীয় লবণের দখলে
খুলনায় লবণের বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও কাঁচামাল সংকটে উৎপাদনে গতি হারিয়ে দক্ষিণের লবণ মিলগুলো অচল হতে বসেছে। আবার বাজারের চাহিদানুযায়ী সরবরাহ করতে না পারায় স্থানীয় বাজারে লবণের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। এ সুযোগে চোরাইপথে আসা ভারতের লবণ সীমান্তের জেলাসহ স্থানীয় বাজার দখল করে নিয়েছে। সংকট সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন মিল মালিকরা। সূত্রমতে, মূলত চৈত্র মাসকে লবণ উৎপাদন মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত বছর এ মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়। ফলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার ৩ লাখ টন ঘাটতি হয়েছে বলে বিসিকের জরিপে উল্লেখ করা হয়। দেশের বাজারে লবণের ঘাটতি পূরণে বিসিক এবং শিল্প মন্ত্রণালয় মিল মালিকদের মাধ্যমে ৩ লাখ টন লবণ আমদানির সুপারিশ করে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানির অনুমতি দেয় ১ লাখ টন লবণের। এদিকে চলতি মৌসুমে পরপর দু’বার বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় কিছুটা নিম্নমুখী ও ২ লাখ টন ঘাটতি থাকায় বাজারে হু-হু করে বেড়েছে লবণের দাম। ২৮০/২৯০ টাকা মণ প্রতি বিক্রয়ের লবণ বর্তমানে ৬০০ টাকা এবং ১২/১৩ টাকা কেজি আয়োডিনযুক্ত সাধারণ প্যাকেট লবণ বর্তমানে ২০/২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাও চাহিদা মত বাজারের পাচ্ছে না পাইকারেরা। অপর দিকে বর্তমানে কক্সবাজার, টেকনাফে অপরিশোধিত লবণ প্রকারভেদে ৪২০/৪৫০ টাকা দরে মণ বিক্রি হচ্ছে। যা গত উৎপাদন বছরে ১৩০/১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। খুলনার মিল মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার, চশরিয়া ও বাঁশখালী থেকে কাঁচা লবণের আমদানি কম থাকায় উৎপাদনে গতি নেই। ফলে মিলগুলো ঠিকমত চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বেকার হয়ে পড়ছে মিল শ্রমিকরা। প্রত্যেক্ষ-পরোক্ষভাবে মিল প্রতি গড়ে ১শ’ শ্রমিক এবং ক্ষেত্র বিশেষ ৫শ’ শ্রমিক কর্মরত আছে। যাদের দিন প্রতি মজুরী ৭শ’ টাকা। মূলত মিলে ৪/৫ দিনের অপরিশোধিত লবণ মজুদ না থাকার কারণেই লবণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর ২১৫/২২০ টাকা মণ দরে ক্রয় করা লবণ বর্তমানে ৪৮০/৪৯০ টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে। তাও চাহিদা মোতাবেক পাওয়া যাচ্ছে না। আরও জানা যায়, অপরিশোধিত ১ মণ লবণ উৎপাদনে শতকরা ৩০ ভাগ ঘাটতি দেখা দেয়। অর্থাৎ এক মণ লবণ পরিশোধন করলে ২৮ কেজি পাওয়া যায়। ফলে খুচরা বাজারে সাধারণ আয়ের মানুষেরা আয়োডিনযুক্ত খোলা লবণ পূর্বের ৯/১০ টাকার বদলে বর্তমানে ২০/২২ টাকায় ক্রয় করছেন। এর ওপর বর্তমান লবণ উৎপাদন মৌসুমে আবার বৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। সঙ্গত কারণে মিল মালিক ও লবণ ব্যবসায়ীদের পক্ষ হতে সরকারের প্রতি জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মধুমতি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব আকতার হোসেন ফিরোজ বলেন, উৎপাদন মৌসুমে বৈরী আবহাওয়া ও কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন থমকে যাওয়ায় মিলগুলো অচল হতে বসেছে। শ্রমিকরা বেকার হচ্ছে। এ মৌসুমে বৃষ্টি হলে লবণ সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। তাই সংকট সমাধানে সরকারের প্রতি জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। পদ্ম সল্ট ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, গত বছরের তুলনায় ৩ গুণ মূল্যে অপরিশোধিত লবণ কিনতে হয়েছে। যা পরিশোধন করলে শতকরা ৮৫ ভাগ ফিনিশ গুডস্ পাওয়া যেত। এখন ৬০ ভাগ মিলছে। ভারতের লবণ সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো দখল করেছে। তাই সরকারের লবণ আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত। খুলনা লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও পূরবী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল পোদ্দার জানান, বৈরী আবহাওয়ায় চলতি মৌসুমে উৎপাদন ঘাটতির সাথে গত বছরের ঘাটতি মিলিয়ে চরম কাঁচামাল সংকট দেখা দিয়েছে। এতে একদিকে মিলগুলো উৎপাদন গতি হারিয়েছে, অন্যদিকে চাহিদানুযায়ী বাজারে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশের শিল্পখাতে কয়েকগুণ লবণের চাহিদা বেড়েছে। দেশের লবণ শিল্প তথা মিলগুলো সচল রাখতে অচিরেই লবণ আমদানি উন্মুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ল্যাব আছে সরঞ্জাম ...

নিপা মোনালিসা
খুলনা মহানগরীতে নারী শিক্ষার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট। বিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি টয়লেটই নোংরা, মল-মূত্র ও দুর্গন্ধে প্রবেশের অযোগ্য। ...

বিস্তারিত...
close
ল্যাব আছে সরঞ্জাম তালাবদ্ধ!
খুলনা মহানগরীতে নারী শিক্ষার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট। বিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি টয়লেটই নোংরা, মল-মূত্র ও দুর্গন্ধে প্রবেশের অযোগ্য। সময় মত থাকে না পানি। তবে একাডেমিক শিক্ষার্থীদের প্রায় বাধ্য হয়েই ব্যবহার করতে হয় এসব রোগ জীবাণু বহনকারী টয়লেট। দু’টি ল্যাবরেটরি থাকলেও এখনো ক্লাস করার সুযোগ হয়নি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীদের। প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ক্লাসের সরঞ্জামগুলোও থাকে সর্বদা তালাবদ্ধ। আইসিটি রুমের কম্পিউটারগুলোও ব্যবহারের অযোগ্য। এমনটিই অভিযোগ উক্ত স্কুলে অধ্যায়নরত ছাত্রীদের। এছাড়া নিয়মিত ক্লাস না হওয়া বা ক্লাসে শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবের অভিযোগতো রয়েছেই। তবে বরাবরের মতই এসব অভিযোগ প্রধান শিক্ষক অস্বীকার করে জানিয়েছেন এগুলো অপপ্রচার। সরেজমিন প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে ছয়টি ভবনের একটিতে হলরুম বা মিলনায়তন, একটি ছাত্রী নিবাস ও একটি প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। অবশিষ্ট তিনটি ভবনে শ্রেণীকক্ষ। প্রতিটি ভবনেই রয়েছে টয়লেটের ব্যবস্থা। অথচ এসব টয়লেটগুলোর পরিবেশ এতটাই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর যে সেখানে প্রবেশেরই অযোগ্য। সর্বদাই মল-মূত্র, দুর্গন্ধসহ কাদা পানিতে সয়লাব থাকে। যা সর্বদাই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বহন করে চলেছে। এছাড়া সময়মত পানিও থাকে না সেখানে। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ের টয়লেট ব্যবহার করে না। তবে একাডেমিক লেভেলের ছাত্রীরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই এবং না বুঝেই ব্যবহার করছে এই নোংরা পরিবেশের টয়লেটগুলো। অবশ্য অনেকেই আবার বিদ্যালয়ের আয়াদের পরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার করে থাকে। ভবনগুলোর বিভিন্ন স্থানে বেসিন ও পানির কল দেওয়া থাকলেও বেশ কয়েকটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বিদ্যালয়টির অধিকাংশ শ্রেণীকক্ষের জানালার কাঁচ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা। একাডেমিক ভবন-১ এর ৩য় তলার ৩০২ নং রুমে রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ল্যাবরেটরি। অথচ এ রুমে দেখা মেলেনি তেমন কোন ব্যবহারিক ক্লাসের সরঞ্জাম। যা আছে তাও আলমারিতে। রুমটি অধিকাংশ সময়ই থাকে তালাবদ্ধ। রুমে ঢুকলেই চোখে পড়ে বেশ কিছু পুরোনো ভাঙাচোরা চেয়ার ও বাক্স। দেখলেই মনে হবে যেন কোন স্টোর রুম এটা। বিদ্যালয়ের নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীরা জানায়, তারা এ রুমে কখনো ব্যবহারিক ক্লাস হতে দেখেনি। নিজেরাও কখনও ক্লাস করার সুযোগ পায়নি। বিদ্যালয়ের আইসিটি রুমের অবস্থাও যেমন তেমন। সেখানে ২০/২৫টি কম্পিউটার রয়েছে বলে জানায় ছাত্রীরা। অথচ এর মধ্যে শুধুমাত্র শিক্ষকদের ব্যবহৃত একটি কম্পিউটারই চালু আছে। অবশিষ্টগুলো ব্যবহারের অযোগ্য। এর মধ্যে কোনটা লক করে রাখা হয়েছে আবার কোনটা চালুই হয় না। শ্রেণীকক্ষের অধিকাংশ বেঞ্চগুলোও ঘুণে ধরা। উঁচুনিচু এসব বেঞ্চে বসে লিখতে কষ্ট হয় তাদের। এছাড়া রুমগুলোর পরিসর ছোট হওয়ায় একই রুমে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্লাস করতেও কষ্ট হয়। বিজ্ঞান বিভাগের বিষয় ভিত্তিক ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রির তেমন ক্লাস হয় না বলেও অভিযোগ করেন দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীরা। বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ কক্ষই ধুলা-বালি ও ময়লা আবর্জনায় ভর্তি। কোন শ্রেণী কক্ষেই নেই ময়লা ফেলার পাত্র। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় প্রতিদিনই বেঞ্চের ওপর জমে থাকে ধুলাবালি। ক্লাসে ঢুকেই নিজের বসার স্থানটি পরিস্কার করে নিতে হয় ছাত্রীদের। আর বেঞ্চের নীচে পড়ে থাকা বিভিন্ন ময়লা আর্বজনা মাঝে মধ্যে তারা নিজেরাই পরিস্কার করে থাকে। এছাড়া বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষকদের কাছে না পড়লে পরীক্ষায় মার্ক কম দেওয়া, ক্লাসে শিক্ষকরা আন্তরিক না হওয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। তাদের দাবি, এ বিষয়ে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার নিকট অভিযোগ দিলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্থ করেই তার দায়িত্ব শেষ করেন। বিদ্যালয়ের মিলনায়তন ভবনটিরও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায়। বিদ্যালয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণীর ছাত্রীরা জানায়, টয়লেটগুলো প্রায় সব সময়ই নোংরা থাকে। আমরা কখনও এসব টয়লেট ব্যবহার করতে পারিনা। অনেকে বলেন একবার গিয়ে ওই অবস্থা দেখার পর থেকে আর কখনও যাইনি। মাঝে মধ্যে খুবই সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের। বিষয়গুলো কয়েকবার জানানো হয়েছে ম্যাডামকে। ম্যাডাম ব্যবস্থা নিবেন বলেছিলেন। কিন্তু তারপরও সেই একই অবস্থা রয়ে গেছে। দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ক ও খ শাখার ছাত্রীদের অভিযোগ, স্কুলে নিয়মিত ক্লাস হয় না। বিশেষ করে ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রি বিষয়ের ক্লাস তো হয়-ই না। আর আমরা কখনও ল্যাবরেটরিতে ব্যবহারিক ক্লাস করার সুযোগ পায়নি। রুমটা সব সময় তালা দেওয়া থাকে। তাছাড়া এ রুমে কখনও ঢুকিনি আমরা। স্যাররাও আমাদের ব্যবহারিক ক্লাস নেন না। কম্পিউটার রুমে যেয়েও কাজ করতে পারি না। শিক্ষকদের কম্পিউটারটা বাদে আর একটাও চালু হয় না। কয়েকটা আবার লক করা থাকে। এছাড়া শিক্ষকদের বাইরে ব্যাচ বা প্রাইভেট পড়ানো এবং না পড়লে পরীক্ষায় মার্ক কম দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন কিছু ছাত্রী। ক্লাসেও তেমন আন্তরিকতার সাথে পড়ান না শিক্ষকরা এ অভিযোগটিও রয়েছে বরাবরের মত। তারা বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অভিভাবকরা স্কুলে এসে ম্যাডামকে বিষয়গুলো জানিয়েছেন। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন ফল হয়নি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আরজুমান জানান, এ প্রতিষ্ঠানে দুই শিফট মিলে প্রায় ২৭শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। এত শিক্ষার্থী এক সাথে নিয়ে চলা কষ্টকর। তবুও নিয়মনীতিগুলো সর্বদাই মেনে চলা হয়। সরকারি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লিনারের পদ নেই। তবুও বিদ্যালয়ের নিজ উদ্যোগেই আমরা দু’জন ক্লিনার রেখেছি। তারা নিয়মিত টয়লেট পরিষ্কার করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীদের ক্লাসেই সব বোঝানো হয়, তাই ল্যাবরেটরিতে নেওয়া হয় না। আর বর্তমানে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমেই ক্লাস নেওয়া হয় বলে আলাদা করে আইসিটি রুমে ক্লাস করার প্রয়োজন হয় না। আর দু’টি কম্পিউটার বাদে প্রায় সবগুলোই ভাল আছে। যারা চালাতে বোঝে না তারাই এ ধরনের অভিযোগ করে। তবে ছাত্রীদের জন্য এগুলো পর্যাপ্ত নয় বলে তিনি স্বীকার করেন। বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় দাবি করে তিনি বলেন, যারা নিয়মিত ক্লাস করে না তারাই এ ধরনের অভিযোগ করে ।

নতুন বইয়ের কাগজ ...

নিপা মোনালিসা
সারাদেশের মতো গত শুক্রবার খুলনাতেও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পালিত হল জাতীয় পাঠ্যপুস্তক উৎসব। সকালে বিনামূল্যে বই পাওয়ার আনন্দ সন্ধ্যায় পড়তে বসেই ম্লান হল শিক্ষার্থীদের। এবারের বইয়ের কাগজ নিম্নমানেরসহ পাতায় পাতায় ...

বিস্তারিত...
close
নতুন বইয়ের কাগজ ছাপানোর মান নিয়ে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের
সারাদেশের মতো গত শুক্রবার খুলনাতেও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পালিত হল জাতীয় পাঠ্যপুস্তক উৎসব। সকালে বিনামূল্যে বই পাওয়ার আনন্দ সন্ধ্যায় পড়তে বসেই ম্লান হল শিক্ষার্থীদের। এবারের বইয়ের কাগজ নিম্নমানেরসহ পাতায় পাতায় ভাজের সারি ও ছাপানোর মান নিয়ে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা। এই ধরনের বই নিয়ে ছোট ছোট বাচ্চারা একটি বছর কিভাবে পড়াশুনা করবে তাই নিয়ে সংশয় রয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সব বই হাতে না পাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণীর বইয়ের কাগজের মান একেবারেই নিম্নমানের। প্রাথমিকের বইয়ের মলাট সুন্দর দেখালেও ভেতরের পাতা খুবই নিম্নমানের কাগজের। পাতায় পাতায় ভাজের সারি। বিভিন্ন ছবিতে রং ছড়ানো-ছিটানো। বই ছাপানোর মানও উন্নত নয়। বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণীর আমার বাংলা বই ও প্রাথমিক বিজ্ঞান বই দু’টি এক পৃষ্ঠার ছাপানো ছবি অন্য পৃষ্ঠায় ছড়ানো। ফলে ওই পৃষ্ঠার লেখাগুলো আর ভালোভাবে পড়া যাচ্ছে না। ছবির রঙ ছড়িয়ে ছাপা লেখাই মুছে যাওয়ার উপক্রম। প্রতিটি বইয়ের মলাট ও বাইন্ডিং ভাল হলেও ছাপানোর মান অনুন্নত। অর্থাৎ কাগজ ও ছাপার মানের সঙ্গে সুদৃশ্য মলাট খুবই বেমানান। আর মাধ্যমিক শ্রেণীর বইয়ের মলাট ও কাগজের মান খুবই নিম্নমানের বলে অভিভাবকদের অভিযোগ রয়েছে। অভিভাবকদের মতে, এবারের বইয়ের কাগজ ও ছাপার মান এতই নিম্নমানের, যা নিউজপ্রিন্টকেও হার মানায়। এরকম বই দিয়ে ছোট ছোট বাচ্চারা কীভাবে এক বছর পড়াশোনা করবে এটা নিয়েই ভাবছেন তারা। মাধ্যমিকে বইয়ের সংকট না থাকলেও বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সেট ধরে এখনও বই পায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া কাছারি বাড়ি আর আর জি টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্র জানায়, সে স্কুল থেকে ইসলাম শিক্ষা বই বাদে অন্যান্য বইগুলো পেয়েছে। নবম শ্রেণীর আরেক ছাত্র কম্পিউটারের বইটি পায়নি। একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রী জানায়, সে এখনো গণিতের বইটি পায়নি। তবে এবারের বইগুলো তার কাছে পছন্দ হয়নি বলেও জানায় সে। এসব শিক্ষার্থীদের স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বই আছে দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরেশ্বর বৈরাগী জানান, প্রথম দিন কাজের চাপ বেশি থাকায় একটু এলোমেলা হয়ে গেছে। যারা দুই একটা বই পায়নি তাদেরকে পরে বই নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নতুন বইয়ের মান সম্পর্কে তিনি বলেন, সব বই এখনো দেখা হয়নি। তবে ক্লাস সেভেনে ক্লাস নিতে যেয়ে ইংরেজী ১ম পত্র বইটি দেখেছি। বইয়ের কাগজ এবং ছাপার মান খুবই নিম্নমানের বলে মনে হয়েছে। নগরীর কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সাথে কথা বলেও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক টি এম জাকির হোসেন বলেন, খুলনাতে বইয়ের গুণগতমান সম্পর্কে এখনও কোন অভিযোগ শোনা যায়নি। তবে অন্যান্য স্থানে এ সম্পর্কে অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। অভিযোগ সত্য হলে প্রকাশনার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি। ইতোমধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে এনসিটিবি একটি কমিটি গঠন করেছে বলেও জানান তিনি। সরেজমিনে বিভিন্ন জেলায় পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের প্রাথমিক, ইবতেদায়ী ও মাধ্যমিকের প্রায় ৩৫ কোটি বই ছাপানোর জন্য ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। অবশ্য পরে টেন্ডারের মাধ্যমে ৯৪ কোটি টাকা কমিয়ে ১৯৮ কোটি টাকায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে এ কাজ দেয়া হয়। এ নিয়ে প্রথমে জোরালো আপত্তি তুলেছিল দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক। পাঠ্যবইয়ের মান উন্নত করার জন্য কিছু শর্তও নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু টেন্ডারের নিয়ম অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর খরচ বাড়ানোর সুযোগ না থাকায়, তা কার্যকর হয়নি। তাই ছাপানো বইয়ের মান নিয়ে পূর্বেও প্রশ্ন উঠেছিল।

মামলা দু’টি চাঞ্চল্যকর ...

বিশেষ প্রতিনিধি
খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, জন্মভূমি সম্পাদক হুমায়ুন কবির বালু এবং দৈনিক সংবাদ’র ব্যুরো প্রধান মানিক সাহা হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা দু’টি চাঞ্চল্যকর হিসেবে চিহ্নিত হলেও সাড়ে ৪ মাসে কোন অগ্রগতি ...

বিস্তারিত...
close
মামলা দু’টি চাঞ্চল্যকর হিসেবে চিহ্নিতের সাড়ে ৪ মাসেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই
খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, জন্মভূমি সম্পাদক হুমায়ুন কবির বালু এবং দৈনিক সংবাদ’র ব্যুরো প্রধান মানিক সাহা হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা দু’টি চাঞ্চল্যকর হিসেবে চিহ্নিত হলেও সাড়ে ৪ মাসে কোন অগ্রগতি হয়নি। ফলে মন্থর গতিতে চলছে তদন্ত। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষের দিকে জেলা চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলা মনিটরিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় সর্বোচ্চ গুরুত্বে মামলা দু’টি অধিকতর তদন্ত ও দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লি¬ষ্টদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। উল্লে¬খ্য, ২০০৪ সালের ২৭ জুন জন্মভূমি কার্যালয়ের সামনে সম্পাদক বালু এবং একই বছরের ১৫ জানুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবের অদূরে মানিক সাহা নিহত হন। সদ্যগঠিত খুলনা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট ইউনিটি এ দু’সাংবাদিক হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে আন্দোলন করছে। এর প্রেক্ষিতে জুলাই মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত মামলা মনিটরিং কমিটির সভায় এ দু’টি হত্যাকান্ড চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলা হিসেবে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রমতে, হুমায়ুন কবির বালু আততায়ীদের বোমা হামলায় নিহতের ঘটনায় পুলিশ পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করে। ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্র“য়ারি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম শিকদার সাংবাদিক বালু হত্যা মামলার রায়ে সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। এরপর ২০০৯ সালের ১৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী এড. এনামুল হক বিস্ফোরক মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান। সে প্রেক্ষিতে একই বছরের ১০ মে মামলাটি অধিকতর তদন্তে সিআইডিতে পাঠাতে নির্দেশ দেন আদালত। এ মামলায় ৭ জন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন সিআইডি’র সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আগামি বছরের প্রথমদিকেই প্রতিবেদন দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, মানিক সাহা হত্যাকান্ডের পর খুলনা থানার তৎকালীন এস আই রণজিৎ কুমার পাল বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দু’টি মামলা করেন। দুই মামলার তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। পরে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিলে আরো একজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে মহানগর দায়রা জজ আদালত-১ এ বিচারাধীন। এ সম্পর্কে সরকারি কৌঁসুলি কাজী আবু শাহীন বলেন, ‘মামলার গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচার কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। স্বাক্ষীদেরকে হাজির করার চেষ্টা করা হচ্ছে। খুলনা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট ইউনিটের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, এ মামলা দু’টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও এ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে সাক্ষাত করা হবে। হত্যার মদদদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। খুলনা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, শুধু ওই দু’টি মামলা নয়, বেশ কয়েকটি মামলা চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হিসেবে উল্লে¬খ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। শিশু রাকিব হত্যা মামলাটির মতই এসব মামলার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক। খুব শিগগিরই দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অচল চিকিৎসা সরঞ্জামের ...

সোহাগ দেওয়ান
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামের অধিকাংশই ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। গত মাসেই দুইশ’টির বেশি চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট ও ৩৫টি মেশিন বাতিল হয়েছে। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে এখন অধিকাংশ চিকিৎসা ...

বিস্তারিত...
close
অচল চিকিৎসা সরঞ্জামের স্তূপে পরিণত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামের অধিকাংশই ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। গত মাসেই দুইশ’টির বেশি চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট ও ৩৫টি মেশিন বাতিল হয়েছে। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে এখন অধিকাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম অচল। অসহায় গরীব মানুষ কম-খরচে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ডায়াগনস্টিকে যাচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের অধিকাংশ লাইট-ফ্যান নষ্ট হওয়ায় অসহায় ও মানবেতর অবস্থায় রোগীদের থাকতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পরে ওয়ার্ডগুলোতে ১টি বা দু’টি লাইট ছাড়া আর সবগুলো অকেজো। ফ্যানগুলোরও একই অবস্থা। বাথরুম ও গোসলখানাগুলোতে জ্বলে না কোন আলো। অন্ধকারের মধ্যেই রোগীরা তা ব্যবহার করে আসছেন। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, প্রয়োজনীয় মালামালের জন্য ধর্ণা দিতে হয় গণপূর্ত বিভাগে। দফায় দফায় তাদেরকে সমস্যার কথা মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হলেও তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায় না। হাসপাতালটিকে অবহেলার চোখে দেখা হয়। এখানে আগত রোগী ও দর্শনার্থীদের সমস্ত অসুবিধা ও অভিযোগের সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। কিন্তু একটি লাইট-ফ্যান বা কোথাও সামান্য রং করানো দরকার হলেও গণপূর্ত বিভাগের কাছে ধর্না ধরতে হয়। এ বিষয়ে একটি সুরহা হওয়ার দরকার বলেও মনে করেন তিনি। হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোট ৬টি এক্সরে মেশিনের দীর্ঘদিন ধরে ৪টিই নষ্ট। যার মধ্যে ২টি মেরামত করা সম্ভব ও বাকি দু’টি মেরামত অযোগ্য। ৬টি আলট্রাসোনো মেশিনের মধ্যে ২টি মেরামত অযোগ্য, মহিলাদের ব্রেস্ট এক্সরে জন্য ১টি মাত্র মেমোগ্রাফী মেশিন মাসের পর মাস নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ১টি সিটি স্ক্যান মেশিন ১৩০ কেভি স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে তা মাত্র ৮০ কেভিতে এসে পৌঁছেছে। শুরু থেকে এ মেশিনে মানবদেহের বহু প্রকারের পরীক্ষা করা হতো। বর্তমানে শুধু মাথার স্ক্যান ছাড়া আর কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত সার্ভিসিং’র ব্যবস্থা করা না হলে এটিও অকেজো হয়ে পড়বে। এছাড়া হাসপাতালে এমআরআই ও ডিআর মেশিন জরুরী কিন্তু বিদ্যমান যন্ত্রপাতি মেরামতের উদ্যোগ নেই, নতুন করে আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়ার আশা আকাশ চুম্বি বলে মনে করেন রেডিওলজি বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ আলতাফ হোসেন। হাসপাতাল সূত্র আরো জানায়, নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে অন্যতম আইসিইউ বিভাগের পেসেন্ট মনিটর ৯টি, অটো বেড ৬টি, ভেন্টিলেটর ২টি, ওটি এ্যানেস্থেসিয়া মেশিন ৪টি, পোর্টেবল লাইট ৪টি, সাকার মেশিন ৬টি, ইসিজি মেশিন ৩টি, হাইড্রোলিক টেবিল ৪টি, নেবুলাইজার মেশিন ৩টি, অটো ক্লেভ ১১টি, জেনারেটর ৩টি, ইকোকার্ডিওগ্রাম ১টি, এক্সরে মেশিন ৪টি ও আল্ট্রাসোনো ২টি। এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আনন্দ মোহন সাহা সময়ের খবরকে বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম অধিকাংশ নষ্ট হয়ে আছে। বিধান মতে আমরা ৩০ হাজার টাকার উপরে কোন মালামাল ক্রয় করতে পারিনা। এ সকল সরঞ্জামের মূল্যে লাখ লাখ টাকা, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই। সাধারণ রোগীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি হাসপাতালও আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের একটি বাল্ব দরকার হলে গণপূর্ত বিভাগের কাছে ধর্না দিতে হয়। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের লাইট-ফ্যান অকেজো, বাথরুম গোসলখানার পানির লাইনসহ অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে আছে। এবিষয়গুলো গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের অবগত করা হলেও মাসের পর মাস কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া হাসপাতালে বর্তমানে এমআরআই ও ডিআর মেশিন জরুরীভাবে দরকার বলেও জানান তিনি।